Ultraviolette X47 Crossovers-এর ব্যাটারি, রাডার ও চার্জিং, কোন ভ্যারিয়েন্টে কী? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Ultraviolette X47 Crossovers-এর ব্যাটারি, রাডার ও চার্জিং, কোন ভ্যারিয়েন্টে কী?

Spread the love

ভারতের বৈদ্যুতিক দু’চাকার বাজারে প্রযুক্তিনির্ভর মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে আল্ট্রাভায়োলেট এক্স৪৭ (Ultraviolette X47) ক্রসওভার। সংস্থার দাবি, শহরের রাস্তায় দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভূখণ্ডে চালানোর…

ভারতের বৈদ্যুতিক দু’চাকার বাজারে প্রযুক্তিনির্ভর মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে আল্ট্রাভায়োলেট এক্স৪৭ (Ultraviolette X47) ক্রসওভার। সংস্থার দাবি, শহরের রাস্তায় দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভূখণ্ডে চালানোর কথা মাথায় রেখেই এই উচ্চক্ষমতার ইলেকট্রিক স্ট্রিট ক্রসওভার তৈরি করা হয়েছে।

এক্স৪৭ ক্রসওভারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল ইউভি হাইপারসেন্স রাডার প্রযুক্তি। এর পাশাপাশি রয়েছে একাধিক কানেক্টেড ফিচার এবং রাইডার সেফটির জন্য বেশ কিছু প্রযুক্তি। তবে সব ভ্যারিয়েন্টে একই ফিচার নেই। ব্যাটারি, চার্জিং ব্যবস্থা, কানেক্টিভিটি এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

ব্যাটারি ও রেঞ্জ

আল্ট্রাভায়োলেট এক্স৪৭ ক্রসওভার মোট দুটি ব্যাটারি প্যাকের সঙ্গে পাওয়া যায়। নিচের তিনটি ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ৭.১ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি প্যাক। এই ব্যাটারির ক্ষেত্রে সংস্থার দাবি করা আইডিসি রেঞ্জ ২১২ কিলোমিটার। উপরের তিনটি ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ১০.৩ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি প্যাক। এই সংস্করণগুলিতে সংস্থার দাবি করা আইডিসি রেঞ্জ ৩২৩ কিলোমিটার। মোটরের ক্ষেত্রেও ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী পার্থক্য রয়েছে। নিচের তিনটি ভ্যারিয়েন্টে ২৭ কিলোওয়াট মোটর, আর উপরের তিনটি ভ্যারিয়েন্টে ৩০ কিলোওয়াট মোটর ব্যবহার করা হয়েছে।

চার্জ হতে কত সময় লাগে?

এক্স৪৭ ক্রসওভারে ব্যাটারির ক্ষমতার পাশাপাশি চার্জিং ব্যবস্থাতেও ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী পার্থক্য রয়েছে।

ultraviolette-x47-crossover-battery-radar-charging-features-variants

হার্ডওয়্যার শুধুমাত্র অরিজিনাল প্লাস, রিকন প্লাস এবং ডেজার্ট উইং ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে।

২০০ মিটার পর্যন্ত নজরদারি করবে রাডার

এক্স৪৭ ক্রসওভারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা প্রযুক্তি হল ইউভি হাইপারসেন্স রাডার প্রযুক্তি। এই রাডার ব্যবস্থা সামনে-পিছনে মোট ২০০ মিটার দূরত্ব পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এর ১৫০ ডিগ্রি অনুভূমিক এবং ৬৮ ডিগ্রি উল্লম্ব নজরদারি ক্ষেত্র রয়েছে। এই প্রযুক্তি চারটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ফিচার পরিচালনা করে। এগুলি হল:

  • রিয়ার কলিশন ওয়ার্নিং
  • লেন চেঞ্জ অ্যাসিস্ট
  • ওভারটেক অ্যালার্ট
  • ব্লাইন্ডস্পট মনিটরিং

তবে বেস এক্স৪৭ বাদে অন্য সব ভ্যারিয়েন্টে এই রাডার প্রযুক্তি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে পাওয়া যায়।

এবিএস ও অন্যান্য সেফটি ফিচার

সব ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে ডুয়াল-চ্যানেল সুইচেবল এবিএস। রাস্তার পাশাপাশি অফ-রোড পরিস্থিতিতেও ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ডায়নামিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল, পার্ক অ্যাসিস্ট এবং হিল-হোল্ড। তবে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং ডায়নামিক রিজেনারেশনের ক্ষেত্রে ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী পার্থক্য রয়েছে। বেস মডেলগুলিতে রয়েছে সাধারণ অন-অফ ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং ৩-স্তরের ডায়নামিক রিজেনারেশন। অন্যদিকে অরিজিনাল প্লাস এবং রিকন ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ৪-স্তরের ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং ১০-স্তরের ডায়নামিক রিজেনারেশন। ফলে রাইডার নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিস্টেমের আচরণ আরও সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

কানেক্টিভিটি ও টিএফটি ডিসপ্লে

এক্স৪৭ ক্রসওভারের আরেকটি বড় দিক হল এর কানেক্টেড প্রযুক্তি। নিচের ভ্যারিয়েন্টগুলিতে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্জার এবং স্ট্যান্ডার্ড কানেক্টিভিটি, যেখানে ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ রয়েছে। অরিজিনাল প্লাস এবং রিকন প্লাস ভ্যারিয়েন্টে আপগ্রেড করা হয়েছে কানেক্টিভিটি ব্যবস্থা। এই মডেলগুলিতে রয়েছে টাইপ-২ কম্প্যাটিবল অন-বোর্ড চার্জার এবং প্রিমিয়াম কানেক্টিভিটি, যেখানে এলটিই এবং ব্লুটুথ রয়েছে। এর ফলে সংস্থার কানেক্টেড ইউভি অ্যাপের মাধ্যমে আরও বেশি ফিচার ব্যবহার করা যায়। সব ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে ৫ ইঞ্চির টিএফটি ডিসপ্লে। এছাড়া অরিজিনাল প্লাস ভ্যারিয়েন্ট থেকে ফাইন্ড মাই এক্স-৪৭ ফিচার পাওয়া যায়।

ড্যাশক্যামও রয়েছে

এক্স৪৭ ক্রসওভারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ফিচার হল ড্যাশক্যাম মডিউল। এতে সামনে এবং পিছনের ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এই ড্যাশক্যাম সাধারণত অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে নেওয়া যায়। তবে বিশেষ এক্স৪৭ ডেজার্ট উইং সংস্করণে এটি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

আল্ট্রাভায়োলেট এক্স৪৭ ক্রসওভারের দাম

ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী এক্স৪৭ ক্রসওভারের দাম যথেষ্ট পরিবর্তিত হয়েছে।

ultraviolette-x47-crossover-battery-radar-charging-features-variants

কোন ভ্যারিয়েন্টে কী বেশি?

আল্ট্রাভায়োলেট এক্স৪৭ ক্রসওভারকে একটি নির্দিষ্ট কনফিগারেশনের মডেল হিসেবে না দেখে একটি সম্পূর্ণ ভ্যারিয়েন্ট রেঞ্জ হিসেবে দেখাই বেশি যুক্তিযুক্ত। কারণ ব্যাটারি, মোটর, চার্জিং ব্যবস্থা, কানেক্টিভিটি এবং নিরাপত্তা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভ্যারিয়েন্টগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

একদিকে ৭.১ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি ও ২৭ কিলোওয়াট মোটর-সহ তুলনামূলক কম দামের সংস্করণ রয়েছে। অন্যদিকে ১০.৩ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি, ৩০ কিলোওয়াট মোটর, উন্নত চার্জিং এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি-সহ উচ্চতর ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইউভি হাইপারসেন্স রাডার, উন্নত ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, বেশি স্তরের ডায়নামিক রিজেনারেশন এবং প্রিমিয়াম কানেক্টিভিটির মতো ফিচার পেতে হলে ক্রেতাকে উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টের দিকে যেতে হবে।

ফলে এক্স৪৭ ক্রসওভারের ক্ষেত্রে শুধু সর্বোচ্চ রেঞ্জ বা সর্বনিম্ন দাম নয়, কোন ভ্যারিয়েন্টে কোন প্রযুক্তি পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও কেনার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *