Personal Loan: কত টাকা স্যালারি হলে পার্সোনাল লোন পাওয়া যায়, জানেন? | Personal loan what monthly salary do you need to get a personal loan know the eligibility criteria
নয়া দিল্লি: সবার পক্ষে অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হয় না। এদিকে বিপদ তো আর বলে-কয়ে আসে না। হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হলে, তখন একমাত্র ভরসা হয় ব্য়ক্তিগত ঋণ। তবে চাইলেই ব্যাঙ্ক ঋণ দেয় না। ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি ব্য়ক্তিগত ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা শর্ত রাখে, অনেক কিছু খতিয়ে দেখে। ব্যক্তিগত ঋণ পেতে গেলে কত টাকা আয় করতে হয়? এই নিয়ম সম্পর্কে অনেকেই জানেন না।
যখনই কোনও ব্যক্তি পার্সোনাল লোনের জন্য আবেদন করেন, তখন ব্যাঙ্ক ও এনবিএফসি একাধিক জিনিস খতিয়ে দেখে। এর মধ্য়ে রয়েছে- ক্রেডিট স্কোর, নির্দিষ্ট বয়সসীমা, ন্যূনতম আয়, চাকরির অবস্থা। আবেদনকারীর আয়ের হিসাব করে বিচার করে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা রয়েছে কি না। অর্থাৎ তিনি মাসে মাসে ইএমআই পরিশোধ করতে পারবেন কি না।
যেহেতু ব্যক্তিগত ঋণে কোনও বন্ধক বা গ্যারান্টি থাকে না, তাই ঋণ নিয়ে কেউ যদি পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে ব্যাঙ্কের কাছে কোনও কিছু বিক্রি করে সেই টাকা উদ্ধার করার উপায় থাকে না। সেই কারণেই বছরে কত আয়, তা ভালোভাবে যাচাই করে দেখে ব্যাঙ্ক।
ডেব টু ইনকাম রেশিও-
ব্যক্তিগত ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাঙ্ক প্রথমেই দেখে, ঋণগ্রহীতার মাসিক আয় কত এবং সেই আয়ের কতটা অংশ ইতিমধ্যেই পুরনো ঋণের কিস্তি মেটাতে চলে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক বোঝার চেষ্টা করে, নতুন ঋণের ইএমআই (EMI) সময়মতো পরিশোধ করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আবেদনকারীর রয়েছে কি না। এক্ষেত্রে ডেব টু ইনকাম (Debt-to-Income Ratio) গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, একজনের মাসিক আয়ের কত শতাংশ টাকা ঋণের ইএমআই মেটাতে খরচ হচ্ছে, সেটাই হল ডিটিআই রেশিও (DTI Ratio)।
যেমন, কোনও ব্যক্তির মাসিক আয় যদি ৫০,০০০ টাকা হয় এবং তিনি আগের ঋণের EMI বাবদ প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা দেন, সেক্ষেত্রে তাঁর আয়ের ২৫ শতাংশ ঋণ পরিশোধে চলে যায়। সাধারণত ৩৫ শতাংশ বা তার কম DTI Ratio থাকলে ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।
কিছু ব্যাঙ্ক ৪০-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত DTI Ratio থাকলেও ব্যক্তিগত ঋণ দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ক অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসেবে সহ-আবেদনকারী (Co-applicant) বা গ্যারান্টর চাইতে পারে। আবার ঋণের পরিমাণ কমানো অথবা ঋণ পরিশোধের সময়সীমা (Tenure) বাড়ানোর পরামর্শও দিতে পারে।
তাই ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু মাসিক বেতন বেশি হলেই হবে না, সেই বেতনের কতটা অংশ আগে থেকেই ঋণ পরিশোধে চলে যাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বেতন বেশি এবং ডিটিআই রেশিও (DTI Ratio) কম হলে তুলনামূলক বেশি টাকার ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, আয় কম হলে স্বাভাবিকভাবেই ঋণের পরিমাণও সীমিত হতে পারে।
ব্যক্তিগত ঋণ পেতে কত টাকার আয় হতে হয়?
একেক ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আলাদা হয়।
এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক- এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে এক্সপ্রেস পার্সোনাল লোন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম আয় ২৫ হাজার টাকা হতে হয়। এছাড়া ঋণের আবেদনকারী কোন ধরনের কোম্পানিতে চাকরি করেন, তাও উল্লেখ করতে হয়। যাদের নিজস্ব ব্যবসা, তাদের আয়ের ক্ষেত্রে ক্রাইটেরিয়া জানায়নি এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক।
অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক- এই ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির পার্সোনাল লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আয়ের সীমা আলাদা হয় আবেদনকারী অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের গ্রাহক কি না, তার উপরে। যদি অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের গ্রাহক হন, তবে ন্যূনতম আয়ের সীমা ১৫ হাজার টাকা। যদি অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের গ্রাহক না হন, তাহলে আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা হতে হবে। এই আয়ের সীমা বেতনভোগী চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের জন্য।
কোটাক ব্যাঙ্ক– কোটাক ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেও আবেদনকারী ওই ব্যাঙ্কের গ্রাহক কি না, তার উপরে নির্ভর করে। কোটাক ব্যাঙ্ক গ্রাহক হলে, তাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আয় ২৫ হাজার টাকা হতে হয়। যদি কোটাক ব্যাঙ্কের গ্রাহক না হন, তাদের ক্ষেত্রে মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা হতে হবে। আবার কোটাক ব্যাঙ্কের কর্মী হলে, তাদের ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা ন্যূনতম আয় হতে হবে পার্সোনাল লোনের আবেদনের জন্য।
স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া- স্টেট ব্যাঙ্ক ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখে যে আবেদনকারী সরকারি কর্মী কি না। সরকারি কর্মী, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের কর্মীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আয়ের সীমা হল ২০ হাজার টাকা। কর্পোরেট কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সীমা ২৫ হাজার টাকা।
শহর, শহরতলি ও গ্রামাঞ্চল ভেদে আয়ের সীমা আলাদা হয়।