Nepal Flash Flood: চিনের বন্যা-ধসে আটকে পড়েছিলেন, মৃত্য়ু-মুখ থেকে দেশে ফিরলেন মানসী
কথায় বলে, বিপদে পড়লে আপন মানুষগুলির কাছে ফিরে আসাটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি। সেই অনুভূতিই যেন নতুন করে উপলব্ধি করলেন অভিনেত্রী মানসী পারেখ। কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে চিন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ধসের মধ্যে আটকে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর অবশেষে নিরাপদে মুম্বই ফিরেছেন তিনি। বিমানবন্দরে স্বামী পার্থিব গোহিল এবং মেয়ে নির্ভির সঙ্গে দেখা হতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মানসী।
সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন মানসী। কিন্তু যাত্রার শেষদিকে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। চিনের তিব্বত অঞ্চলের নায়লাম এলাকায় বড়সড় ধস নামায় দীর্ঘক্ষণ বাসের মধ্যেই আটকে থাকতে হয় তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা তীর্থযাত্রীদের। এরপর নেপাল সীমান্তের কাছেও নতুন করে ধস নামে। সেই বিপজ্জনক পথ পেরিয়েই কোনওরকমে কাঠমান্ডু পৌঁছন তাঁরা।
বাড়ি ফিরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন মানসী। অভিনেত্রীর কথায়, গত তিন-চার দিন তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের। চিন থেকে বেরিয়ে নেপাল সীমান্তে পৌঁছনোটাকেই তাঁর কাছে মনে হয়েছে যেন যুদ্ধ জেতার মতো ঘটনা। নায়লাম শহরের কাছে বিশাল ধস নামার পর প্রায় চার ঘণ্টা বাসের মধ্যেই অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। রাস্তা পরিষ্কার হওয়ার পর ফের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু বিপদ তখনও কাটেনি।
নায়লাম থেকে দীর্ঘ পথ বাসে যাওয়ার পর নেপাল সীমান্তে পৌঁছন মানসী ও তাঁর দল। সেখানে আরও একটি ধসের কারণে রাস্তা আটকে ছিল। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁদের বাস থেকে নেমে ধসের জায়গা পায়ে হেঁটে পার হতে হয়। অন্য কোনও রাস্তা ছিল না বলেই এমন ঝুঁকি নিতে হয়েছিল তাঁদের। নেপাল সীমান্ত পার হওয়ার পরও স্বস্তি ফেরেনি। সেখান থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার জন্য ফের বাসে উঠতে হয় তাঁদের। প্রায় চার ঘণ্টার সেই পথকে জীবনের অন্যতম ভয়াবহ বাসযাত্রা বলে বর্ণনা করেছেন মানসী।
মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর মানসীর সঙ্গে তাঁর স্বামী তথা গায়ক পার্থিব গোহিল এবং মেয়ে নির্ভির দেখা হয়। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর পরিবারের সঙ্গে দেখা হতেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অভিনেত্রী। স্বামী ও মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন তিনি।