থাকবে না ডলারের চিহ্ন! কেন গুরুত্বপূর্ণ BRICS র এই সম্মেলন ?
নয়াদিল্লি: ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লিতে ব্রিকস (BRICS)শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে। এই সম্মেলনে দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে হাজির হতে পারে…
নয়াদিল্লি: ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লিতে ব্রিকস (BRICS)শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে। এই সম্মেলনে দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে হাজির হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। প্রস্তাবটি হল ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা বা সিবিডিসি-কে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা।
অর্থাৎ রুপি, রিয়াল, রুবল, ইউয়ানসহ অন্যান্য (BRICS)সদস্য দেশের অফিসিয়াল ডিজিটাল মুদ্রা দিয়ে সরাসরি লেনদেন করা যাবে। মাঝখানে ডলারের কোনো ধাপ থাকবে না, নিউ ইয়র্কের ক্লিয়ারিং হাউসের ওপর নির্ভর করতে হবে না।গতর্জারে ডলারের আধিপত্য অনেক দিন ধরেই বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের কেন্দ্রে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লেনদেন ডলারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে প্রতিবার মুদ্রা বদলানোর সময় অতিরিক্ত খরচ হয়, সময়ও নষ্ট হয়।
আরও দেখুনঃ দিল্লিতে ফের নির্ভয়া-কাণ্ডের ছায়া! চলন্ত বাসে ১৬ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ
পাক ‘হানি ট্র্যাপ’-এর নিশানায় অগ্নিবীররা! ভুয়ো প্রোফাইল দিয়ে সেনার তথ্য হাতানোর ছক
এই অতিরিক্ত খরচকে অনেকেই এক ধরনের ‘রেন্ট’ বলে মনে করেন, (BRICS)যা এমন এক মুদ্রাকে দেওয়া হয় যেটি আসলে চুক্তির অংশই নয়। ভারতের প্রস্তাব অনুযায়ী যদি ব্রিকস দেশগুলোর ডিজিটাল মুদ্রাগুলো পরস্পর যুক্ত হয়, তাহলে এই রেন্ট অনেকটাই কমে আসতে পারে। স্থানীয় মুদ্রায় সরাসরি মীমাংসা হলে বাণিজ্য আরও সহজ ও সস্তা হয়ে উঠবে।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বা আরবিআই জানুয়ারি মাসেই এই বিষয়টি এজেন্ডায় তোলার সুপারিশ করেছিল। ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রাগুলোকে আন্তঃসংযোগযোগ্য করে তোলার বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে এই প্রস্তাব গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্মেলনের আগে অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হবে।
ভারতের অবস্থান পরিষ্কার। দেশটি বলছে, (BRICS)এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং লেনদেনের খরচ কমানো এবং বাণিজ্য বাড়ানোর উপায়। ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এখনও অনেক ক্ষেত্রে তৃতীয় মুদ্রার ওপর নির্ভর করে। একটি বাণিজ্য জোট যদি নিজেদের মধ্যেও অন্য মুদ্রায় মীমাংসা করে, তাহলে তারা মূলত একজন গ্রাহকই থেকে যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত এখন সেই গ্রাহক হয়ে থাকার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যবসায়ীরা সহজেই স্থানীয় মুদ্রায় পেমেন্ট করতে পারবেন। পর্যটন খাতেও সুবিধা বাড়বে। প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অবশ্য রয়েছে। বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল মুদ্রার সিস্টেমকে একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া সহজ কাজ নয়।
ইন্টারঅপারেবিলিটি নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত মান, (BRICS)নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং সেটেলমেন্টের নিয়ম নিয়ে একমত হতে হবে। তবুও ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের সিবিডিসি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। ভারতের ই-রুপি, চিনের ডিজিটাল ইউয়ান, ব্রাজিলের ডিরেক্সের মতো প্রকল্পগুলো এগিয়ে চলেছে।