আদানির ২ প্রকল্পের জন্য ৮৩,৭০০ বর্গফুট বনভূমি কেটে সাফ মহারাষ্ট্রে
মুম্বই: মহারাষ্ট্রে আদানি গোষ্ঠীর দুটি পৃথক প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮৩,৭০০ বর্গফুট (Adani)বনভূমি ব্যবহারের অনুমোদন ঘিরে তৈরী হয়েছে বিতর্ক। ২০২৬ সালের আগস্টে রাজ্য বন দফতর দুটি…
মুম্বই: মহারাষ্ট্রে আদানি গোষ্ঠীর দুটি পৃথক প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮৩,৭০০ বর্গফুট (Adani)বনভূমি ব্যবহারের অনুমোদন ঘিরে তৈরী হয়েছে বিতর্ক। ২০২৬ সালের আগস্টে রাজ্য বন দফতর দুটি পৃথক সরকারি নির্দেশিকা জারি করে এই জমি প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট জমির পরিমাণ প্রায় ০.৭৮ হেক্টর।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ দেওয়া হয়েছে রায়গড় জেলার আলিবাগ (Adani)তালুকের শাহাপুর ও শাহাবাজ এলাকায় প্রস্তাবিত আদানি সিমেন্টেশন লিমিটেডের প্রকল্পের জন্য। বাকি জমি বরাদ্দ হয়েছে অমরাবতী জেলায় আদানি টোটাল গ্যাস লিমিটেডের প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক তৈরির কাজে। সরকারি নথি অনুযায়ী, আলিবাগের শাহাপুর ও শাহাবাজ গ্রামের প্রায় ৬৯,৯৩৩ বর্গফুট সংরক্ষিত বনভূমি এবং ম্যানগ্রোভ এলাকা আদানি সিমেন্টেশনের প্রস্তাবিত সিমেন্ট বাল্ক টার্মিনালের পরিকাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।
আরও দেখুনঃ সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে হেগ ট্রাইব্যুনালের রায়কে সরাসরি প্রত্যাখ্যান মোদী সরকারের
এই জমিতে জেটি, কনভেয়ার করিডোর এবং সংযোগকারী রাস্তা তৈরির (Adani)পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী এই এলাকায় ম্যানগ্রোভের উপস্থিতি থাকায় জমি ব্যবহারের অনুমোদনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ, ম্যানগ্রোভ শুধু উপকূলীয় পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় হিসেবেও কাজ করে। অন্যদিকে, অমরাবতী জেলায় প্রায় ১৩,৭৮৮ বর্গফুট সংরক্ষিত বনভূমি আদানি টোটাল গ্যাস লিমিটেডকে দেওয়ার অনুমোদন মিলেছে।
এই জমি মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস বণ্টনের জন্য মাটির নিচ দিয়ে পাইপলাইন বসানোর কাজে ব্যবহার করা হবে বলে সরকারি নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ দুটি প্রকল্পের উদ্দেশ্য আলাদা হলেও উভয় ক্ষেত্রেই বনভূমি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এই অনুমতি নিঃশর্ত নয়। বন দফতরের নির্দেশিকায় বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন দফতরের আধিকারিকদের অবাধ যাতায়াতের অধিকার বজায় রাখতে হবে।
প্রকল্পের কাজের কারণে বনকর্মীদের পরিদর্শন বা দায়িত্ব পালনে কোনও (Adani)ধরনের বাধা তৈরি করা যাবে না। সরকারি শর্ত লঙ্ঘিত হলে জমি ব্যবহারের অনুমোদন প্রত্যাহার করার ক্ষমতাও সরকারের হাতে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে প্রকল্প সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই নির্মাণ ও পরিকাঠামোগত কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সরকারি অনুমোদনের পরও পরিবেশগত প্রশ্নকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে আলিবাগের প্রকল্পের ক্ষেত্রে ম্যানগ্রোভ এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অংশ ব্যবহারের বিষয়টি পরিবেশকর্মীদের নজর কেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সংবেদনশীল উপকূলীয় অঞ্চলে নির্মাণকাজ হলে স্থানীয় পরিবেশব্যবস্থার ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। ম্যানগ্রোভ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে জলজ প্রাণী, পাখি এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপরও তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে ম্যানগ্রোভের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।