৮ মাসের বিরতি শেষ! এবার ইওএস-৫ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ISRO
নয়াদিল্লি: ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো আবার লঞ্চ প্যাডে ফিরছে(ISRO)। আট মাসের বিরতির পর আগামী ৪ সেপ্টেম্বর তারা ইওএস-৫ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উপগ্রহকে…
নয়াদিল্লি: ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো আবার লঞ্চ প্যাডে ফিরছে(ISRO)। আট মাসের বিরতির পর আগামী ৪ সেপ্টেম্বর তারা ইওএস-৫ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উপগ্রহকে ‘হকআই’ বা বাজপাখির চোখ বলা হচ্ছে। আগে এর নাম ছিল জিআইস্যাট-১এ। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতা থেকে এটি ভারতের অবিচ্ছিন্ন ছবি তুলবে।
দুইবার পর পর পিএসএলভি রকেটের ব্যর্থতার পর এই উৎক্ষেপণ ইসরোর (ISRO)জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।২০২৫ সালের মে মাসে পিএসএলভি-সি৬১ মিশন ব্যর্থ হয়। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পিএসএলভি-সি৬২-ও লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। এই দুই ব্যর্থতার পর ইসরোর উৎক্ষেপণ কার্যক্রম প্রায় থেমে গিয়েছিল। উপগ্রহগুলো শ্রীহরিকোটার মহাকাশ কেন্দ্রে অপেক্ষা করছিল।
আরও দেখুনঃ জ্বালানি নিরাপত্তা-বাণিজ্য নিয়ে আগামীকাল উজবেকিস্তানে মুখোমুখি মোদী-পুতিন
মোহন ভাগবতের ভাষণের সময় ভারতের তিরঙ্গা পায়ে বেঁধে বিক্ষোভ খালিস্তানিদের
এখন সরকারি অনুমোদন পেয়ে ইসরো (ISRO)আবার মাঠে নামছে। জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটে করে ইওএস-৫ পাঠানো হবে। এই রকেট পিএসএলভির সঙ্গে ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাই ঝুঁকি কম বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।ইওএস-৫ ভূ-স্থির কক্ষপথে থাকবে। সাধারণ পর্যবেক্ষণ উপগ্রহগুলো পৃথিবীকে ঘুরে ঘুরে ছবি তোলে।
কিন্তু এটি এক জায়গায় স্থির থেকে ভারতের মূল ভূখণ্ড ও আশপাশের এলাকার নিয়মিত ছবি পাঠাবে। প্রতি ৩০ মিনিটে পুরো ভারতের ছবি এবং প্রতি পাঁচ মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ছবি তুলতে পারবে। রেজোলিউশন প্রায় ৪২ মিটার। বহু-বর্ণালী ও হাইপার-স্পেকট্রাল ক্যামেরা থাকবে। মেঘমুক্ত আবহাওয়ায় কাছাকাছি সময়ে ছবি পাওয়া যাবে।এই ক্ষমতা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বড় কাজে লাগবে।
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, দাবানল বা ভূমিধসের মতো ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা যাবে। (ISRO)কৃষি, বনাঞ্চল ও আবহাওয়া পূর্বাভাসেও সহায়তা করবে। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব আছে। ২০২১ সালে জিআইস্যাট-১ বা ইওএস-০৩ উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হয়েছিল। পাঁচ বছর পর সেই সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতেই ইওএস-৫ পাঠানো হচ্ছে। এতে বেশ কিছু উন্নতি আনা হয়েছে।
ইসরোর (ISRO)চেয়ারম্যান ড. ভি. নারায়ণন জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই উৎক্ষেপণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাডে রকেট নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সফল হলে এটি ইসরোর জন্য নতুন গতির শুরু হবে। সংস্থাটি মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সাতটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গগনযান কর্মসূচির প্রথম মানববিহীন মিশন জি১।
গগনযান ভারতের মানব মহাকাশ যাত্রার স্বপ্ন। প্রথমে মানববিহীন পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হবে। তাতে ব্যোমমিত্র নামের রোবট থাকবে। পরে মানবসমেত মিশন। এই পথে এগোতে হলে নিয়মিত সফল উৎক্ষেপণ দরকার। ইওএস-৫ সেই পথের প্রথম ধাপ। এরপর আরও উপগ্রহ ও পরীক্ষামূলক মিশন আসবে।