ভারতের জন্য আরও ৫ স্কোয়াড্রন S-400, রাশিয়ার ৫০ হাজার কোটির প্রস্তাব
নয়াদিল্লি: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে রাশিয়া নতুন করে বড় প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পাঁচটি অতিরিক্ত S-400 ট্রায়াম্ফ লং-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স স্কোয়াড্রন কেনার…
নয়াদিল্লি: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে রাশিয়া নতুন করে বড় প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পাঁচটি অতিরিক্ত S-400 ট্রায়াম্ফ লং-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স স্কোয়াড্রন কেনার দরপত্রে রাশিয়া ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে এএনআই জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অপারেশন সিঁদুরের পর বড় সিদ্ধান্ত
২০২৬ সালের মার্চে অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত আরও পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার অনুমোদন দেয়। নতুন ইউনিটগুলি ভারতের পশ্চিম এবং পূর্ব, দুই সীমান্তেই স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারতের বিদ্যমান এস-৪০০ ব্যবস্থার জন্য ২৮০টিরও বেশি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রক্রিয়াও চলছে। এর ফলে বর্তমান এবং ভবিষ্যতে যুক্ত হতে চলা ইউনিটগুলির জন্য পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর মজুত রাখা সম্ভব হবে।
পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনের মধ্যে চারটি ইতিমধ্যেই এসেছে
ভারত ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে প্রথম পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার চুক্তি করেছিল। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই চারটি স্কোয়াড্রন ভারতে পৌঁছে গিয়েছে। পঞ্চম এবং শেষ স্কোয়াড্রনটি ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে ভারতে পৌঁছনোর কথা রয়েছে। নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে অতিরিক্ত এস-৪০০ ইউনিটের সরবরাহ শুরু হতে প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে। এগুলির মোতায়েন পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘপাল্লার প্রতিরক্ষা পরিধি আরও বাড়বে।
কীভাবে কাজ করে এস-৪০০?
এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ হল রাশিয়ার তৈরি একটি দীর্ঘপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম। যুদ্ধবিমান, কৌশলগত বিমান, ক্রুজ মিসাইলসহ বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের লক্ষ্য শনাক্ত, ট্র্যাক এবং ধ্বংস করার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় রয়েছে নজরদারি ও এনগেজমেন্ট রাডার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থা, লঞ্চার এবং বিভিন্ন পাল্লার ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। একটি নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রের উপর নির্ভর না করে বিভিন্ন পাল্লা ও উচ্চতায় থাকা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এস-৪০০-কে একটি স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের ক্ষমতা
এস-৪০০-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর দীর্ঘপাল্লার এনগেজমেন্ট ক্ষমতা। ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং লক্ষ্যবস্তুর ধরন অনুযায়ী সিস্টেমটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এর পাশাপাশি কম পাল্লার ইন্টারসেপ্টর মিসাইলও রয়েছে। ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা বা স্থাপনার চারপাশে একাধিক স্তরে প্রতিরক্ষা তৈরি করা সম্ভব হয়।
এস-৪০০ একই সময়ে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে এবং তার মধ্যে একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এনগেজমেন্ট পরিচালনা করতে সক্ষম। এই কারণে বিমানঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, কৌশলগত সামরিক স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষায় এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষায় আরও শক্তিশালী হবে দীর্ঘপাল্লার স্তর
ভারতের ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কে এস-৪০০ দীর্ঘপাল্লার প্রতিরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এর সঙ্গে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার বিভিন্ন মিসাইল সিস্টেমও কাজ করে। পশ্চিম এবং উত্তর সীমান্তে এস-৪০০ মোতায়েন থাকায় শত্রুপক্ষের বিমান বা অন্যান্য আকাশপথের হুমকি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছনোর আগেই শনাক্ত করার সুযোগ বাড়ে।
আর নতুন পাঁচটি স্কোয়াড্রন যুক্ত হলে ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম, দুই দিকেই অতিরিক্ত কভারেজ তৈরি হওয়ায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলির সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন