নেপালে মৃত বেড়ে ৬২৬! নিখোঁজ অন্তত ২৫০০, নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় কাঁপছে কাঠমান্ডু - 24 Ghanta Bangla News
Home

নেপালে মৃত বেড়ে ৬২৬! নিখোঁজ অন্তত ২৫০০, নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় কাঁপছে কাঠমান্ডু

Spread the love

কাঠমান্ডু: চিন সীমান্তে হিমবাহ ধস এবং তার জেরে সৃষ্ট বরফ-পাথরের প্রলয়ঙ্করী স্রোত কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে নেপালকে। বুধবার মধ্য নেপালের রাসুয়া-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যে ভয়াবহ…

কাঠমান্ডু: চিন সীমান্তে হিমবাহ ধস এবং তার জেরে সৃষ্ট বরফ-পাথরের প্রলয়ঙ্করী স্রোত কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে নেপালকে। বুধবার মধ্য নেপালের রাসুয়া-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যে ভয়াবহ হড়পা বান (Flash floods) আছড়ে পড়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে বন্যার ভ্রুকুটি দেখা দিয়েছে। নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই মহাপ্রলয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নিখোঁজের পরিসংখ্যান। তিব্বত ও নেপাল মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কোনও খোঁজ মিলছে না। রাস্তাঘাট, সেতু, জনপদ থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ এলাকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কার্যত জলের তোড়ে তাসের ঘরের মতো ভেসে গিয়েছে সবকিছু।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবারের তুলনায় নিখোঁজের সংখ্যা এক ধাক্কায় হাজারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চিনা সংবাদসংস্থা সিনহুয়া (Xinhua)-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মোট ২,৪৭৮ জন নিখোঁজ। এর মধ্যে নেপালে ১,৯২৪ জন এবং তিব্বতে ৫৫৪ জনের কোনও খোঁজ নেই।

নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থা জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি পর্যটক এবং ভিন দেশি কর্মী রয়েছেন। পাশাপাশি চিনের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্তের ওপারেও ২৬০ জন বিদেশির খোঁজ মিলছে না। নেপাল পর্যটন পর্ষদ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মাত্র ১২১ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিব্বতেও নতুন করে ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

উদ্ধারকাজে প্রকৃতির বাধা ও নতুন বিপদ

রাস্তাঘাট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় চিনা উদ্ধারকারী দল শুক্রবার গিয়ে পৌঁছয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জিরং (Gyirong) সীমান্তে। ২১ জনের একটি দল এবং স্নিফার ডগ নিয়ে দড়ি বেঁধে জঙ্গল ও খাড়া পাহাড় পেরিয়ে সেখানে পৌঁছন তাঁরা। কিন্তু শুক্রবার নতুন করে বিপত্তি দেখা দেয়।

বন্যার ফলে জমা জল একটি বিশাল হ্রদের আকার নিয়েছিল, যা উপচে পড়ে লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে মিশতে শুরু করে। জলস্তর বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আতঙ্ক তৈরি হয়। তড়িঘড়ি সাধারণ মানুষ ও উদ্ধারকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। সতর্কতা হিসেবে প্রায় তিন ঘণ্টা উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়। জলস্তর কিছুটা কমার পর ফের তল্লাশি শুরু হলেও, আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতি পদে পদে বাধা তৈরি করছে।

উপগ্রহ চিত্রে অশনি সংকেত

নেপাল প্রশাসন বর্তমানে নদীর উজানে তৈরি হওয়া দু’টি ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা অবরুদ্ধ হ্রদের দিকে কড়া নজর রাখছে। আধিকারিকদের মতে, এই হ্রদগুলির জল পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, দ্বিতীয় হ্রদটি ক্রমাগত আকারে বড় হচ্ছে, অথচ জল বেরনোর কোনও পথ নেই। চিনা বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, এই অঞ্চলের একাধিক হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ আগামী দিনে আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। সব মিলিয়ে, কবে এই মৃত্যুমিছিল ও ধ্বংসলীলা থামবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে নেপালবাসীর।

মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?

জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *