রাষ্ট্রসংঘের নিকোবর প্রকল্প স্থগিতের আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করল মোদী সরকার - 24 Ghanta Bangla News
Home

রাষ্ট্রসংঘের নিকোবর প্রকল্প স্থগিতের আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করল মোদী সরকার

Spread the love

নয়াদিল্লি: নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মোদী সরকারের নয়া প্রকল্প স্থগিত করার আহ্বান (Nicobar project)জানিয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ। দ্বীপের বিরল উপজাতিরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে এই অজুহাত দেখিয়ে প্রকল্প বন্ধ করতে বলে…

নয়াদিল্লি: নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মোদী সরকারের নয়া প্রকল্প স্থগিত করার আহ্বান (Nicobar project)জানিয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ। দ্বীপের বিরল উপজাতিরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে এই অজুহাত দেখিয়ে প্রকল্প বন্ধ করতে বলে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। সম্প্রতি সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের এই আহ্বানে সারা দেয়নি ভারত সরকার এবং তারা বলেছে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হবে না।

রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি (Nicobar project) সম্প্রতি তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, দ্বীপের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন সমীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পগুলো স্থগিত রাখা উচিত। কমিটি পরিবেশ, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত অধ্যয়নের সুপারিশ করেছে। কিন্তু ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিকভাবে প্ররোচিত’ ও ‘অত্যন্ত দুর্ভাবনাপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা হবে না।

আরও দেখুনঃ প্রেসিডেন্সিতে আফতাবের সেলে মোবাইল, রাউটার, নগদ! জেলে বসেই পাক যোগ?

আর্থিক সংকট-ঋণের বোঝা ? ৩ বছরের শিশুকে ফেলে উত্তাল গোদাবরীতে ঝাঁপ দম্পতির

রাজনৈতিক জট কাটিয়ে ডবল ইঞ্জিনে ভর করে অশোকনগরে শুরু হল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন

গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে আন্তর্জাতিক কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, টাউনশিপ ও পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৭২ হাজার থেকে ৯২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। সরকার এটিকে কৌশলগত ও জাতীয় স্বার্থের প্রকল্প হিসেবে দেখছে। মালাক্কা প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এটি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি শক্তিশালী করবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নসহ বিভিন্ন সমীক্ষা (Nicobar project)সম্পন্ন হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘ কমিটির উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে দ্বীপের আদিবাসী জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শম্পেন উপজাতি। শম্পেনরা বিশেষভাবে সংরক্ষিত উপজাতি গোষ্ঠী এবং তাদের একটি বড় অংশ স্বেচ্ছায় বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করে। কমিটির মতে, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।

নিকোবারি সম্প্রদায়ের জমি ও জীবনযাত্রাও প্রভাবিত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (Nicobar project)কমিটি বলেছে, আদিবাসীদের মুক্ত, পূর্ব ও অবহিত সম্মতি ছাড়া এ ধরনের প্রকল্প এগোানো উচিত নয়।ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিবেদনে যেসব মন্তব্য করা হয়েছে সেগুলোকে তারা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে কমিটির সামনে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

সরকারের দাবি, প্রকল্প পরিকল্পনায় আদিবাসীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে এবং কোনো সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করা হবে না। শম্পেন নীতি ও অন্যান্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা মেনেই কাজ এগোবে বলে জানানো হয়েছে।পরিবেশবিদ ও কিছু বিশেষজ্ঞ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের সমালোচনা করে আসছেন। তাঁদের যুক্তি, দ্বীপের ঘন বনাঞ্চল, প্রবাল প্রাচীর ও জীববৈচিত্র্যের ওপর স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

বনাঞ্চল কেটে উন্নয়ন হলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। (Nicobar project)অন্যদিকে সরকার বলছে, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে প্রকল্প অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘের সুপারিশকে কেউ কেউ আদিবাসী (Nicobar project)অধিকার রক্ষার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে বলছেন, এ ধরনের মন্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা কোনো বাইরের চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না এবং প্রকল্পের কাজ অব্যাহত থাকবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *