Swapan Dasgupta: ‘আমাদের সবথেকে প্রয়োজন একটা বড় বিনিয়োগ’, বাংলার অর্থনীতি নিয়ে কী বললেন স্বপন দাশগুপ্ত? | TV9 Bangla Conclave: Finance Minister Swapan Dasgupta Reveals Roadmap to Revive West Bengal Economy Amid Rs 8 Lakh Crore Debt
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির হাল কী? বিগত সরকারের আমলে কত ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে বিজেপির সরকারকে? আগামী দিনে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কী কী পদক্ষেপ করা হবে, টিভি৯ বাংলার কনক্লেভে ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমৃতাংশু ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই বিষয়ে জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
অমৃতাংশু ভট্টচার্য: আমাদের রাজ্য কতটা আর্থিক সংকটে রয়েছে, আর কতটা তা আরোপিত বা দেখানো?
স্বপন দাশগুপ্ত: কতটা যে আর্থিক সংকটে রয়েছে, তা আমরা বাজেটেই বলে দিয়েছি। প্রায় আট লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। অনেকে বলতে পারেন যে মহারাষ্ট্রে ৯ লক্ষ কোটি টাকা রয়েছে। কিন্তু মহারাষ্ট্রের অর্থনীতিটাও চাঙ্গা। আমাদের নেই। শুধু যে ঋণের বোঝা রয়েছে, তা নয়। তাছাড়া এখানে সব সিস্টেমগুলো কোলাপস করে গিয়েছিল। একটা যে অবনতি হয়েছিল, তা মানুষ বুঝতে পারলেও প্রশাসন বুঝতে পারেনি। এখন এই পরিস্থিতির মধ্যে মানসিক পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের যে একটা আলাদা ছবি ছিল, সেই ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
অমৃতাংশু ভট্টচার্য: ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে বা আমাদের রাজ্যের যা অর্থনৈতিক অবস্থা, আদৌ কি উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব?
স্বপন দাশগুপ্ত: হ্যাঁ সম্ভব। এর কারণ রয়েছে। প্রথম হচ্ছে অর্থটা কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে। চুরি কতটা হচ্ছে কতটা হচ্ছে না। তৃতীয়ত হল টাকাটা কোথা থেকে আসবে? গত ৫০ বছরে কেন্দ্রের সঙ্গে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করেছি। সিপিএম হয়তো ইনটেলেকচুয়াল ভাবে করেছিল। তৃণমূল একটু বোকাভাবে ঝগড়াটা করেছিল। তাতে কী হল, অনেক সেন্ট্রাল প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হলাম। এই যে প্রকল্পগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গকে আবার জুড়তে হবে। জোড়া হচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা রাফ এস্টিমেট। বাজেটে যে ব্ল্যাকহোল তা ভরতে পারে।
আমাদের সবথেকে বেশি দরকার হল একটা বড় ইনভেস্টমেন্ট। তার জন্য একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে। mou ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে কাগজের ইনভেস্টমেন্ট। তা আমরা অনেক আনতে পারি। কিন্তু বাস্তবে পরিবর্তন করতে গেলে একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আইনশৃঙ্খলার দিকে দেখতে হবে। সিন্ডিকেট, তোলাবাজি …বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্থিরতা দিতে হবে। আর শেষে একটা প্রশাসনিক পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষের আস্থা আসে।