জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে রাজ্যের শিক্ষায় সদর্থক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন সুকান্ত
এই সময়, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই নানা ক্ষেত্রে বহু-কাঙ্খিত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এ বার শিক্ষায় সদর্থক পরিবর্তনের রূপরেখা কী হবে সেই পথ বাতলে দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই কেন্দ্রীয় নানা পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাংলায় কার্যকর করা হবে। তার মধ্যে অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় শিক্ষানীতি, পিএম ঊষা, পিএমশ্রী স্কুলের মতো পরিকল্পনাগুলি পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত করা হবে। এদিনই কলকাতার একটি এডুকেশন ফেয়ারে যোগ দিয়ে বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ সিলেবাসেও একাধিক বদল হবে বলে দাবি করেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজত্বে বাংলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষার যে পরিকাঠামো ছিল, তার আমূল পরিবর্তন করা হবে এই মর্মেই কেন্দ্রীয়স্তরে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি সুকান্তর। তাঁর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক বিকাশকে পাখির চোখ করে রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ পরিকল্পনা৷’ তিনি জানান, রাজ্যে কার্যকর করা হবে জাতীয় শিক্ষানীতি৷ দেশের বেশির ভাগ রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু থাকলেও বিগত সরকার বাংলায় তা কার্যকর করেনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, ‘এর ফলে রাজ্যের ছেলেমেয়েদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে ফেলা হচ্ছে। যা আমরা হতে দিতে পারি না।’
এ রাজ্যের নানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাঝে মধ্যেই আর্থিক অভাবের কথা শোনা যেত। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের তহবিল থেকে টাকা যথাযথ ভাবে না আসায় বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ থমকে গিয়েছিল, এমনকী দৈনন্দিন খরচের টাকাও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আশ্বস্ত করে সুকান্ত বলেন, ‘বাংলায় আমাদের কার্যকালে রাজ্যের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ‘পিএম উষা’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে৷ এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অধীনে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এবার রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কেন্দ্রীয় অনুদান পাবে৷’
রাজ্যে মিডে ডি মিল প্রকল্পের খোলনলচে বদলে ফেলা, এই প্রকল্পে দুর্নীতির জন্য কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ করা হয়েছিল বলে দাবি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর। অবশ্য এখন তাঁর বক্তব্য, ‘সেই অনুদান এ বার শুরু হবে৷ মিড ডে মিল প্রকল্পে রাজ্যের সব স্কুলে পুষ্টিযুক্ত খাবার পরিবেশন করা হবে৷ একইসঙ্গে রাজ্যের সব স্কুলে শুরু হবে পিএম শ্রী প্রকল্পও৷’ দিল্লিতে সরকারি সূত্রের দাবি, উত্তরবঙ্গে একটি আইআইটি এবং একটি আইআইএম স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েও ভাবনা চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক৷
অন্যদিকে, এ দিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘এডুকেশন ইন্টারফেস’ আয়োজিত কেরিয়ার প্ল্যানার এডু ফেয়ারে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বিধায়ক সজল ঘোষ। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সমিত রায়, জেআইএস বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সর্দার তরণজিৎ সিং, সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী-সহ শিক্ষা জগতের আরও অনেক বড় নাম। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সজল দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে স্কুলস্তরের সিলেবাসে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হওয়া সিঙ্গুর আন্দোলন। সে সব পুরোপুরি বাদ দেওয়া হবে। সজলের কথায়, ‘এগুলো থাকবে না। আসলে ইতিহাস এ ভাবেই কোনও না কোনও ভাবে ইন্ট্রোডিউসড হয়। আকবর বিরাট ধার্মিক মানুষ ছিলেন, তিনি কোনও ধর্মের ভেদাভেদ মানতেন না। এগুলো সব ওর লোকেদের দিয়ে লেখানো হয়েছে। শাহজাহানকে করে দেওয়া হয়েছে প্রেমের প্রতীক।’ সজল দাবি করেন এ সবই পরিবর্তন করা হবে।