Awas Yojana corruption: মৃত ব্যক্তির নামেই চলে আবাসের টাকা! অভিযোগের খাতায় নতুন চমক | Awas Yojana Scam Allegations: Dead Man’s Name on Beneficiary List, Housing Funds Sent to Others in Bengal
আবাসের টাকা নিয়ে দুর্নীতিImage Credit: TV9 Bangla
পূর্ব বর্ধমান: আবাসের বাড়ি দেওয়ার নামে বিগত সরকারের আমলে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার আরও এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ। মৃত ব্যক্তির নামে উঠেছে আবাসের ঘরের টাকা। আবেদনই করেননি, অথচ সরকারি খাতায় তাঁর নামে ঘর বরাদ্দ। আবার প্রকৃত উপভোক্তার নামে ঘর দেখিয়ে টাকা ঢুকেছে অন্যের অ্যাকাউন্টে। আবেদন করেও ঘর মেলেনি, অথচ সরকারি নথিতে ঘর পেয়ে গিয়েছেন উপভোক্তা। আবাস যোজনায় এমনই একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। কাঠগড়ায় তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত। উঠছে টাকা কিংবা সরকারি ঘর ফেরতের দাবি। ঘর আছে সরকারি খাতায়, কিন্তু বাস্তবে নেই। উপভোক্তা আছেন নথিতে, অথচ ঘরের টাকা চলে গিয়েছে অন্যের অ্যাকাউন্টে। এমনই একাধিক অভিযোগকে ঘিরে শোরগোল মঙ্গলকোটের ঝিলু ২ নম্বর পঞ্চায়েতের নওয়াপাড়া গ্রামে।
অভিযোগ, ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবর্ষে আবাস যোজনার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও বহু প্রকৃত উপভোক্তার ঘর তৈরি হয়নি। অথচ সরকারি পোর্টালে তাঁদের নামে ঘর বরাদ্দ এবং টাকা দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পঞ্চায়েতে খোঁজখবর করতেই সামনে আসে একের পর এক অনিয়ম। অভিযোগ, এলাকায় ৬০০-র বেশি আবাসের ঘর নিয়ে বেনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সামনে এসেছে মৃত মোল্লা মমিজুলের নাম। পরিবারের দাবি, তিনি আবাসের ঘরের জন্য আবেদনই করেননি। অথচ সরকারি নথিতে তাঁর নামে ঘর বরাদ্দ দেখানো হয়েছে এবং ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা তোলার তথ্য রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সেই টাকা বাস্তবে অন্য কারও অ্যাকাউন্টে গিয়েছে।
একই অভিযোগ মৃত হামিদা বিবিকে নিয়েও। সরকারি পোর্টালে তাঁর নামে ঘর এবং টাকা দেওয়ার তথ্য থাকলেও পরিবারের দাবি, সেই টাকা গ্রামের রফিক শেখের নামে দেখানো হয়েছে। যদিও রফিক শেখের দাবি, তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা ঢোকেনি।
শুধু তাই নয়, মাটির বাড়িতে বসবাস করা মানসুরা বিবির নামও ছিল আবাসের তালিকায়। কিন্তু তাঁর দাবি, আজও তিনি ঘর পাননি। অথচ তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া ঘরের টাকা অন্য কারও অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ।
এখন সমস্যায় পড়েছেন প্রকৃত উপভোক্তারা। নতুন করে আবাসের ঘরের জন্য আবেদন করতে গেলে তাঁদের জানানো হচ্ছে, সরকারি নথি অনুযায়ী তাঁদের নামে ইতিমধ্যেই ঘর রয়েছে। ফলে বাস্তবে ঘর না পেয়েও নতুন করে ঘর পাওয়ার সুযোগ হারাচ্ছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত এবং ব্লক প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে হয় ঘর, নয়তো তাঁদের নামে বরাদ্দ টাকা ফেরতের দাবি তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে তৃনমূল নেতাদের আত্মীয়-পরিজনদের অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢোকানো হয়েছে। বিষয়টি পঞ্চায়েত এবং BDO অফিসে জানানো হয়েছে বলেও দাবি বিজেপির।