সে দেশ বড় দুর্ভাগা যার একজন নায়কের প্রয়োজন
এখন সেই প্রশ্নটি করা যাক, যেটি এই পুরো গল্পের প্রাণ। ধরুন, এই দেশের মাত্র দশ শতাংশ সরকারি কর্মকর্তা, শুধু দশ শতাংশ, তুকারাম মুন্ডের মতো নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করলেন। দশ শতাংশ খাদ্য পরিদর্শক নিয়মিত ও নিরপেক্ষ ভাবে খাবার পরীক্ষা করলেন। দশ শতাংশ এক্সাইজ় অফিসার বোতলের হলোগ্রামের বদলে তার ভেতরের তরল পরীক্ষা করলেন। দশ শতাংশ ওষুধ নিয়ন্ত্রক ট্যাবলেটের মোড়কে যা লেখা আছে, ওষুধে সত্যিই তা আছে কি না দেখলেন। দশ শতাংশ পুরকর্মী পানীয় জলের পাইপটি একবার ঠিকমতো পরীক্ষা করলেন। মাত্র দশ শতাংশ।
তা হলে দেশটা কেমন হতো? জানি না। সম্ভবত এমন একটি দেশ হতো, যাকে দেখে নিজেরাই চিনতে পারতাম না। কারণ তেমন দেশ আমরা কখনও দেখিনি। স্বপ্নেও নয়।
এই উদাসীনতা হঠাৎ জন্ম নেয়নি। এটি তৈরি করা হয়েছে। যত্ন করে, দশকের পর দশক ধরে। নাগরিককে বোঝানো হয়েছে, অভিযোগ করা বেয়াদবি, প্রশ্ন করা ঝামেলা এবং ‘চলে যাচ্ছে তো’ মানেই যথেষ্ট। অর্থাৎ, আপনি যদি বেশি প্রশ্ন করেন, তথ্য চান, যুক্তি চান, ব্যবস্থার অসঙ্গতি ধরিয়ে দেন, তবে আপনার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আপনাকেই সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে।