‘মাদ্রাসা বন্ধ হলে মুসলমানরা তান্ডব চালাবে!’ ধামি রাজ্যের ত্রিশূল চকে হুমকি মৌলানার
দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে ঈদ মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বের হওয়া জুলুস-এ-মোহাম্মদের (madrasa controversy)এক অনুষ্ঠানে এক মৌলানার বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রুদ্রপুরের ত্রিশূল চকে অনুষ্ঠিত সেই…
দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে ঈদ মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বের হওয়া জুলুস-এ-মোহাম্মদের (madrasa controversy)এক অনুষ্ঠানে এক মৌলানার বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রুদ্রপুরের ত্রিশূল চকে অনুষ্ঠিত সেই কর্মসূচিতে মৌলানা মাদ্রাসা নিয়ে রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, “মাদ্রাসা বন্ধ করে দিলে মুসলমানরা কী করবে, সেটা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “আজ মুসলমানরা চুপ করে আছে। (madrasa controversy)তারা প্রতিদিন চুপ থাকবে না।” এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।পুলিশ ইতিমধ্যেই এই বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে চিহ্নিত করে মামলা দায়ের করেছে। রামপুরের মুফতি মুজিবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় মিছিলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন বা এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ভারতে ডেটা সেন্টারের রমরমা! ২০৩০-এর মধ্যে বিনিয়োগের অঙ্ক ছুঁতে পারে ৩০০ বিলিয়ন ডলার
নিরাপত্তায় আপোষ নয়! রাজৌরি সেক্টরে ৩ পাক ড্রোন হামলা ব্যর্থ করল সেনা বাহিনী
দিল্লিতে আইএসআই-এর চরবৃত্তির চক্র ফাঁস, ধৃত দম্পতি
পুলিশের দাবি, বক্তব্যটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। (madrasa controversy)স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।এই বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকারের মাদ্রাসা সংক্রান্ত নীতি। গত কয়েক মাসে রাজ্যে নিবন্ধনবিহীন ও অবৈধ মাদ্রাসা সিল করার অভিযান চলছে। শতাধিক মাদ্রাসা বন্ধ করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্র জানায়। সম্প্রতি মাদ্রাসা বোর্ড বাতিল করে রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যক্রম বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সরকারের অবস্থান হল, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনতে হবে (madrasa controversy)এবং আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে মুসলিম সংগঠনগুলো একে সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে।রুদ্রপুরের সেই বক্তব্যে মৌলানা স্পষ্ট করে বলেছেন যে মুসলমানরা এখন নীরব থাকলেও চিরকাল নীরব থাকবে না। এই হুমকিতে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন।
তাঁদের মতে, এতে ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় থাকা কোনো উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, এটি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভের অভিব্যক্তি মাত্র। তবে বক্তব্যের ভাষা ও সুর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও উসকানি ও হুমকির সীমানা কোথায়, সেটা নিয়ে আলোচনা জরুরি।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কেউ কেউ মৌলানার কথাকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, মাদ্রাসা মুসলিম (madrasa controversy)সমাজের ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র। আবার অনেকেই বক্তব্যটিকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা বলে মনে করছেন। তাঁরা বলছেন, সমস্যা থাকলে আইনসঙ্গতভাবে সমাধান করা উচিত, হুমকির ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। কেউ সরকারের মাদ্রাসা নীতিকে সমর্থন করছে, কেউ আবার সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার কথা বলছে।