ভারতে ডেটা সেন্টারের রমরমা! ২০৩০-এর মধ্যে বিনিয়োগের অঙ্ক ছুঁতে পারে ৩০০ বিলিয়ন ডলার
মুম্বই: ভারতে ডিজিটাল পরিষেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং (data centre)এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত দ্রুত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ডেটা সেন্টার। একসময় যেখানে ডেটা সেন্টারকে শুধুমাত্র…
মুম্বই: ভারতে ডিজিটাল পরিষেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং (data centre)এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত দ্রুত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ডেটা সেন্টার। একসময় যেখানে ডেটা সেন্টারকে শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো হিসেবে দেখা হত, এখন সেটি ভারতের রিয়েল এস্টেট বাজারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
একটি সাম্প্রতিক Anarock Capital রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ডেটা সেন্টারের মোট জায়গা ১০.১ কোটি বর্গফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে। (data centre)২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২.৭ কোটি বর্গফুট। ২০০৭ সালে যেখানে ভারতের ডেটা সেন্টারের পরিসর ছিল মাত্র ০.৬ কোটি বর্গফুট, সেখান থেকে এই বৃদ্ধি যে কতটা দ্রুত, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।
আরও দেখুনঃ নিরাপত্তায় আপোষ নয়! রাজৌরি সেক্টরে ৩ পাক ড্রোন হামলা ব্যর্থ করল সেনা বাহিনী
দিল্লির তরুণী মডেলকে বাড়ি ঢুকে খুন! পায়ে গুলি করে ইমরানকে শ্রীঘরে নিল পুলিশ
দিল্লিতে আইএসআই-এর চরবৃত্তির চক্র ফাঁস, ধৃত দম্পতি
এই সম্প্রসারণের পিছনে রয়েছে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা। আগামী দিনে ভারতে ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো তৈরিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আসতে পারে বলে রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে ডেটা সেন্টার তৈরি করা সাধারণ কোনও রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের মতো সহজ নয়। (data centre)শুধু বড় জমি পেলেই হবে না, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত জল, দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক, উন্নত কুলিং ব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ পরিকাঠামো থাকা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবেশগত দিক থেকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহারও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেভেলপারদের কাছে ডেটা সেন্টারের জন্য জমি বেছে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ একই জমিতে আবাসন, অফিস, শপিং মল বা হোটেল তৈরি করলে কতটা লাভ হতে পারে, তার সঙ্গে ডেটা সেন্টার তৈরির সম্ভাব্য আয়ও তুলনা করতে হয়। Mt K Kapital-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিনিথা দালালের মতে, ভারতে এখনও ডেটা সেন্টারের জন্য আলাদা করে নির্ধারিত জমির বাজার তৈরি হয়নি। ফলে কোনও জমির মূল্য নির্ধারণের সময় সেটি ভবিষ্যতে কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে, সেই সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হচ্ছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অবস্থান। (data centre)সস্তা জমির খোঁজে কোনও ডেটা সেন্টারকে শহরের একেবারে প্রান্তে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সবসময় কার্যকর নয়। কারণ এই ধরনের পরিকাঠামো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ কর্মী প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিড এবং পৌরসভার জল সরবরাহ ব্যবস্থার কাছাকাছি থাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যে সমস্ত এলাকায় আগে থেকেই ডেটা সেন্টার তৈরির অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানে জমির দামও বাড়তে পারে।
এই বাজারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI। Anarock-এর মতে, AI-এর দ্রুত প্রসার আগামী দিনে ডেটা সেন্টারের চাহিদা আরও বাড়াবে। বড় AI মডেল তৈরি বা প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু AI মডেল প্রশিক্ষণ নয়, মডেল ব্যবহারের সময়ও বিপুল পরিকাঠামো দরকার। একজন ব্যবহারকারী যখন AI-কে প্রশ্ন করছেন, ছবি তৈরি করছেন বা কোনও কাজ করাচ্ছেন, তখন প্রতিটি অনুরোধের পিছনেও ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং ক্ষমতা কাজ করছে।