Kawasaki W230-এ নতুন রঙ, বদলাল না ইঞ্জিন-ফিচার-দাম
গুরুগাঁও: কাওয়াসাকি ২০২৭ মডেল ইয়ারের ডব্লিউ২৩০ (Kawasaki W230) প্রকাশ করেছে। নতুন মডেলে মূল পরিবর্তন হিসেবে এসেছে নতুন ‘এবনি’ রঙ। ২০২৬ মডেলে থাকা ‘মেটালিক ম্যাট ডার্ক…
গুরুগাঁও: কাওয়াসাকি ২০২৭ মডেল ইয়ারের ডব্লিউ২৩০ (Kawasaki W230) প্রকাশ করেছে। নতুন মডেলে মূল পরিবর্তন হিসেবে এসেছে নতুন ‘এবনি’ রঙ। ২০২৬ মডেলে থাকা ‘মেটালিক ম্যাট ডার্ক গ্রিন’ রঙের জায়গা নিয়েছে এই নতুন রঙ। তবে রঙের পরিবর্তন ছাড়া মোটরসাইকেলটিতে আর কোনও বড় আপডেট করা হয়নি।
কাওয়াসাকি জানিয়েছে, নতুন মডেলে কোনও যান্ত্রিক পরিবর্তন নেই। ফিচার তালিকাও আগের মতোই রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামেও কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ২০২৬ মডেলের মতোই ২০২৭ কাওয়াসাকি ডব্লিউ২৩০-এ একটি মাত্র রঙের বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন এবনি রঙেই আসছে ডব্লিউ২৩০
২০২৭ ডব্লিউ২৩০-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল নতুন এবনি রঙ। এর আগে ২০২৬ মডেলে মেটালিক ম্যাট ডার্ক গ্রিন রঙ পাওয়া যেত। এবার সেই রঙ সরিয়ে নতুন মডেলে এবনি রঙ দিয়েছে কাওয়াসাকি। রেট্রো ডিজাইনের এই মোটরসাইকেলে নতুন রঙটি এর ক্লাসিক চেহারার সঙ্গে মানানসই একটি আলাদা চরিত্র তৈরি করেছে। তবে ডিজাইনের মূল কাঠামোতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
আরও পড়ুন: ১৯.৪৯ লক্ষ টাকায় MG Hector Tomahawk EV, বাড়িতেও বিদ্যুৎ দেবে এই SUV
২৩৩ সিসির ইঞ্জিনই থাকছে
ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে ২০২৭ ডব্লিউ২৩০ আগের মডেলের মতোই রয়েছে। এতে ২৩৩ সিসির এয়ার-কুলড সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এই একই ইঞ্জিন কাওয়াসাকি কেএলএক্স২৩0 মডেলেও ব্যবহার করে। ইঞ্জিনটি ৭,০০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ১৮ এইচপি শক্তি এবং ৫,৮০০ আরপিএমে ১৮.৬ এনএম টর্ক তৈরি করে। এর সঙ্গে রয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স। রেট্রো মোটরসাইকেল হিসেবে এই ইঞ্জিন সেটআপকে খুব বেশি আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সের জন্য তৈরি করা হয়নি। বরং সহজে চালানো এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে মানানসই চরিত্রের দিকেই নজর দিয়েছে কাওয়াসাকি।
আরও পড়ুন:Mahindra BE 6 Sportech বুকিং ও ডেলিভারি, কীভাবে কিনবেন নতুন ইলেকট্রিক SUV
রেট্রো ডিজাইনের সঙ্গে টেলিস্কোপিক ফর্ক ও টুইন শক
ডব্লিউ২৩০-এর রেট্রো চরিত্র ধরে রাখতে সাসপেনশন সেটআপেও রয়েছে প্রচলিত ব্যবস্থা। সামনে দেওয়া হয়েছে কনভেনশনাল টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে রয়েছে টুইন শক অ্যাবজর্বার। ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে ২৬৫ মিমি এবং পিছনে ২২০ মিমির ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে আধুনিক ফিচারের বদলে মোটরসাইকেলটির ক্লাসিক ডিজাইন এবং সহজ-সরল হার্ডওয়্যার সেটআপই এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
মাত্র ১৪৩ কেজি ওজন
কাওয়াসাকি ডব্লিউ২৩০-এর কার্ব ওয়েট ১৪৩ কেজি। এই সেগমেন্টের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে হালকা একটি মোটরসাইকেল। এর সঙ্গে রয়েছে মাত্র ৭৪৫ মিমির সিট হাইট। ফলে বিভিন্ন উচ্চতার রাইডার সহজেই বাইকটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। বিশেষ করে নতুন রাইডারদের জন্য কম সিট হাইট এবং কম ওজন সুবিধাজনক হতে পারে। শহরের রাস্তায় নিয়মিত ব্যবহার কিংবা হালকা ট্যুরিংয়ের ক্ষেত্রেও এই কম ওজন বাইকটিকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে।
ভারতে ডব্লিউ২৩০ আসবে কি?
কাওয়াসাকি এখনও ভারতে ডব্লিউ২৩০ লঞ্চ করার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তবে ভারতে ছোট ক্ষমতার রেট্রো মোটরসাইকেলের বাজার গত কয়েক বছরে যথেষ্ট বড় হয়েছে। কাওয়াসাকি এর আগে ভারতের বাজারে ডব্লিউ৮০০ এবং ভারতে তৈরি ডব্লিউ১৭৫ বিক্রি করেছে। কাওয়াসাকি ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে এখনও ২০২৪ মডেল ইয়ারের ডব্লিউ১৭৫ তালিকাভুক্ত রয়েছে। তবে বাজারে ওই মডেলের পুরনো স্টকের পরিমাণ কতটা রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, কাওয়াসাকি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে ছোট ক্ষমতার রেট্রো মোটরসাইকেল তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। ফলে ডব্লিউ২৩০-এর মতো মডেল ভারতে আনার সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রয়্যাল এনফিল্ড ও হোন্ডার মতো মডেলের বাজার
ভারতে আধুনিক ক্লাসিক মোটরসাইকেলের চাহিদা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। রয়্যাল এনফিল্ড ক্লাসিক ৩৫০-এর জনপ্রিয়তা এই সেগমেন্টের বাজারকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর পাশাপাশি হোন্ডা সিবি৫০০-এর মতো নতুন মডেলও এই বিভাগে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কাওয়াসাকি ডব্লিউ২৩০ ভারতে এলে এটি একটি আলাদা বিকল্প তৈরি করতে পারে।
তবে আপাতত ২০২৭ ডব্লিউ২৩০ শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য নতুন রঙে এসেছে। নতুন এবনি রঙ ছাড়া ইঞ্জিন, সাসপেনশন, ব্রেক, ফিচার এবং দামে কোনও পরিবর্তন করেনি কাওয়াসাকি। ভারতে বাইকটি আদৌ আসবে কি না, সেই বিষয়ে এখনই কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই।