মহারাষ্ট্রে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু, শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য রাজ্যের
ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরলেও অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল হাবড়ার আনোয়ারবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মণ্ডলের। রবিবার রাতে তিনি মারা যান। ঘটনার জেরে পরিযায়ী শ্রমিকের শোকস্তব্ধ পরিবারকে পাশে দাঁড় করাল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার তাঁর মায়ের হাতে ২ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেন বারাসতের সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি সন্দেহে মুম্বইয়ে পুলিশি নির্যাতন, বাড়ি ফিরেই মৃত্যু হাবড়ার শ্রমিকের
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোলাম মণ্ডল পেশায় সাফাইকর্মী ছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ের নয়ানগর থানার লোধা রোড এলাকায় একটি জিমে কাজ করতেন তিনি। পরিবারের বড় দায়িত্বও ছিল তাঁর কাঁধে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ছেলে, বউমা এবং হাবড়ায় বৃদ্ধা মাকে দেখাশোনার পাশাপাশি, মুম্বইয়ে থাকা মেয়ে, জামাই এবং নাতনির ভরণপোষণও তিনিই চালাতেন। দীর্ঘদিন সবকিছু স্বাভাবিক চললেও, গত ৯ জুন ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।
পরিবারের দাবি, ওই দিন শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধেই নয়ানগর থানার পুলিশ গোলামকে আটক করে। তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে বারবার ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়। যেখানে থাকার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত খারাপ। দিনের পর দিন শুধু ভাত আর ঠাণ্ডা জল খেতে দেওয়া হত, কখনও বা জুটত অল্প কিছু সিঙাড়া বা পাঁউরুটি। পুষ্টিকর খাবারের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসার জন্য বারবার ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে। কিন্তু অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভয়ে তাঁর মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়েছিল। অবশেষে অসুস্থ শরীর ও মানসিক চাপের জেরে রবিবার গভীর রাতে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
এরপরেই গোলামের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেয় রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার বারাসতের মহকুমাশাসক সোমা দাস ও ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক সুবীর দণ্ডপাটের উপস্থিতিতে মৃত শ্রমিকের মায়ের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, শুধু মহারাষ্ট্র নয়, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের ওপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, এ ধরনের নির্যাতনের শিকার কোনও পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার হাত গুটিয়ে থাকবে না। শোকস্তব্ধ পরিবারের তরফে গোলামের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বলেন, তাঁর বাবার মৃত্যু তাঁদের ভেঙে দিয়েছে। সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। রাজ্য সরকারের এই সাহায্য তাঁদের নতুন ভরসা দিল। এই মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? পরিবারের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও তদন্ত শুরু হয়নি।