নেপালে বানের জলে ভাসছে গ্যাস সিলিন্ডার, ধরতে কাদাজলে ঝাঁপ - 24 Ghanta Bangla News
Home

নেপালে বানের জলে ভাসছে গ্যাস সিলিন্ডার, ধরতে কাদাজলে ঝাঁপ

Spread the love

কাঠমাণ্ডু: চারদিকে হাহাকার আর মৃত্যুমিছিল। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে আস্ত গ্রাম, সেতু আর রাস্তাঘাট। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে কাদাজলে ঝাঁপ দিচ্ছেন…

কাঠমাণ্ডু: চারদিকে হাহাকার আর মৃত্যুমিছিল। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে আস্ত গ্রাম, সেতু আর রাস্তাঘাট। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে কাদাজলে ঝাঁপ দিচ্ছেন একদল মানুষ। উদ্দেশ্য, বন্যার জলে ভেসে আসা রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার (LPG cylinder) সংগ্রহ করা। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের এমনই একটি শিউরে ওঠা এবং একইসঙ্গে বিস্ময়কর ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই দৃশ্য দেখে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কেউ একে ‘বিপর্যয়ের মাঝে লুটপাট’ বলে কটাক্ষ করছেন, তো কেউ বলছেন ‘এটাই সর্বস্বান্ত মানুষের বেঁচে থাকার মরিয়া লড়াই’।

গত বুধবার নেপালে আচমকা আছড়ে পড়া প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে (Flash flood) এখনও পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিখোঁজ শতাধিক। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই অজানা একটি বন্যাকবলিত এলাকার ভিডিয়ো সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বন্যার জলে ভেসে আসা কাঠ, প্লাস্টিক ও আবর্জনার স্তূপের মধ্য দিয়ে কার্যত সাঁতার কেটে বা হেঁটে গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করছেন বেশ কয়েকজন পুরুষ এবং অন্তত এক জন মহিলা। পাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ গোটা দৃশ্যটি মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করছেন, আবার কেউ নিরাপদ দূরত্ব থেকে ওই ব্যক্তিদের নির্দেশ দিচ্ছেন, কোন দিক থেকে সিলিন্ডার ভেসে আসছে।

নেটমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এক্সে (প্রাক্তন টুইটার) এক ব্যবহারকারী তীব্র কটাক্ষ করে লিখেছেন, “অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে এটা দেখে অন্তত বুঝতে পারলাম যে বিপর্যয়ের সময় সুযোগ বুঝে লুটপাট করার প্রবৃত্তি শুধু পশ্চিমাদের নয়, সর্বত্রই রয়েছে।” অন্য একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “মানুষ যখন বাঁচার জন্য লড়াই করছে, তখন লুটপাট করাটা চরম অমানবিক। দুর্যোগের সময় আমাদের লোভ নয়, মানবতা দেখানো উচিত।”

তবে এই ‘লুট’-এর তত্ত্ব মানতে নারাজ অনেকেই। এক নেটিজেনের কথায়, “এই মানুষগুলো বন্যায় নিজেদের সর্বস্ব হারিয়েছেন। গ্যাস সিলিন্ডারগুলো সমুদ্রে ভেসে গিয়ে আবর্জনা বাড়ানোর চেয়ে এঁদের কাজে লাগলে ক্ষতি কী?” অন্য একজনের যুক্তি, “যাঁরা সবকিছু হারিয়েছেন, তাঁদের কাছে আগামী দিনে উনুন জ্বালানোর শেষ সম্বল এই সিলিন্ডারগুলোই।”

বিপর্যয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও দ্বিতীয় প্রলয়ের আশঙ্কা

প্রাথমিক অনুমান, ভূকম্পনের ফলে হিমবাহ ধসের (Avalanche) জেরেই নেপালের নদীগুলিতে এমন মহাপ্রলয় দেখা দিয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, ধসের ফলে নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়েই এই বিপত্তি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নদীর গতিপথে এখনও ধসের স্তূপ আটকে থাকায় দ্বিতীয় দফায় হড়পা বান আসার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই বিপর্যয়ে বহু পর্যটক-সহ শতাধিক মানুষের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরাও রয়েছেন। কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোঁজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দুর্গতদের সব রকম সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আপনাদের এই ক্ষতি ও যন্ত্রণা অপূরণীয়। তবে এই কঠিন সময়ে আপনারা একা নন, রাষ্ট্র তার সমস্ত সম্পদ নিয়ে আপনাদের পাশে রয়েছে।”

তবে চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও ভাসমান গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে যে হুড়োহুড়ির ছবি সামনে এসেছে, তা একাধারে মানুষের বেঁচে থাকার মরিয়া সংগ্রাম এবং দুর্যোগের মাঝে সুযোগ সন্ধানের এক রূঢ় বাস্তবকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?

বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *