ভারত না দক্ষিণ আফ্রিকা, কোন দেশের গাড়িতে বেশি সুবিধা?
গুরুগাঁও: ভারতের বাজারে ফিরেছে রেনল্ট ডাস্টার (Renault Duster৷ আর এবার শুধু ভারতেই নয়, একই গাড়ি দক্ষিণ আফ্রিকার বাজারেও পাঠাচ্ছে সংস্থা। দেখতে দুই দেশের ডাস্টার প্রায় এক হলেও ফিচার, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, নিরাপত্তা, ইঞ্জিনের ক্ষমতা এবং দামের ক্ষেত্রে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। কোথাও এগিয়ে ভারত, আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রেতারা। তাহলে শেষ পর্যন্ত কোন দেশের ডাস্টার বেশি ভালো?
চার বছরেরও বেশি সময় পর ভারতে ফিরেছে ডাস্টার। নতুন প্রজন্মের এই এসইউভি রেনল্টের আরজিএমপি প্ল্যাটফর্মের উপর তৈরি এবং ইউরোপের ডাস্টারের সিএমএফ-বি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে না। ভারতেই তৈরি হওয়া এই ডাস্টার দক্ষিণ আফ্রিকাতেও রফতানি করা হচ্ছে। ফলে দুই দেশের মডেলের মধ্যে এত মিল থাকা স্বাভাবিক।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে দুই দেশের ডাস্টারের মধ্যে কার্যত কোনও পার্থক্য নেই। আগের প্রজন্মের তুলনায় নতুন মডেলে অনেক বেশি আধুনিক এবং পেশিবহুল নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। সামনের দিকে রয়েছে চাঙ্কি বাম্পার, বড় এয়ার ইনটেক এবং এলইডি আলো। পাশের অংশে ডাস্টারের পরিচিত উঁচু গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, শক্তপোক্ত হুইল আর্চ এবং সোজা অবস্থানের নকশা রাখা হয়েছে।
Also Read | নতুন Bajaj ডুয়াল-স্পোর্ট বাইক ফের স্পাই, সামনে ১৯ ইঞ্চি চাকা
তবে গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সে ভারতীয় ডাস্টার সামান্য এগিয়ে। ভারতের মডেলে ২১২ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার মডেলে তা ২০৮ মিলিমিটার। ভারতীয় রাস্তার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই অতিরিক্ত কয়েক মিলিমিটারও বাস্তব ব্যবহারে কিছুটা সুবিধা দিতে পারে।
পিছনের নকশাতেও দুই দেশের গাড়ি প্রায় একই। সি-আকৃতির এলইডি টেল ল্যাম্প, সংযুক্ত আলো, স্পোর্টি রিয়ার স্পয়লার এবং সিলভার ইনসার্ট-সহ কালো বাম্পার ডাস্টারকে আধুনিক এবং শক্তপোক্ত চেহারা দিয়েছে।
রঙের বিকল্পে অবশ্য ভারতীয় ক্রেতারা স্পষ্টভাবে এগিয়ে। ভারতে মাউন্টেন জেড গ্রিন, পার্ল হোয়াইট, মুনলাইট সিলভার, সানসেট রেড, রিভার ব্লু এবং স্টিলথ ব্ল্যাক, মোট ছটি রং রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি রঙের সঙ্গে স্টিলথ ব্ল্যাক ডুয়াল-টোন বিকল্পও পাওয়া যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার বাজারে পাঁচটি রং থাকলেও ডুয়াল-টোন বিকল্প নেই।
Also Read | বেস TVS আইকিউবে বড় ব্যাটারি, একই দামেই বাড়ল রেঞ্জ
কেবিনের নকশা দুই দেশের মডেলেই প্রায় একই। ড্যাশবোর্ডে রয়েছে ১০.১ ইঞ্চির ফ্লোটিং টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থা এবং ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে। কালো ও সবুজ রঙের থিমের সঙ্গে সিলভার অ্যাকসেন্ট কেবিনে প্রিমিয়াম অনুভূতি তৈরি করে। ডুয়াল-জোন ক্লাইমেট কন্ট্রোলের জন্য রেনল্ট এখনও ফিজিক্যাল বোতাম রেখেছে, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে সুবিধাজনক।
নতুন ডাস্টারে পিছনের আসনে আগের প্রজন্মের তুলনায় জায়গা বেড়েছে। যদিও এটি সেগমেন্টের সবচেয়ে প্রশস্ত এসইউভি নয়, তবে পরিবার নিয়ে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। সামনের আসনগুলিও আরামদায়ক এবং গাড়িটির সামগ্রিক চরিত্র স্পোর্টি রেখেছে রেনল্ট।
ফিচারের তালিকাতেও দুই দেশের মডেলের মধ্যে বেশিরভাগ মিল রয়েছে। দুই গাড়িতেই ১০.১ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন, ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো, অ্যাপল কারপ্লে এবং ছয়টি স্পিকারের সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্করণে আরকামিস ব্র্যান্ডের সাউন্ড সিস্টেম দেওয়া হয়েছে, যা ভারতীয় মডেলে নেই।
এছাড়া প্যানোরামিক সানরুফ, ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে, পাওয়ারড টেলগেট, ছয়ভাবে সামঞ্জস্যযোগ্য চালকের আসন, সামনের আসনে ভেন্টিলেশন, ৪৮ রঙের অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার, অটো হেডল্যাম্প এবং অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল দুই দেশের ডাস্টারেই রয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতীয় ডাস্টার পেয়েছে ভারত এনক্যাপের ৫-স্টার রেটিং। দক্ষিণ আফ্রিকার ডাস্টারের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা রেটিং এখনও নেই। তবে এয়ারব্যাগের সংখ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার মডেল এগিয়ে। সেখানে সাতটি এয়ারব্যাগ রয়েছে, যেখানে ভারতের ডাস্টারে ছটি এয়ারব্যাগ দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের গাড়িতেই এবিএস, ইবিডি, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, টায়ার প্রেসার মনিটরিং ব্যবস্থা, আইএসওফিক্স চাইল্ড সিট মাউন্ট, হিল হোল্ড, ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক এবং লেভেল-২ এডিএএস রয়েছে।
ইঞ্জিনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের ডাস্টারে একই ধরনের বিকল্প পাওয়া যায়। ভারতের ১.০ লিটারের টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন ১০০ পিএস শক্তি এবং ১৬৬ এনএম টর্ক তৈরি করে। ১.৩ লিটারের টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন ১৬৩ পিএস শক্তি এবং ২৮০ এনএম টর্ক দেয়। ১.০ লিটারের ইঞ্জিনের সঙ্গে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল এবং ১.৩ লিটারের ইঞ্জিনের সঙ্গে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল ও ৭-স্পিড ডুয়াল-ক্লাচ অটোমেটিক গিয়ারবক্স রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডাস্টারে ১.০ লিটারের ইঞ্জিন ১০০ পিএস এবং ১৬০ এনএম টর্ক তৈরি করে। ১.৩ লিটারের ইঞ্জিনের ক্ষমতা ১৫৮ পিএস এবং ২৬০ এনএম টর্ক। অর্থাৎ ইঞ্জিন একই ধরনের হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্করণে শক্তি ও টর্ক সামান্য কম। অটোমেটিক গিয়ারবক্স সেখানে ইডিসি নামে পরিচিত।
তবে দুই দেশের ডাস্টারের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য দামে। ভারতে নতুন ডাস্টারের দাম শুরু হচ্ছে ১০.৪৯ লক্ষ টাকা থেকে। সর্বোচ্চ সংস্করণের দাম ১৮.৬৯ লক্ষ টাকা, এক্স-শোরুম।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাস্টারের দাম শুরু হচ্ছে ৩,৩৯,৯৯৯ র্যান্ড থেকে। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২০.৩ লক্ষ টাকা। সর্বোচ্চ সংস্করণের দাম ৪,৯৯,৯৯৯ র্যান্ড, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৯.৮ লক্ষ টাকা।
অর্থাৎ দামের ক্ষেত্রে ভারতীয় ডাস্টার অনেকটাই এগিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার গাড়িতে একটি অতিরিক্ত এয়ারব্যাগ এবং আরকামিস অডিও সিস্টেম থাকলেও ভারতের মডেলে বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, বেশি রঙের বিকল্প, ডুয়াল-টোন রঙ এবং সামান্য বেশি শক্তিশালী ১.৩ লিটারের ইঞ্জিন পাওয়া যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে ভারতীয় ডাস্টারকে দক্ষিণ আফ্রিকার তুলনায় কম সুবিধার গাড়ি বলা যাবে না। বরং দাম, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, ইঞ্জিনের ক্ষমতা এবং রঙের বিকল্পের মতো বিষয় বিবেচনা করলে ভারতের সংস্করণই বেশি আকর্ষণীয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মডেল কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি সরঞ্জাম পেলেও ভারতীয় ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে অনেক কম দামে প্রায় একই গাড়ি পাচ্ছেন।