Suzuki e-Sky জাপানে হাজির, ৩১০ কিমি রেঞ্জে ভারতে ৭ লক্ষ টাকার EV?
গুরুগাঁও: জাপানের বাজারে নতুন কমপ্যাক্ট ইলেকট্রিক গাড়ি সুজুকি ই-স্কাই (Suzuki E-Sky) আত্মপ্রকাশ করেছে সুজুকি। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সহজে চলাচলের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই ছোট ইলেকট্রিক গাড়িটি আকারে কমপ্যাক্ট হলেও চারটি দরজা এবং ব্যবহারযোগ্য পিছনের আসন রয়েছে। ফলে ভারতে এলে এটি এমজি কমেট ইভি এবং টাটা টিয়াগো ইভির মতো ছোট বৈদ্যুতিক গাড়ির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। সুজুকি এখনও ভারতে ই-স্কাই আনার বিষয়ে কোনও ঘোষণা করেনি। তবে গাড়িটির আকার, ব্যবহারিকতা এবং সম্ভাব্য দাম ভারতীয় বাজারের জন্য এটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
গত বছর সুজুকি জাপানে ই-স্কাইয়ের ভিশন মডেল প্রদর্শন করেছিল। এবার গাড়িটির প্রোডাকশন-রেডি সংস্করণ প্রকাশ্যে এসেছে। ডিজাইনের দিক থেকে এটি একটি ছোট, চওড়া এবং লম্বা ছাদের গাড়ি, যাকে টল-বয় ডিজাইন বলা যায়। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৩,৩৯৫ মিলিমিটার। তুলনায় এমজি কমেট ইভির দৈর্ঘ্য ২,৯৭৪ মিলিমিটার এবং মারুতি অল্টোর দৈর্ঘ্য ৩,৫৩০ মিলিমিটার। অর্থাৎ আকারের দিক থেকে ই-স্কাই কমেট এবং অল্টোর মাঝামাঝি অবস্থান করছে।
প্রায় ৩.৪ মিটার লম্বা হওয়া সত্ত্বেও ই-স্কাইয়ে চারটি পূর্ণ আকারের দরজা রয়েছে এবং পিছনের আসনও ব্যবহারযোগ্য। এই জায়গাতেই এটি এমজি কমেট ইভির তুলনায় বেশি ব্যবহারিক হতে পারে। ছোট বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতে ই-স্কাই আনার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ই-স্কাই মূলত জাপানের কেই কার নিয়ম মেনে তৈরি। জাপানে শহরের জন্য তৈরি এই ধরনের গাড়ির দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৩.৪ মিটার এবং প্রস্থ সর্বোচ্চ ১.৪৮ মিটার হতে পারে। এই কঠোর আকারের সীমার মধ্যেই বেশি জায়গা এবং ব্যবহারিকতা দেওয়ার জন্য জাপানি নির্মাতারা সাধারণত অত্যন্ত দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে থাকে।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে ই-স্কাইকে বেশ আলাদা দেখায়। সামনের অংশে রয়েছে সমতল ফ্যাসিয়া এবং সোজা অবস্থানের বডি। সামনে সি-আকৃতির ডিআরএল বা ডে-টাইম রানিং লাইট রয়েছে, যার সঙ্গে স্মোকড প্রজেক্টর হেডল্যাম্প দেওয়া হয়েছে। ডিআরএল সরাসরি হেডল্যাম্পের সঙ্গে যুক্ত নয়। তার বদলে দুই ল্যাম্পের মাঝখানে রয়েছে পিয়ানো-ব্ল্যাক অ্যাকসেন্ট। বাম্পারের নিচের অংশে ছোট এয়ার ইনটেক এবং আয়তাকার ডিজাইন এলিমেন্ট রয়েছে।
গাড়িটির পাশের অংশে কোনও অতিরিক্ত জটিল ডিজাইন নেই। ব্যবহারিকতা বাড়াতে বড় দরজা ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে শিশু থেকে বয়স্ক যাত্রী, সকলের ওঠানামা সহজ হয়। রয়েছে ১৪ ইঞ্চির চার-স্পোক অ্যালয় হুইল। কালো সি-পিলারের উপর বডি-কালার অ্যাকসেন্ট গাড়িটির বক্সি ডিজাইনে কিছুটা তরুণ চেহারা যোগ করেছে।
ই-স্কাইয়ে ফেন্ডার-মাউন্টেড ইন্ডিকেটর এবং ছোট ছাদের অ্যান্টেনার মতো কিছু পুরনো ধাঁচের উপাদানও দেখা যায়। এর ফলে গাড়িটির সামগ্রিক নকশায় রেট্রো এবং আধুনিক ডিজাইনের মিশ্রণ তৈরি হয়েছে।
পিছনের অংশেও একই রেট্রো-মডার্ন ডিজাইনের ধারাবাহিকতা রয়েছে। চারপাশ ঘিরে থাকা বড় পিছনের কাচ গাড়িটিকে তুলনামূলকভাবে প্রিমিয়াম চেহারা দিয়েছে। সামনের ডিআরএলের মতো পিছনের টেল-ল্যাম্পেও সি-আকৃতির নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রিভার্স ল্যাম্প এবং ইন্ডিকেটর এখনও হ্যালোজেন প্রযুক্তির, যা গাড়িটির এন্ট্রি-লেভেল অবস্থান স্পষ্ট করে।
ই-স্কাইকে শুধুমাত্র কম দামের গাড়ি হিসেবে রাখেনি সুজুকি। এতে রয়েছে নতুন ১০.১ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, যেখানে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে সাপোর্ট রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ডিজিটাল ক্লাইমেট কন্ট্রোল, ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে, চারটি দরজায় পাওয়ার উইন্ডো, ক্রুজ কন্ট্রোল, হিটেড সিট এবং অটোমেটিক হেডল্যাম্প।
নিরাপত্তার জন্য ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক, হিল-হোল্ড কন্ট্রোল, এবিএস, সামনে ও পিছনে পার্কিং সেন্সর এবং রিয়ার ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।
পাওয়ারট্রেনের ক্ষেত্রে ই-স্কাইয়ে রয়েছে ২৬ কিলোওয়াট আওয়ারের ব্যাটারি। সুজুকির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির সর্বোচ্চ রেঞ্জ প্রায় ৩১০ কিলোমিটার হতে পারে। যদিও এখনও মোটরটির আনুষ্ঠানিক শক্তি প্রকাশ করা হয়নি। অনুমান করা হচ্ছে, এর ক্ষমতা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ পিএস হতে পারে।
ভারতে ই-স্কাইয়ের দাম কত হতে পারে, সেটিও এখনও নিশ্চিত নয়। তবে গাড়িটি যদি ভারতের বাজারে আসে, তাহলে এর দাম এমজি কমেট ইভির কাছাকাছি রাখা হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রারম্ভিক দাম প্রায় ৭ লক্ষ টাকা, এক্স-শোরুম থেকে হতে পারে। তবে মারুতি সুজুকি এখনও ভারতে ই-স্কাই লঞ্চ করার কোনও পরিকল্পনা নিশ্চিত করেনি।
ভারতে এলে ই-স্কাইয়ের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে থাকবে এমজি কমেট ইভি, টাটা টিয়াগো ইভি এবং সিট্রোয়েন ইসি৩এক্স। পাশাপাশি ভিনফাস্টও ভিএফ৩ অথবা সেটির উপর ভিত্তি করে কোনও মডেল ভারতে আনতে পারে বলে প্রত্যাশা রয়েছে। ছোট, ব্যবহারিক এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়তে থাকায় সুজুকি ই-স্কাই ভারতে এলে এই সেগমেন্টে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের