সারের ভর্তুকিতে বড় খরচ, বাজেটের ৫৬% টাকা ইতিমধ্যেই ব্যয় কেন্দ্রের - 24 Ghanta Bangla News
Home

সারের ভর্তুকিতে বড় খরচ, বাজেটের ৫৬% টাকা ইতিমধ্যেই ব্যয় কেন্দ্রের

Spread the love

নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি সারের দাম এবং দেশে ইউরিয়া উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল এলএনজির দাম তুলনামূলকভাবে বেড়েছে৷ তাই চলতি অর্থবর্ষে ইতিমধ্যেই সারের ভর্তুকিতে (Fertilizer Subsidy) প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করেছে কেন্দ্র। অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য বরাদ্দ করা ১.৭৬ লক্ষ কোটি টাকার প্রায় ৫৬ শতাংশ ইতিমধ্যেই ব্যয় হয়ে গিয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ভর্তুকির সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ৭৭,৮৭১ কোটি টাকা, ইউরিয়ার আমদানি এবং দেশের অভ্যন্তরে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য খরচ হয়েছে। ভারতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কৃষি সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম।

এছাড়া ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি, মিউরিয়েট অব পটাশ বা এমওপি এবং এনপিকে সারের আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনের জন্য এখনও পর্যন্ত প্রায় ২১,২৫৫ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।

Also Read | কৃষিখাতে বিশাল ভর্তুকি মোদী সরকারের! ৩০০০ র ইউরিয়ার বস্তা এখন মোটে ৩০০ টাকা

সরকারি আধিকারিকদের মতে, এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছনোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে চলতি অর্থবর্ষের প্রথম কয়েক মাসে বেশি পরিমাণে ভর্তুকি দেওয়ার কারণে পুরো অর্থবর্ষে সারের ভর্তুকি বাবদ ব্যয় গত অর্থবর্ষের তুলনায় আরও ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কোটি টাকা বাড়তে পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সারের ভর্তুকি বাবদ কেন্দ্রের মোট ব্যয় ছিল ২.১৭ লক্ষ কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বাড়ানোর ফলে ইউরিয়ার ভারতে পৌঁছনোর খরচও অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে প্রতি টন ইউরিয়ার ল্যান্ডেড কস্ট প্রায় ৩৯০ ডলার, যা এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ১,০০০ ডলারে পৌঁছেছিল। অর্থাৎ কয়েক মাসের মধ্যে খরচ প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে।

তবে ডিএপি এবং এমওপির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। এক বছর আগের তুলনায় জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিএপির দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৯৩১ ডলার হয়েছে। এমওপির দামও প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৩৮৩ ডলার হয়েছে।

Also Read | ইউরিয়ার দাম কমল ১২%, ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কাটতেই বড় স্বস্তি ভারতে

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতে মোট ইউরিয়া ব্যবহারের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৪ কোটি টন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি টন ইউরিয়া আমদানি করা হয়েছিল। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ইউরিয়া উৎপাদনের একটি বড় অংশের জন্য এলএনজি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে এলএনজির আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদন খরচের উপর।

ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এলএনজি এবং বিভিন্ন ধরনের সারের কাঁচামাল ও তৈরি পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র আমদানির উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করেছে এবং স্পট মার্কেট থেকেও সার কেনা শুরু করেছে।

সরকারের এই আমদানি-বৈচিত্র্যকরণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওমান, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, জর্জিয়া, নাইজেরিয়া, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, মিশর, আলজেরিয়া, তুরস্ক এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দেশ থেকে ইউরিয়া আমদানি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ডিএপি এবং এনপিকে-সহ অন্যান্য সারের জন্য রাশিয়া, মরক্কো, মিশর, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডন, দক্ষিণ কোরিয়া, তিউনিসিয়া এবং সৌদি আরবের মতো দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে। লোহিত সাগর হয়ে এই সরবরাহ আনা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম প্রতি ব্যাগে ৪,০০০ টাকার বেশি হলেও ভারতীয় কৃষকদের জন্য ইউরিয়ার খুচরো দাম এখনও ৪৫ কেজির ব্যাগে ২৬৬.৫০ টাকা রাখা হয়েছে। এই দাম ২০১৮ সালের মার্চ থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে দামের বড় ওঠানামার পরেও কৃষকদের উপর বাড়তি বোঝা চাপতে না দেওয়ার জন্য সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে দামের পার্থক্য বহন করছে।

ডিএপির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও কৃষকদের জন্য ৫০ কেজির ব্যাগের খুচরো দাম ১,৩৫০ টাকা রাখা হয়েছে বলে এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে সারের ভর্তুকি ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ দেখা গিয়েছিল ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সময় লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় সেই অর্থবর্ষে সারের ভর্তুকি বাবদ সরকারের ব্যয় রেকর্ড ২.৫৪ লক্ষ কোটি টাকাতে পৌঁছেছিল।

ভারত বর্তমানে নিজের প্রয়োজনীয় মোট সার এবং সার তৈরির কাঁচামালের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি করে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশে বিভিন্ন ধরনের সারের মোট বার্ষিক ব্যবহার ৭ কোটি টনেরও বেশি ছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম, এলএনজির খরচ এবং আমদানি সরবরাহের পরিস্থিতি আগামী দিনে কেন্দ্রের ভর্তুকি ব্যয়ের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *