বাইকের নিরাপত্তায় বড় বদল, স্পিড অ্যালার্ট থেকে রিফ্লেক্টিভ টায়ার আনছে কেন্দ্র - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাইকের নিরাপত্তায় বড় বদল, স্পিড অ্যালার্ট থেকে রিফ্লেক্টিভ টায়ার আনছে কেন্দ্র

Spread the love

নয়াদিল্লি: দেশের দুই চাকার গাড়ির নিরাপত্তা (Bike Safety) বাড়াতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম আনার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক দুই চাকার গাড়িতে অতিরিক্ত গতির সতর্কবার্তা, রিফ্লেক্টিভ টায়ার, বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য পথচারীদের সতর্ক করার শব্দ ব্যবস্থা, লেগ গার্ড এবং সাইলেন্সারের নকশায় পরিবর্তনের মতো একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। প্রস্তাবিত নিয়মগুলি ধাপে ধাপে চালু করা হতে পারে।

সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনায় দুই চাকার গাড়ির চালক ও আরোহীদের মৃত্যুর হার কমানো। বর্তমানে দেশের গাড়ির বাজারে দুই চাকার গাড়ির বিপুল আধিপত্য রয়েছে এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এই গাড়ির ব্যবহারকারীরাই অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণি।

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতে রেকর্ড ২ কোটি ১৭ লক্ষ দুই চাকার গাড়ি বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে গাড়ি বিক্রি হয়েছে ৪৬.৪৩ লক্ষ। অর্থাৎ ওই বছরে দুই চাকার গাড়ি বিক্রির সংখ্যা গাড়ির তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ। অন্যদিকে, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দুই চাকার গাড়ির চালক ও আরোহীদের মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৮১,৭৪০। পথচারীদের সঙ্গে এই সংখ্যা ধরলে দেশের মোট সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রায় ৬৭ শতাংশ এই দুই শ্রেণির মানুষের।

নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলি এআইএস-২২৩ নামে তৈরি হওয়া অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ডের অংশ হতে পারে। কেন্দ্র ধাপে ধাপে এগোনোর কথা ভাবছে। অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ে কয়েকটি ব্যবস্থা চালু করে সেগুলি বাস্তবে দুর্ঘটনা কমাতে কতটা কার্যকর হচ্ছে তা যাচাই করা হবে। এরপর সেই ফলাফল এবং নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্যান্য নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

এর ফলে একসঙ্গে সব নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে মোটরসাইকেল ও স্কুটারের দাম বাড়ানোর চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে ভারতের মতো দামের প্রতি সংবেদনশীল বাজারে নির্মাতা এবং ক্রেতাদের উপর একসঙ্গে একাধিক নতুন প্রযুক্তির খরচ চাপিয়ে না দিয়ে ধাপে ধাপে নিয়ম কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে রিফ্লেক্টিভ টায়ার। এর মাধ্যমে রাতে বা কম আলোয় পাশ থেকে দুই চাকার গাড়িকে অন্য গাড়ির চালকদের কাছে আরও দৃশ্যমান করে তোলার চেষ্টা করা হবে। দুর্ঘটনা বা বাইক পড়ে যাওয়ার সময় চালকের পা সুরক্ষিত রাখতে লেগ গার্ড বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাইলেন্সারের নকশাতেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে সাইলেন্সারের টেল-পাইপের উচ্চতা এবং উপরের দিকে তার কোণ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে যানবাহনের ধোঁয়া সরাসরি পিছনে চলা অন্য চালক বা পথচারীর দিকে না যায়। যানজটপূর্ণ রাস্তায় এই ব্যবস্থা বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত গতির ক্ষেত্রেও নতুন সতর্কতা ব্যবস্থা আসতে পারে। সিয়াম বা সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স মন্ত্রকের সঙ্গে নির্দিষ্ট গতিসীমা অতিক্রম করলে চালককে শব্দের মাধ্যমে সতর্ক করার একটি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। এর উদ্দেশ্য হল অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালানোর প্রবণতা কমানো।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

বৈদ্যুতিক দুই চাকার গাড়ির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল এবং স্কুটার তুলনামূলকভাবে নীরবে চলায় পথচারী বা অন্যান্য রাস্তা ব্যবহারকারীরা অনেক সময় তাদের উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। এই কারণে এভিএএস বা অ্যাকোস্টিক ভেহিকল অ্যালার্টিং সিস্টেম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা গাড়ি চলার সময় বাইরে নির্দিষ্ট শব্দ তৈরি করে, যাতে পথচারীরা কাছাকাছি থাকা বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্পর্কে সতর্ক হতে পারেন। ভারতে ইলেকট্রিক দুই চাকার গাড়ির ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

এছাড়াও দুই চাকার গাড়ি চালানোর সময় দু’হাত হ্যান্ডেলে না রাখার বিষয়টি নিয়েও নতুন সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। এআইএস-২২৩-এর খসড়ায় তিন স্তরের একটি ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমে দুই হাতে গ্রিপ না থাকলে গাড়ি স্টার্ট না নেওয়া, চলন্ত অবস্থায় একটি হাত সরালে শব্দ ও ভিজ্যুয়াল সতর্কবার্তা দেওয়া এবং দুই হাতই সরিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে গাড়ির গতি কমিয়ে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা সেখানে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই প্রস্তাবিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলির কার্যকারিতা যাচাই করতে দুই চাকার গাড়ি নির্মাতা এবং সিয়াম বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে আইআইটি দিল্লি এবং আইআইটি মাদ্রাস-ও রয়েছে। সব নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে প্রায় ১৮ মাস সময় লাগতে পারে বলে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন। আইআইটি দিল্লিও মন্ত্রকের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে কোনও নতুন নিয়ম বাধ্যতামূলক করার আগে সেটি দুর্ঘটনা কমাতে বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা যাচাই করার উপর জোর দিয়েছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতির সতর্কতা, রিফ্লেক্টিভ ব্যবস্থা এবং এভিএএস প্রথম পর্যায়ের নিয়মের মধ্যে থাকতে পারে। গবেষণার ফলাফল এবং পরবর্তী আলোচনার ভিত্তিতে পরে লেগ গার্ড, সাইলেন্সার সংক্রান্ত নিয়ম এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

এখনও এই প্রস্তাবগুলির কোনওটিই চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর হয়নি। তবে প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে ভারতের মোটরসাইকেল ও স্কুটারের নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং নকশায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির খরচের কারণে দুই চাকার গাড়ির দাম কতটা বাড়বে, সেটিও নির্মাতা ও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *