পূর্ব সীমান্তে এগোচ্ছে ‘মক্কা প্যাক্ট’! ‘ইসলামিক ন্যাটো’-তে যোগ দিতে কী শর্ত ঢাকার?
ঢাকা ও নয়াদিল্লি: শেখ হাসিনার প্রস্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল আসতে শুরু করেছে। এবার জোর জল্পনা, সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের…
ঢাকা ও নয়াদিল্লি: শেখ হাসিনার প্রস্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল আসতে শুরু করেছে। এবার জোর জল্পনা, সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের নবগঠিত প্রতিরক্ষা জোট, যা কূটনৈতিক মহলে ‘মক্কা প্যাক্ট’ বা ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে পরিচিত, তাতে যোগ দিতে পারে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যেই এই জোটে যোগ দেওয়ার দরজা খোলা রেখেছে। আর ভারতের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী দেশের এই পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই কপালে ভাঁজ পড়েছে সাউথ ব্লকের।
গত ৭ অগস্ট মক্কায় এক ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হল ‘যৌথ প্রতিরোধ’ বা কালেকটিভ ডিটারেন্স। সহজ কথায়, ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতোই, এই জোটের কোনও এক সদস্যের ওপর হামলা হলে, তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য হবে। যদিও এই জোটের অভিন্ন কম্যান্ড কাঠামো বা নতুন সদস্য নেওয়ার নিয়মকানুন এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে তারা যে আরও মুসলিম-প্রধান দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে, তা স্পষ্ট।
বাংলাদেশের অবস্থান
ঢাকা কি এই মক্কা প্যাক্টে যোগ দেবে? বাংলাদেশ সরকার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও, তারেক রহমান সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের দুই প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিষয়টি যদি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে হয়, তবে ঢাকা এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। খুব শিগগিরই সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমনের আমন্ত্রণে রিয়াদ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। আর সেখানেই এই জোট নিয়ে বড়সড় আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। বর্তমান বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (সবার আগে বাংলাদেশ) বিদেশনীতি নিয়ে চলছে। এই আবহে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার মাঝেই ঢাকার এই জোটে যোগদানের সম্ভাবনা নয়া জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ভারতের উদ্বেগ
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে তারা পশ্চিম এশিয়ার এই পরিস্থিতির ওপর ‘কড়া নজর’ রাখছে। প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ তাঁর এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের একাধিক সূত্র ইতিমধ্যেই মক্কা প্যাক্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে ভারতে তা চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কেন বাংলাদেশকে চাইছে জোট?
ভৌগোলিক দিক থেকে বঙ্গোপসাগরের বুকে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় সেনাবাহিনী রয়েছে তাদের। রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বিশ্বের নানা দেশের সেনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশি সেনার। জোটের যৌথ সামরিক মহড়া বা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ঢাকার এই অভিজ্ঞতা বড় হাতিয়ার হতে পারে।
লাভ-ক্ষতির হিসেব
তবে প্রশ্ন হলো, এই জোটে যোগ দিয়ে ঢাকা কী পাবে? প্রাক্তন বাংলাদেশি কূটনীতিক এম. শহিদুল ইসলামের মতে, আবেগে নয়, বাংলাদেশের উচিত লাভ-ক্ষতির কঠোর হিসেব কষে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া। তিনি জানান, চুক্তির মূল অর্থনৈতিক শক্তি সৌদি আরবের থেকে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাইবে ঢাকা। তুরস্ক দিতে পারে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। আর পাকিস্তান দিতে পারে ইসলামিক ফোরামে রাজনৈতিক সমর্থন।
তবে এই চুক্তির বড়সড় ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশ হয়তো তাদের বিদেশনীতির স্বাধীনতা হারাবে। ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব, ইরান-সৌদি সংঘাত বা অন্য কারও যুদ্ধে বিনা কারণে জড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে বাংলাদেশের সামনে। ঢাকা-ভিত্তিক গবেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, এই ধরনের সামরিক জোট ছোট দেশগুলির ওপর অহেতুক চাপ বাড়াতে পারে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি তখনই সার্থক হবে, যদি ঢাকা এই জোটে নিজেদের শর্তে দর কষাকষি করতে পারে। নিছকই প্রতীকী কারণে অন্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বাধ্যবাধকতা থাকলে এই জোট ঢাকার জন্য বুমেরাং হতে পারে। এখন দেখার, রিয়াদ সফরে গিয়ে মক্কা প্যাক্ট নিয়ে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘নাবালিকা বিবাহ সুন্নতি!’ বাংলাদেশে নাবালিকা বিবাহ নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামল মৌলবাদীরা
ভারতকে শায়েস্তা করতে বাংলাদেশে ISI র ভীত শক্ত করার বিতর্কিত বিবৃতি BNP পন্থী বিশ্লেষকের