২৩ কাশ্মীরি পণ্ডিতকে নৃশংস হত্যা! তিন দশক পর ওয়ান্ধামা গণহত্যার ফাইল ফের খুলল এসআইএ
শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরে নব্বইয়ের দশকে সন্ত্রাসবাদের চরম পর্যায়ে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বেছে বেছে হত্যার যে ঘটনাগুলি ঘটেছিল, তার দীর্ঘস্থায়ী মামলাগুলির ফের তদন্ত শুরু করল স্টেট…
শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরে নব্বইয়ের দশকে সন্ত্রাসবাদের চরম পর্যায়ে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বেছে বেছে হত্যার যে ঘটনাগুলি ঘটেছিল, তার দীর্ঘস্থায়ী মামলাগুলির ফের তদন্ত শুরু করল স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (SIA)। এই পদক্ষেপের অঙ্গ হিসেবে ১৯৯৮ সালের মর্মান্তিক ওয়ান্ধামা গণহত্যার (Wandhama massacre) ফাইল পুনরায় খোলা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশিষ্ট কাশ্মীরি পণ্ডিত নেতা টিকা লাল টাপলু এবং বিচারপতি নীলকণ্ঠ গাঞ্জু হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও গতি এনেছে এই তদন্তকারী সংস্থা।
১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি, সাধারণতন্ত্র দিবসের ঠিক প্রাক্কালে এবং রমজান মাসের পবিত্র শবে কদরের রাতে গন্দেরবল জেলার ওয়ান্ধামা গ্রামে হামলা চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। ওই এলাকার কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বাড়িতে ঢুকে নির্মমভাবে ২৩ জনকে খুন করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৯ জন মহিলা এবং ৪ জন শিশুও ছিল। দশকের পর দশক ধরে এই হত্যাকাণ্ডের কোনও কিনারা হয়নি। তবে এবার নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় সুবিচারের আশায় বুক বাঁধছেন নিহতের স্বজনেরা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ওয়ান্ধামা এবং টাপলু হত্যাকাণ্ডের সূত্রে দিন কয়েক আগেই কাশ্মীর উপত্যকার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে এসআইএ। জঙ্গিদের এবং তাদের মদতদাতাদের চিহ্নিত করাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।
টাপলু ও গাঞ্জু হত্যাকাণ্ডেও কড়া নজর
ওয়ান্ধামার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল খুনের মামলাও নতুন করে খতিয়ে দেখছে এসআইএ।
টিকা লাল টাপলু: প্রখ্যাত আইনজীবী এবং জম্মু ও কাশ্মীর বিজেপির তৎকালীন সহ-সভাপতি টিকা লাল টাপলুকে ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীনগরে তাঁর বাসভবনের কাছে গুলি করে হত্যা করা হয়। উপত্যকায় পণ্ডিতদের বেছে বেছে হত্যার শুরুর দিকের ঘটনাগুলির মধ্যে এটি ছিল অন্যতম।
বিচারপতি নীলকণ্ঠ গাঞ্জু: জেকেএলএফ (JKLF) জঙ্গি মকবুল ভাটকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারপতি নীলকণ্ঠ গাঞ্জু। এর জেরেই ১৯৮৯ সালের ৪ নভেম্বর শ্রীনগরের হরি সিং স্ট্রিটে তাঁকে গুলি করে হত্যা করে সন্দেহভাজন জেএলকেএফ জঙ্গিরা।
এসআইএ-র ধারাবাহিক পদক্ষেপ
পুরনো ও অমীমাংসিত সন্ত্রাসবাদী মামলাগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য এসআইএ সম্প্রতি আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে। এর আগে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভাট এবং লেখক সর্বানন্দ কউল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কউলের হত্যা মামলাও নতুন করে খোলা হয়েছে। গত জুন মাসে সরলা ভাট হত্যা মামলায় (১৯৯০ সাল) ৭৩৭ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে এসআইএ, যেখানে বর্তমানে জেলে বন্দি জেকেএলএফ প্রধান ইয়াসিন মালিককে মূল চক্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, গত অগাস্টে লেখক সর্বানন্দ কউলের হত্যা মামলায় জম্মু ও কাশ্মীরের ৯টি জায়গায় তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা।
আধিকারিকদের মতে, কয়েক দশক পুরনো এই মামলাগুলিতে জীবিত অভিযুক্ত, জঙ্গি ও তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত করতেই লাগাতার তল্লাশি ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এসআইএ।
বিজেপির সর্বোচ্চ পার্লামেন্টারি বোর্ডে এবার জুড়তে চলেছেন ৪ মহারথী মুখ্যমন্ত্রী
অভিষেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফের চালু, কড়া বার্তা আদালতের
একুশের পর ২৮ অগস্ট! ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস নিয়ে হাইকোর্টে মমতা-ঋতব্রত তরজা