দাম নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারি বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের
নয়াদিল্লি: বাজারে পেঁয়াজের দাম ক্রমশ বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে চাপ বাড়ছে(buffer stock)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজের দামে বড়সড় ফারাক দেখা দেওয়ার পর এবার পরিস্থিতি…
নয়াদিল্লি: বাজারে পেঁয়াজের দাম ক্রমশ বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে চাপ বাড়ছে(buffer stock)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজের দামে বড়সড় ফারাক দেখা দেওয়ার পর এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে সরাসরি বাজারে নামছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সরকারি বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (buffer stock)। একই সঙ্গে সোমবার থেকে নাসিক থেকে দিল্লি, চেন্নাই, কোচি ও গুয়াহাটির মতো তুলনামূলক বেশি দামের শহরগুলিতে পেঁয়াজ পাঠাতে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ ট্রেন। সরকারের লক্ষ্য, যেখানে জাতীয় গড়ের তুলনায় পেঁয়াজের দাম বেশি, সেখানে সরবরাহ বাড়িয়ে খুচরো বাজারের চাপ কমানো।
আরও দেখুনঃ বছরের পর বছর পড়ে থাকা পুরোনো সরকারি ফাইল-স্ক্র্যাপ বিক্রি করে ৬০০০ কোটি রোজগার মোদী সরকারের
ভোক্তা বিষয়ক দফতরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম প্রতি কেজি প্রায় ৪২ টাকা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি এবং এক মাস আগের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। তবে বেশ কিছু শহরে পরিস্থিতি আরও কঠিন।
দিল্লিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পৌঁছেছে প্রায় ৬৫ টাকায়, যেখানে এক বছর আগে একই সময়ে দাম ছিল ৩৫ টাকা। (buffer stock)চেন্নাইয়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫৮ টাকা কেজি দরে, যা গত বছরের ৩৩ টাকার তুলনায় অনেকটাই বেশি। কেরল ও অসমের বিভিন্ন এলাকাতেও পেঁয়াজের দাম জাতীয় গড়ের তুলনায় উঁচু রয়েছে।
আরও দেখুনঃ ২৩ কাশ্মীরি পণ্ডিতকে নৃশংস হত্যা! তিন দশক পর ওয়ান্ধামা গণহত্যার ফাইল ফের খুলল এসআইএ
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের পরিকল্পনা হল সরকারি মজুত থেকে ধাপে ধাপে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া। সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে না এনে পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পিত বা ক্যালিব্রেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা হবে।
এর ফলে একদিকে বাজারে জোগান বাড়বে, অন্যদিকে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর কোনও প্রবণতা থাকলে তাতেও লাগাম দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। আধিকারিকদের দাবি, আগামী কয়েক মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ সরকারি বাফার স্টক এবং কৃষকদের হাতে রয়েছে।
নাসিক থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজ পরিবহণের জন্য ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের নাসিক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেঁয়াজ উৎপাদন ও বাণিজ্যকেন্দ্র(buffer stock)। সেখান থেকে রেলপথে দ্রুত পেঁয়াজ সরিয়ে নিয়ে গেলে পরিবহণের সময় ও খরচ কমানোর পাশাপাশি ঘাটতি থাকা বাজারে দ্রুত সরবরাহ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরেও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে নাসিক থেকে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ চালানো হয়েছিল।
আরও দেখুনঃ হুগলি নদীর ধরে ৬০০ কোটি বিনিয়োগ ইডেন রিয়েলিটির! তৈরী হবে ৩ লাক্সারি হোটেল
এবার দাম বৃদ্ধির পিছনে উৎপাদনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাজারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের একাংশের মতে, মহারাষ্ট্রে খরিফ পেঁয়াজের উৎপাদন ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমতে পারে এমন রিপোর্ট বাজারে আসার পর থেকেই দামের উপর তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মহারাষ্ট্র দেশের অন্যতম বড় পেঁয়াজ উৎপাদক রাজ্য হওয়ায় সেখানে উৎপাদনের ওঠানামা সরাসরি দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।