এসইউভির দাপটেও সেডান ছাড়ছে না স্কোডা, জানালেন আশিস গুপ্ত
মুম্বই: ভারতের গাড়ির বাজারে এসইউভির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়লেও সেডান থেকে সরে আসতে চাইছে না স্কোডা অটো ইন্ডিয়া (Skoda Slavia)। বরং নতুন স্লাভিয়া ফেসলিফটের মাধ্যমে প্রিমিয়াম সেডান সেগমেন্টে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার পরিকল্পনা করছে সংস্থা। স্লাভিয়া ফেসলিফট প্রকাশের সময় এনডিটিভি অটোমেট-এর সঙ্গে কথা বলার সময় স্কোডা অটো ইন্ডিয়ার ব্র্যান্ড ডিরেক্টর আশিস গুপ্ত (Ashish Gupta ) সংস্থার এই কৌশল ব্যাখ্যা করেছেন।
আশিস গুপ্তের মতে, ভারতের সামগ্রিক গাড়ির বাজারে সেডানের অংশ কমলেও এই ধরনের গাড়ির প্রতি ক্রেতাদের আবেগ এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি বলেন, কোনও শিশুকে গাড়ি আঁকতে বললে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে তিন-বক্সের সেডান আঁকবে। তাঁর মতে, এর মধ্যেই সেডান গাড়ির প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের ভালোবাসার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
স্কোডার ক্ষেত্রে সেডানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও পুরনো। আশিস গুপ্ত জানান, স্কোডা একটি ১৩০ বছরের পুরনো সংস্থা এবং তাদের সেডান ঐতিহ্যও দীর্ঘদিনের। প্রায় ৯০ বছর আগে তৈরি প্রথম সুপার্ব থেকেই এই ঐতিহ্যের সূত্রপাত বলে তিনি উল্লেখ করেন। সুপার্ব, অক্টাভিয়া এবং র্যাপিডের পর বর্তমানে স্লাভিয়া সেই ঐতিহ্য বহন করছে।
নতুন স্লাভিয়া ফেসলিফটকে অবশ্য সম্পূর্ণ নতুন মডেল হিসেবে আনা হয়নি। বরং বর্তমান মডেলের উপর ভিত্তি করে প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং গিয়ারবক্সে বড় ধরনের উন্নতি করা হয়েছে। ইঞ্জিনের বিকল্প আগের মতোই থাকছে। ১.০ লিটার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন এবং যারা আরও বেশি পারফরম্যান্স চান তাদের জন্য ১.৫ লিটার ইঞ্জিন রাখা হয়েছে।
তবে যান্ত্রিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ১.০ লিটার টিএসআই ইঞ্জিনের সঙ্গে নতুন ৮-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্স যুক্ত হওয়ায়। আগের অটোমেটিক ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন গিয়ারবক্সটি এসেছে। সম্প্রতি কুশাকেও একই ধরনের আপডেট দেওয়া হয়েছে।
এই পরিবর্তনের পিছনে ক্রেতাদের চাহিদাই বড় কারণ বলে জানিয়েছেন আশিস গুপ্ত। তাঁর মতে, অটোমেটিক গিয়ারবক্স বরাবরই স্কোডার অন্যতম শক্তি। স্লাভিয়া এবং কুশাকের মোট বিক্রির মধ্যে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ অটোমেটিক সংস্করণের দখলে রয়েছে। ফলে শহুরে ব্যবহারে গাড়ি চালানোর সুবিধা এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত পছন্দের কথা মাথায় রেখে নতুন ৮-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্স যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন স্লাভিয়া ফেসলিফটে প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। গাড়িটিতে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, সামনের পার্কিং সেন্সর, ১০.১ ইঞ্চির ইনফোটেনমেন্ট টাচস্ক্রিন, ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং কানেক্টেড কার প্রযুক্তি।
নতুন গাড়ির অন্যতম আকর্ষণ হল গুগল জেমিনি-চালিত এআই ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট। এর মাধ্যমে আরও স্বাভাবিক ভাষায় ভয়েস কমান্ড দেওয়া এবং প্রসঙ্গ বুঝে উত্তর পাওয়ার সুবিধা মিলতে পারে।
উচ্চতর সংস্করণে পিছনের যাত্রীদের জন্য ম্যাসাজ ফাংশনও রয়েছে। এর সঙ্গে কেবিনের ব্যক্তিগতকরণের আরও কিছু সুবিধা যোগ করা হয়েছে। ফলে স্কোডা নতুন স্লাভিয়ার মাধ্যমে শুধু প্রযুক্তি নয়, আরাম এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার দিক থেকেও গাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে চাইছে।
এসইউভির দাপটের মধ্যেও স্লাভিয়ার বাজার অবস্থান স্কোডাকে সেডান নিয়ে আশাবাদী করছে। আশিস গুপ্তের দাবি, প্রিমিয়াম সেডান সেগমেন্টে স্লাভিয়ার প্রায় ৩০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে। এই অবস্থান ধরে রাখতে স্কোডা ভবিষ্যতেও সেডান সেগমেন্টে জোর দিতে চায়।
স্লাভিয়া ছাড়াও স্কোডা ভারতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সেডান ফিরিয়ে আনছে। সুপার্ব ডিজেল আবার ভারতীয় বাজারে আসতে চলেছে। বাজারে যখন পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝোঁক বাড়ছে, তখন ডিজেলচালিত ফ্ল্যাগশিপ সেডান ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কিছুটা ব্যতিক্রমী। তবে স্কোডার মতে, সুপার্ব ডিজেলের জন্য এখনও নির্দিষ্ট ক্রেতা রয়েছে।
আশিস গুপ্ত জানিয়েছেন, ইউরোপের বাজারে সুপার্ব ডিজেল ইতিমধ্যেই রয়েছে। ভারতেও সেটিই কমপ্লিটলি বিল্ট ইউনিট বা সিবিইউ হিসেবে আনা হবে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন না করে বিদেশে তৈরি গাড়ি সরাসরি ভারতে আমদানি করবে স্কোডা।
সুপার্ব ডিজেলের জন্য ইতিমধ্যেই ১৮ আগস্ট থেকে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট নেওয়া শুরু হয়েছে। আগ্রহী ক্রেতারা স্কোডা ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজেদের আগ্রহ জানাতে পারবেন। তবে গাড়িটির দাম এবং ভারতে কতগুলি গাড়ি আনা হবে, তা এখনও ঘোষণা করেনি সংস্থা। গ্রাহকদের আগ্রহের ভিত্তিতে মোট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ডেলিভারি আগামী বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
পণ্য আনার পাশাপাশি সার্ভিস নেটওয়ার্কও বাড়াচ্ছে স্কোডা। ২০২৬ সালে সংস্থা ভারতে ৩৪০টিরও বেশি কাস্টমার টাচপয়েন্ট তৈরি করেছে এবং ১৯০টি শহরে উপস্থিতি রয়েছে। দেশে সংস্থার ২০০তম ওয়ার্কশপও চালু হয়েছে। আফটার-সেলস পরিষেবা এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করার উপরও জোর দিচ্ছে সংস্থা।
স্কোডার কৌশল মূলত তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আশিস গুপ্ত। প্রথমত, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক পণ্য এবং দাম নির্ধারণ। দ্বিতীয়ত, প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যের গাড়ি দেওয়া। তৃতীয়ত, ওয়ারেন্টি এবং আফটার-সেলস পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা বাড়ানো।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্কোডা চার বছরের ওয়ারেন্টি, চার বছরের রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স, সুপার কেয়ার ওনারশিপ প্রোগ্রাম এবং উন্নত ডিলার সাপোর্টের মতো সুবিধা দিচ্ছে।
স্লাভিয়া ফেসলিফটের পরও স্কোডার ভারতের পরিকল্পনা থেমে থাকছে না। উৎসবের মরসুমে আরও একটি ব্যাচের অক্টাভিয়া আরএস, কোডিয়াক স্পোর্টলাইন এবং সুপার্ব ডিজেলের জন্য এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্টের মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
এসইউভির বাজার দ্রুত বাড়লেও স্কোডার বার্তা স্পষ্ট, সেডান এখনও তাদের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন প্রযুক্তি, অটোমেটিক গিয়ারবক্স এবং উন্নত আরামের বৈশিষ্ট্য দিয়ে স্লাভিয়াকে আরও শক্তিশালী করে সেই বাজারেই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে সংস্থা।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের