মিলেনিয়াল-দের চেয়েও দ্রুত চুল ঝরছে জেন জ়ি-র? কেন জানেন?
একসময় মানুষের ধারণা ছিল চুল পাকা বা টাক পড়া মূলত বয়স বাড়ার স্বাভাবিক লক্ষণ। কিন্তু বর্তমান সময়ে ছবিটা অনেকটাই বদলে গেছে। বয়স বিশের কোঠায় পৌঁছতে না পৌঁছতেই হেয়ার থিনিংয়ের সমস্যা শুরু হয়ে যাচ্ছে। চুল ভেঙে যাওয়া বা চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ‘জেন জ়ি’ (Gen Z) বা বর্তমান তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু কেন মিলেনিয়ালদের তুলনায় জেন জ়ি প্রজন্ম এত অল্প বয়স থেকে হেয়ার লয়ের সমস্যায় ভুগছে? অতিরিক্ত সচেতনতা নাকি সত্যিই তাদের জীবনযাত্রায় লুকিয়ে রয়েছে গভীর কোনও সমস্যা?
১. মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’
তরুণ প্রজন্মের উপর পড়াশোনার চাপ, কেরিয়ার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, আর্থিক উদ্বেগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সবসময় যুক্ত থাকার তাগিদ প্রবল। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন (AAD)-এর মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ (Telogen Effluvium) নামক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় চুলের ফলিকল অকালেই সুপ্ত বা বিশ্রামের অবস্থায় (resting phase) চলে যায় এবং হঠাৎ করেই অতিরিক্ত চুল ঝরতে শুরু করে।
২. ক্র্যাশ ডায়েট ও পুষ্টির অভাব
দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ভুল ডায়েট করার প্রবণতা জেন জ়ি-র মধ্যে খুব বেশি। যখন শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালরি বা পুষ্টি পৌঁছয় না, তখন শরীর তার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গ (যেমন হৃৎপিণ্ড বা মস্তিষ্ক) পুষ্টি পাঠাতে অগ্রাধিকার দেয়। বেঁচে থাকার জন্য চুল তেমন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নয়, তাই পুষ্টির ঘাটতি হলে সবার আগে চুলের স্বাস্থ্যে কোপ পড়ে। প্রোটিন, জ়িঙ্ক বা প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাবেই মূলত চুল পাতলা হয়ে যায়।
৩. নারীদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি
তরুণীদের মধ্যে চুল ঝরার অন্যতম প্রধান কারণ হলো শরীরে আয়রন বা ফেরিটিনের (Iron Deficiency) ঘাটতি। ভারতীয় নারীদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা অতিরিক্ত চুল ঝরার সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের সিংহভাগের শরীরেই পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং আয়রনের অভাব রয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া দেখে নিজে নিজে আয়রন বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া একদমই উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই তা করা উচিত।
৪. রাসায়নিক ও হিট স্টাইলিংয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার
জেন জ়ি-রা চুল নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসে। ঘন ঘন চুলে কালার বা ব্লিচ করা, স্ট্রেটনার ও কার্লারের মতো হিট স্টাইলিংয়ের ব্যবহার এবং চুলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে বাঁধন বা ‘স্লিকড-ব্যাক’ (Slicked-back) হেয়ারস্টাইল করা— এগুলো চুলে মারাত্মক ক্ষতি করে। এর ফলে চুলে টান পড়ে গোড়া দুর্বল হয়ে যায় কিংবা মাঝখান থেকে চুল ভেঙে যেতে শুরু করে।
সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন জি-র এই চুল ঝরার সমস্যার সিংহভাগই কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য।
-
সুষম ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া।
-
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানোর চর্চা করা।
-
চুলে অতিরিক্ত তাপ ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার কমানো।
-
চুল অতিরিক্ত ঝরলে নিজে থেকে কোনও ওষুধ না খেয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
FAQ
১. টেলোজেন এফ্লুভিয়াম (Telogen Effluvium) কী?
উত্তর: অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে যখন মাথার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি চুলের গোড়া একসাথে সুপ্ত অবস্থায় চলে যায় এবং হু-হু করে চুল ঝরতে শুরু করে, তাকে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম বলে।
২. ক্র্যাশ ডায়েটের কারণে কি চুল ঝরতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, কঠোর ডায়েটের ফলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও প্রোটিন থেকে বঞ্চিত হয়, যার প্রথম প্রভাব পড়ে চুলের স্বাস্থ্যে।
৩. হিট স্টাইলিং কী ভাবে চুল পড়া বাড়ায়?
উত্তর: অতিরিক্ত উত্তাপ এবং চুলে রাসায়নিক ব্যবহার করলে চুলের আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়, ফলে চুল দুর্বল হয়ে মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে।