ভারতে প্রথম ১০০% দেশীয় একে-203 ‘শের’ তৈরি, আমেঠিতে পরীক্ষামূলক ফায়ারিং - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভারতে প্রথম ১০০% দেশীয় একে-203 ‘শের’ তৈরি, আমেঠিতে পরীক্ষামূলক ফায়ারিং

Spread the love

নয়াদিল্লি: দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক অর্জন করল ভারত।  আমেঠির কোরওয়া অস্ত্র কারখানায় ভারতের প্রথম ১০০ শতাংশ দেশীয় উপাদান ও কাঁচামাল দিয়ে তৈরি একে-২০৩ অ্যাসল্ট…

নয়াদিল্লি: দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক অর্জন করল ভারত।  আমেঠির কোরওয়া অস্ত্র কারখানায় ভারতের প্রথম ১০০ শতাংশ দেশীয় উপাদান ও কাঁচামাল দিয়ে তৈরি একে-২০৩ অ্যাসল্ট (AK-203 Sher Rifle( রাইফেল সফলভাবে তৈরি এবং পরীক্ষামূলকভাবে ফায়ার করা হয়েছে। এই রাইফেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘শের’।

ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেড বা আইআরআরপিএল এই রাইফেল তৈরি করেছে। ২০১৯ সালে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে সংস্থাটি তৈরি হয়েছিল। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির অধীনে ভারতে একে-২০৩ রাইফেল উৎপাদনের লক্ষ্যেই এই যৌথ উদ্যোগ গড়ে ওঠে।

প্রথম ১০০ শতাংশ দেশীয় একে-২০৩ ‘শের’

আইআরআরপিএলের প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক এবং ব্যবস্থাপনা অধিকর্তা মেজর জেনারেল এস কে শর্মা সম্প্রতি এই সাফল্যের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রথম একে-২০৩ ‘শের’ রাইফেলটি ১০০ শতাংশ ভারতীয় উপাদান এবং কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে। শুধু কয়েকটি নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ দেশীয়ভাবে তৈরি করা নয়, রাইফেলটির প্রতিটি উপাদান এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি কাঁচামাল ভারতীয় শিল্পক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এর ফলে এই রাইফেলকে সম্পূর্ণ দেশীয়করণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরীক্ষামূলক ফায়ারিংয়েও মিলেছে ইতিবাচক ফল

প্রথম দেশীয় একে-২০৩ ‘শের’ রাইফেল ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলক ফায়ারিংয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে বার্স্ট ফায়ারিংও করা হয়েছে। আইআরআরপিএলের প্রধানের দাবি, প্রাথমিক পরীক্ষার ফল অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। এখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক সম্পূর্ণ দেশীয় প্রোটোটাইপ তৈরি করার কাজ চলছে। এই প্রোটোটাইপগুলি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পরীক্ষার জন্য হস্তান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেনাবাহিনীর পরীক্ষার পর রাইফেলটির কার্যক্ষমতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হবে।

প্রতি ১০০ সেকেন্ডে তৈরি হবে একটি রাইফেল

উৎপাদনের গতিও দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে আইআরআরপিএলের। সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই প্রতি ১০০ সেকেন্ডে একটি করে একে-২০৩ ‘শের’ রাইফেল উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছবে কারখানাটি। ক্ষমতা বৃদ্ধি, দেশীয় উপাদানের ব্যবহার এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার মাধ্যমে এই গতি অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই উৎপাদন ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য প্রায় ৬ লাখ একে-২০৩ রাইফেল তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সেনাবাহিনীর কাছে রাইফেল পৌঁছবে আগেই

আইআরআরপিএলের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে প্রায় ৬ লাখ রাইফেল ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সময়সীমাও এগিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার প্রধান। তাঁর দাবি, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, দেশীয়করণ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার উন্নতির কারণে এই রাইফেলগুলির সরবরাহের সময়সীমা প্রায় এক বছর এগিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে পুরনো ইনসাস রাইফেলের পরিবর্তে নতুন একে-২০৩ রাইফেল সেনাবাহিনীর হাতে দ্রুত পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

৭.৬২x৩৯ মিলিমিটার ক্যালিবারের রাইফেল

একে-২০৩ একটি আধুনিক গ্যাসচালিত অ্যাসল্ট রাইফেল। এতে ৭.৬২x৩৯ মিলিমিটার ক্যালিবারের গুলি ব্যবহার করা হয়। রাইফেলটি কালাশনিকভ প্ল্যাটফর্মের পরিচিত নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে আধুনিক নকশা এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য যুক্ত করেছে। এর মধ্যে উন্নত এর্গোনমিক্স, মডিউলার অ্যাক্সেসরি রেল এবং নির্ভুল নিশানা করার সুবিধা রয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য এই বৈশিষ্ট্যগুলি গুরুত্বপূর্ণ। একে-২০৩ প্রতি মিনিটে ৭০০ রাউন্ড পর্যন্ত গুলি ছুড়তে পারে এবং এর কার্যকর পাল্লা ৮০০ মিটার পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইনসাসের বদলে একে-২০৩

ভারতীয় সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে পুরনো ইনসাস রাইফেলের পরিবর্তে একে-২০৩ ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। অপারেশনাল নির্ভরযোগ্যতা, প্রাণঘাতী ক্ষমতা এবং ব্যবহারের সুবিধার ক্ষেত্রে একে-২০৩ পুরনো ইনসাসের তুলনায় উন্নত বলে বিবেচিত হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৬ লাখেরও বেশি স্থানীয়ভাবে তৈরি একে-২০৩ রাইফেল অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে একদিকে পুরনো অস্ত্রের পরিবর্তন হবে, অন্যদিকে ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বড় উদাহরণ

প্রথম ১০০ শতাংশ দেশীয় একে-২০৩ ‘শের’ তৈরি শুধু একটি নতুন রাইফেল উৎপাদনের ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের দাবি সামনে এসেছে। আইআরআরপিএলের পরবর্তী লক্ষ্য হল আরও বেশি সংখ্যক সম্পূর্ণ দেশীয় প্রোটোটাইপ তৈরি করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরীক্ষায় পাঠানো এবং একই সঙ্গে উৎপাদনের গতি বাড়ানো।

যদি প্রতি ১০০ সেকেন্ডে একটি রাইফেল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বড় সংখ্যায় একে-২০৩ সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতীয় উৎপাদন ব্যবস্থা আরও দ্রুত সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *