ডিজাইন, ফিচার ও ইঞ্জিনে বড় বদল কোথায়? - 24 Ghanta Bangla News
Home

ডিজাইন, ফিচার ও ইঞ্জিনে বড় বদল কোথায়?

Spread the love

গুরুগাঁও: ভারতের বাজারে প্রায় সাড়ে তিন বছর কাটানোর পর প্রথম বড়সড় ফেসলিফট পেল স্কোডা স্লাভিয়া (Skoda Slavia)। নতুন মডেলে একেবারে আমূল পরিবর্তন না হলেও ডিজাইনে বেশ কিছু সূক্ষ্ম আপডেট, কেবিনে নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন একটি ট্রিম যোগ করেছে স্কোডা।

মিডসাইজ সেডান হিসেবে নতুন স্লাভিয়া আগের মতোই ভক্সওয়াগেন ভার্টাস, হোন্ডা সিটি এবং হুন্ডাই ভার্নার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। তবে নতুন মডেলের পরিবর্তনগুলি পুরনো স্লাভিয়ার তুলনায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

সামনে ডিজাইনে এসেছে সূক্ষ্ম পরিবর্তন

নতুন স্লাভিয়ার সামনের অংশে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বাম্পারে। নতুন বাম্পারে ক্রোম ফিনিশের একটি ট্রিম স্ট্রিপ রয়েছে। এর সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ছোট এলইডি ফগ ল্যাম্প। গাড়ির গ্রিলের মূল আকৃতি আগের মতোই রাখা হয়েছে। তবে পুরনো মডেলের ক্রোম চারপাশের পরিবর্তে এবার কালো বার ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে সামনের অংশে কিছুটা বেশি স্পোর্টি চেহারা এসেছে হেডল্যাম্পের বাইরের কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে এর ভিতরের উপাদান এবং ডে-টাইম রানিং ল্যাম্পের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অর্থাৎ সামনে থেকে দেখলে নতুন স্লাভিয়াকে পুরনো মডেল থেকে আলাদা করা সম্ভব হলেও, পরিবর্তনগুলি খুব বেশি নাটকীয় নয়।

আরও পড়ুন: চার-দরজার Ford Mustang আসছে? ৪ সেকেন্ডের কমে ১০০ কিমি গতি!

পাশে মূল নকশা অপরিবর্তিত

গাড়ির পাশের অংশে স্কোডা খুব বেশি পরিবর্তন করেনি। আগের মডেলের মতোই নতুন স্লাভিয়ার মূল আকৃতি এবং মাপ রয়েছে। তবে নতুন ডিজাইনের ১৬ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল যোগ হয়েছে। এগুলিতে দুই রঙের ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা গাড়ির পার্শ্বচেহারায় কিছুটা নতুনত্ব এনেছে। পিছনের অংশেও বড় পরিবর্তনের পরিবর্তে বেশ কিছু ছোট আপডেট করা হয়েছে।

টেল-ল্যাম্পের বাইরের কাঠামো আগের মতো থাকলেও ভিতরের এলইডি উপাদান বদলানো হয়েছে। বুট লিডে নতুন প্লাস্টিক ট্রিম যোগ করা হয়েছে এবং সেখানে ‘স্কোডা’ লেখা রয়েছে। নতুন স্লাভিয়ায় দুটি নতুন রঙও যোগ হয়েছে। এগুলি হল আর্কটিক সিলভার এবং ক্যাপুচিনো বেইজ।

আরও পড়ুন:মেক ইন ইন্ডিয়ায় ফের বড় ঘোষণা! দেশীয় যুদ্ধ বিমান তৈরিতে রিলায়েন্সের সঙ্গে হাত মেলাল রোলস রয়েস

কেবিনে বড় পরিবর্তন

বাইরের তুলনায় নতুন স্লাভিয়ার কেবিনে পরিবর্তন বেশি চোখে পড়ে। সিটে এবার সম্পূর্ণ বেইজ রঙের লেদারেট ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন প্যাটার্নও রয়েছে। পুরনো মডেলের বেইজ এবং কালো দুই রঙের সিটের পরিবর্তে নতুন মডেলে আরও একরঙা ও প্রিমিয়াম লুক দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের একটি হল ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। আগের মডেলের ৮ ইঞ্চি ইউনিটের পরিবর্তে নতুন স্লাভিয়ায় ১০.২৫ ইঞ্চি ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার দেওয়া হয়েছে। ইনফোটেনমেন্ট স্ক্রিনও কিছুটা বড় হয়েছে। নতুন মডেলে রয়েছে ১০.১ ইঞ্চি ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম।

গুগল ক্লাউডের এআই সহকারী

নতুন স্লাভিয়ার ইনফোটেনমেন্ট ব্যবস্থায় গুগল ক্লাউড-চালিত একটি বিল্ট-ইন এআই সহকারী যোগ হয়েছে। এ ছাড়াও নতুন ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা থেকে পাওয়া ছবি ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেমে দেখা যাবে। ফলে পার্কিং এবং গাড়ির চারপাশের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে চালক বাড়তি সুবিধা পাবেন।

পিছনের যাত্রীদের জন্য ম্যাসাজ ফাংশন

নতুন স্লাভিয়ায় পিছনের বাইরের সিটে ম্যাসাজ ফাংশন যোগ করা হয়েছে। দীর্ঘ যাত্রায় পিছনের যাত্রীদের আরাম বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আগের মডেলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নতুন গাড়িতেও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে

  • কুলড গ্লাভ বক্স
  • সামনের ভেন্টিলেটেড সিট
  • ইলেকট্রিক সানরুফ
  • ওয়্যারলেস অ্যাপল কারপ্লে
  • অ্যান্ড্রয়েড অটো
  • অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল
  • এলইডি অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং
  • ছয়টি এয়ারব্যাগ
  • ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল
  • হিল-হোল্ড অ্যাসিস্ট
  • টায়ার-প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম

অর্থাৎ নতুন স্লাভিয়ায় মূল পরিবর্তনের পাশাপাশি আগের মডেলের গুরুত্বপূর্ণ আরাম এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলিও ধরে রাখা হয়েছে।

ইঞ্জিনে কোনও পরিবর্তন নেই

ফেসলিফট হলেও স্লাভিয়ার ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন করেনি স্কোডা। আগের মতোই দুটি পেট্রল ইঞ্জিনের বিকল্প রয়েছে। প্রথমটি হল ১.০ লিটার টিএসআই ইঞ্জিন। এটি সর্বোচ্চ ১১৫ হর্সপাওয়ার এবং ১৭৮ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে।

এই ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ৬ স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স। তবে নতুন মডেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এবার ১.০ লিটার ইঞ্জিনের সঙ্গে নতুন ৮ স্পিড টর্ক-কনভার্টার অটোমেটিক গিয়ারবক্স পাওয়া যাবে। অন্যদিকে বড় ১.৫ লিটার টিএসআই ইঞ্জিন আগের মতোই ১৫০ হর্সপাওয়ার এবং ২৫০ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। এই ইঞ্জিনের সঙ্গে শুধুমাত্র ৭ স্পিড ডুয়াল-ক্লাচ অটোমেটিক গিয়ারবক্স দেওয়া হয়েছে।

নতুন ক্লাসিক প্লাস ট্রিম

নতুন স্লাভিয়ায় শুধু ডিজাইন এবং প্রযুক্তির পরিবর্তন নয়, ট্রিমের তালিকাতেও নতুন সংযোজন রয়েছে। আগের ক্লাসিক, সিগনেচার, স্পোর্টলাইন, প্রেস্টিজ এবং মন্টে কার্লো ট্রিমের পাশাপাশি এবার ক্লাসিক প্লাস নামে একটি নতুন ট্রিম এসেছে। এই নতুন ট্রিমটি ক্লাসিক এবং সিগনেচারের মাঝখানে অবস্থান করবে। এর ফলে ক্রেতাদের জন্য স্লাভিয়ার বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ আরও বাড়ল।

নতুন স্লাভিয়া বনাম পুরনো স্লাভিয়া: মূল পরিবর্তন এক নজরে

বিষয় পুরনো স্লাভিয়া নতুন স্লাভিয়া
সামনের বাম্পার পুরনো নকশা নতুন বাম্পার ও ক্রোম ট্রিম
গ্রিল ক্রোম চারপাশ কালো বার
ফগ ল্যাম্প আগের নকশা কমপ্যাক্ট এলইডি
অ্যালয় হুইল পুরনো নকশা নতুন ১৬ ইঞ্চি দুই রঙের অ্যালয়
ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার ৮ ইঞ্চি ১০.২৫ ইঞ্চি
ইনফোটেনমেন্ট ১০.১ ইঞ্চি ১০.১ ইঞ্চি, গুগল ক্লাউড এআই সহকারী
ক্যামেরা আগের ব্যবস্থা ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা
পিছনের সিট সাধারণ বাইরের সিটে ম্যাসাজ ফাংশন
১.০ লিটার ইঞ্জিন ১১৫ হর্সপাওয়ার, ১৭৮ এনএম একই
১.০ লিটার গিয়ারবক্স ৬ স্পিড ম্যানুয়াল ৬ স্পিড ম্যানুয়াল + ৮ স্পিড টর্ক-কনভার্টার অটোমেটিক
১.৫ লিটার ইঞ্জিন ১৫০ হর্সপাওয়ার, ২৫০ এনএম একই
নতুন ট্রিম নেই ক্লাসিক প্লাস

ফেসলিফটে কতটা বদলাল স্লাভিয়া?

নতুন স্কোডা স্লাভিয়াকে সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্মের গাড়ি বলা যাবে না। এটি মূলত একটি মাঝামাঝি সময়ের আপডেট বা ফেসলিফট। বাইরের ডিজাইনে পরিবর্তনগুলি তুলনামূলকভাবে সূক্ষ্ম। কিন্তু কেবিনে বড় ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, এআই সহকারী, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং পিছনের সিটে ম্যাসাজ ফাংশনের মতো নতুন সুবিধা যোগ হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির একটি হল ১.০ লিটার টিএসআই ইঞ্জিনের সঙ্গে নতুন ৮ স্পিড টর্ক-কনভার্টার অটোমেটিক গিয়ারবক্স। একই সঙ্গে নতুন ক্লাসিক প্লাস ট্রিম ক্রেতাদের আরও একটি বিকল্প দিচ্ছে। তবে ইঞ্জিনের শক্তি এবং টর্কে কোনও পরিবর্তন না থাকায় নতুন স্লাভিয়ার মূল লক্ষ্য যে ডিজাইন, প্রযুক্তি, আরাম এবং ব্যবহারের সুবিধা বাড়ানো, তা স্পষ্ট।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *