জাপানে জোরাল ভূমিকম্প, হোক্কাইদোতে ৬.০ মাত্রার কম্পন, টোকিওতে আহত ৪০-এর বেশি
টোকিও: জাপানে রবিবার একদিনেই দ্বিতীয়বার শক্তিশালী ভূমিকম্প (Japan Earthquake) অনুভূত হল। রবিবার রাতে উত্তর জাপানের হোক্কাইদো প্রদেশের উপকূলের কাছে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। জাপান…
টোকিও: জাপানে রবিবার একদিনেই দ্বিতীয়বার শক্তিশালী ভূমিকম্প (Japan Earthquake) অনুভূত হল। রবিবার রাতে উত্তর জাপানের হোক্কাইদো প্রদেশের উপকূলের কাছে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা বা জেএমএ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সমুদ্রের নিচে প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে। এই কম্পনের পর কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এর আগে রবিবার ভোরে পূর্ব জাপানে ৫.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই কম্পনে টোকিও-সহ আশপাশের একাধিক প্রদেশে ৪০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
হোক্কাইদোতে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প
জেএমএ-র তথ্য অনুযায়ী, হোক্কাইদোর উপকূলের কাছে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ৪০ কিলোমিটার। জাপানের সাত-স্তরের ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ কম্পনের মাত্রা ছিল ৪। প্রাথমিকভাবে হোক্কাইদোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই ভূমিকম্পের পর কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ভোরের ভূমিকম্পে টোকিও-সহ একাধিক এলাকা কেঁপে ওঠে
হোক্কাইদোর ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা আগে রবিবার ভোরে পূর্ব জাপানে ৫.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। জেএমএ জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ইবারাকি প্রদেশের দক্ষিণাংশে, প্রায় ৬৮-৭০ কিলোমিটার গভীরে। টোকিও-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। জাপানের ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপকাঠিতে ইবারাকি এবং মধ্য টোকিওর কিছু এলাকায় কম্পনের মাত্রা ৫-এর নিচের স্তরে পৌঁছেছিল। ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকা কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে যাওয়া বা আসবাবপত্র ও দরজায় ধাক্কা লেগে বেশিরভাগ মানুষ আহত হন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আহত ৪০-এর বেশি, ট্রেন পরিষেবাতেও প্রভাব
প্রথম ভূমিকম্পে টোকিও এবং আশপাশের একাধিক প্রদেশে ৪০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্য একটি আপডেটে অন্তত ৩৭ জন আহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগের চোট গুরুতর নয়। ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে পরিবহণ ব্যবস্থাতেও। কিছু ট্রেন পরিষেবা দেরিতে শুরু হয় এবং কয়েকটি ট্রেন কম গতিতে চালানো হয়। কিছু এক্সপ্রেস পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। টোকিওর কোতো ওয়ার্ডে একটি জলের পাইপ ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এর সঙ্গে ভূমিকম্পের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছিল কর্তৃপক্ষ।
সুনামির আশঙ্কা নেই
দুটি ভূমিকম্পের পরই কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। পাশাপাশি জাপানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে অস্বাভাবিকতার খবরও পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে জাপান আবহাওয়া সংস্থা আরও ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছে। ফলে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
একই দিনে টোকিও-সহ পূর্ব জাপানে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প এবং রাতে হোক্কাইদোতে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ায় জাপানে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। আপাতত হোক্কাইদোর দ্বিতীয় ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না থাকলেও পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।