বদলি ১০০ ডাক্তার, প্রশ্ন উঠছে পরিষেবা নিয়েই
দীর্ঘদিন কলকাতার ‘ভালো পোস্টিং’-এ রয়েছেন বলে পরিচিত কয়েক জন চিকিৎসককে দূরবর্তী জেলায় পাঠানোয় খুশি একাংশ। বিশেষ করে তৃণমূলের প্রাক্তন চিকিৎসক-বিধায়ক এবং উত্তরবঙ্গ লবির ঘনিষ্ঠ বলে চিকিৎসক মহলে পরিচিত সুদীপ্ত রায়ের দুই মেয়ে সিটিভিএস শিল্পা বসুরায় ও গাইনি সুবেশা বসুরায়কেও এসএসকেএম থেকে মালদা ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে বদলি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ‘সবার জন্য এক নিয়ম’-এর বার্তা হিসেবেই দেখছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তবে একই সঙ্গে এসএসকেএম, এনআরএস এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে দেওয়ায় তাঁদের স্পেশ্যালাইজ়ড পরিষেবা থেকে রোগীরা বঞ্চিত হবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, নতুন বদলির জায়গায় কলেজের পরিকাঠামো তাঁদের দক্ষতার সঙ্গে কতটা মানানসই, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বদলি-তালিকায় এসএসকেএমের জেনারেল সার্জারির অধ্যাপক তথা ব্রেস্ট ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা এবং রোবটিক সার্জেন দীপ্তেন্দ্র সরকারের নাম রয়েছে। তাঁকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ কলকাতার পেডিয়াট্রিক আইসিইউ (পিকু)-এর প্রধান চিকিৎসক মিহির সরকারকে বদলি করা হয়েছে কোচবিহার মেডিক্যালে। কোচবিহারেই বদলি করা হয়েছে এনআরএসের অর্থোপেডিক্সের অধ্যাপক তথা স্পাইন সার্জন কিরণ মুখোপাধ্যায়কে। চিকিৎসক মহলের একাংশের বক্তব্য, বদলি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। সরকারি চাকরিতে তা অস্বীকার করার প্রশ্নও ওঠে না। কিন্তু কোনও বিশেষজ্ঞকে সরানোর আগে তাঁর উপযোগী নির্দিষ্ট পরিষেবার বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় থাকা জরুরি। না হলে তাঁদের বিশেষ দক্ষতার সদ্ব্যবহার হয় না।