সোমালিয়ায় জলদস্যুর কবলে তুর্কি জাহাজ! বন্দি ১০ ভারতীয় ক্রু
সোমালিয়া: সোমালিয়ার উপকূলে ফের জলদস্যুদের তৎপরতা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Somalia pirate)। এবার জলদস্যুদের কবলে পড়েছে তুরস্কের অস্ত্র বহনকারী একটি কার্গো জাহাজ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়,…
সোমালিয়া: সোমালিয়ার উপকূলে ফের জলদস্যুদের তৎপরতা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Somalia pirate)। এবার জলদস্যুদের কবলে পড়েছে তুরস্কের অস্ত্র বহনকারী একটি কার্গো জাহাজ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, জাহাজটির ১০ জনের ক্রু সদস্যের মধ্যে ছয়জনই ভারতীয় নাগরিক। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সোমালিয়ার এক সরকারি আধিকারিক এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত জাহাজে থাকা ভারতীয়-সহ অন্য ক্রু সদস্যদের বর্তমান অবস্থান বা নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
জানা গিয়েছে, ক্যামেরুনের পতাকাবাহী M/V LUTUF নামের কার্গো (Somalia pirate)জাহাজটি সোমবার সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলের কাছে জলদস্যুদের দখলে চলে যায়। জাহাজটি পুন্টল্যান্ডের ইল জেলার মারাইয়া এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে থাকাকালীন সেটি ছিনতাই করা হয়। এরপর জলদস্যুরা জাহাজটিকে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। জাহাজটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল Polar Movement Shipping।
আরও দেখুনঃ অ্যাকশন মোডে NIA! গ্রেফতার অস্ত্রপাচার করা পলাতক ভৈরব ত্রিপাঠী
জাহাজটিতে তুরস্কের সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য পাঠানো অস্ত্র ছিল। (Somalia pirate)জানা গিয়েছে, এই অস্ত্রগুলি মোগাদিশুতে থাকা একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। অস্ত্রের পাশাপাশি জাহাজে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট সংক্রান্ত সরঞ্জামও ছিল। ফলে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজের তুলনায় এই জাহাজটির কৌশলগত গুরুত্বও যথেষ্ট বেশি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
জাহাজের ১০ সদস্যের ক্রু-র মধ্যে ছয়জন ভারতীয়। এছাড়া ছিলেন একজন তুরস্কের নাগরিক, একজন জর্জিয়ার নাগরিক এবং দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তারক্ষী। (Somalia pirate)জলদস্যুরা জাহাজটি দখল করার পর তাঁদের কী পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তুরস্কের সরকারি কর্তৃপক্ষের তরফেও এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
আরও দেখুনঃ ‘দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত, তোষণের রাজনীতি’! বন্দে মাতরম বিতর্কে শাহের নিশানায় কংগ্রেস
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোট আটজন জলদস্যু এই অপহরণের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তারা এমন একটি গোষ্ঠীর সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যারা এর আগে গত ২৬ এপ্রিল M/V Sward নামে আরও একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ছিল। LUTUF-কে তারা পুন্টল্যান্ডের Dangoroyo জেলার গারমালের কাছে নিয়ে যায়।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দুটি তুরস্ক-নিয়ন্ত্রিত জাহাজ জলদস্যুদের দখলে থাকা LUTUF-এর কাছে পৌঁছয়। একই সময়ে তুরস্কের হেলিকপ্টার এবং ড্রোন ওই এলাকা নজরদারি করতে শুরু করে। জাহাজটির গতিবিধি এবং আশপাশের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে।
আরও দেখুনঃ ইটের বদলে পাটকেল! দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের বাইরের ব্যারিকেড সরাল ভারত
মঙ্গলবার আরও একটি ছোট নৌকা থেকে দুই ব্যক্তি জাহাজটির কাছে পৌঁছয়। (Somalia pirate)তাঁদের মাধ্যমে জলদস্যুদের কাছে খাট নামের একটি উত্তেজক উদ্ভিদজাত দ্রব্য পৌঁছে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। খাট সোমালিয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি উদ্দীপক, যা সাধারণত চিবিয়ে খাওয়া হয়। ওই নৌকাটি উপকূলে ফিরে যাওয়ার পরপরই এলাকায় একটি বিমান হামলা হয়। স্থানীয় আধিকারিকের দাবি, ওই হামলায় চারজন নিহত এবং আরও দু’জন আহত হন।