El Nino-এর প্রভাব খরিফ ফসলে কম, উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী কৃষিমন্ত্রী
নয়াদিল্লি: এ বছর ভারতে খরিফ ফসলের উৎপাদনে এল নিনোর (El Nino) প্রভাব খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় খরিফ ফসলের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও মোট বপন এলাকার ঘাটতি ক্রমশ কমছে।
চৌহানের বক্তব্য, গত সপ্তাহে যে এলাকায় খরিফ ফসলের পরিস্থিতি নিয়ে বেশি উদ্বেগ ছিল, সেই ঝুঁকিপূর্ণ জেলার সংখ্যা ২৬২ থেকে কমে এখন প্রায় ১০০-তে নেমে এসেছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
তবে পরিস্থিতি প্রতিদিন বদলাচ্ছে বলে সতর্কও করেছেন কৃষিমন্ত্রী। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি এখনও পর্যালোচনা করতে হবে এবং আগামী দিনে বৃষ্টিপাত ও ফসলের অবস্থার ওপর নজর রাখা প্রয়োজন।
Also Read | কৃষিখাতে বিশাল ভর্তুকি মোদী সরকারের! ৩০০০ র ইউরিয়ার বস্তা এখন মোটে ৩০০ টাকা
কমছে বপন এলাকার ঘাটতি
চলতি খরিফ মরশুমে বপন এলাকার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। গত সপ্তাহে এই ঘাটতি প্রায় ১১ শতাংশ ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই ব্যবধান কমেছে বলে জানিয়েছেন চৌহান। তাঁর আশা, আগামী দিনগুলিতে ঘাটতি আরও কমবে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে দেশের বেশিরভাগ কৃষি অঞ্চলে ফসলের বৃদ্ধির পরিস্থিতিও মোটের ওপর অনুকূল রয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, শুধু মোট উৎপাদন বাড়ানোই কৃষিক্ষেত্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। কৃষিপণ্যের গুণমান, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং রফতানির দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
রাজ্য ও জেলা অনুযায়ী কৃষির পরিকল্পনা
চৌহান রাজ্য ও জেলা-ভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতিটি অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া, জলসম্পদ এবং বাজারের চাহিদা এক নয়। তাই স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন ফসল উৎপাদন করা হবে, তার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষিক্ষেত্রের মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি উৎপাদন বাড়ানো, খরচ কমানো, গুণমান উন্নত করা এবং কৃষকদের লাভজনক দাম নিশ্চিত করার কথা বলেন।এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও জৈব কৃষি, সেচ ব্যবস্থা, ফসলের বৈচিত্র্য এবং কৃষির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য আয়ের উৎসের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
Also Read | ইউরিয়ার দাম কমল ১২%, ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কাটতেই বড় স্বস্তি ভারতে
‘খামার থেকে বিশ্ববাজারে’ পরিচয় তৈরি করতে হবে
শিবরাজ সিং চৌহানের মতে, ভারতের কৃষিকে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় কৃষিপণ্যের একটি শক্তিশালী পরিচিতি তৈরি করতে হবে।তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের গুণমান, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মান মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ভারতীয় কৃষকদের পণ্য বিদেশের বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নতমানের বীজ এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তিগুলির ব্যবহার কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। চৌহান আরও বলেন, স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর ফলে কৃষকদের আয় বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিন কোটি ‘লাখপতি দিদি’র লক্ষ্যমাত্রা পূরণ
অনুষ্ঠানে গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর করার বিষয়টিও উঠে আসে। চৌহান জানান, তিন কোটি গ্রামীণ মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। এবার প্রধানমন্ত্রী ছয় কোটি ‘লাখপতি দিদি’ তৈরির নতুন লক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, গ্রামীণ মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা উন্নত ভারত গড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। অনুষ্ঠানে ললিতা নামে এক ‘লাখপতি দিদি’ জানান, তাঁদের গ্রামে আগে সাত-আটটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ছিল। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪৩ হয়েছে। তাঁদের মাসিক আয়ও প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে।
খাদ্য উৎপাদন থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে জোর
কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের সচিব অতিশ চন্দ্র বলেন, ভারতকে শুধুমাত্র খাদ্য উৎপাদনের দিকে নজর না দিয়ে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের দিকে আরও এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্লাস্টার-ভিত্তিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। ফসলের বৈচিত্র্য নিয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। এক আখচাষি জানান, এখন তাঁরা আখের পাশাপাশি চিনাবাদামও চাষ করছেন। এর ফলে অতিরিক্ত প্রায় ১৮,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা আয় হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রকের বিভিন্ন দফতরের সচিব, প্রগতিশীল কৃষক, কৃষিপণ্য রফতানিকারক এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সামগ্রিকভাবে, বৃষ্টির ঘাটতি এবং এল নিনোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যে আপাতত খরিফ মরশুমের উৎপাদন নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা নেই। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টিপাত, মাটির আর্দ্রতা এবং ফসলের বৃদ্ধির পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত উৎপাদনের ছবি কতটা অনুকূল হবে, তা নির্ধারণ করবে।