ChatGPT for teens: এবার চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দুষ্টু কথা বললেই বাবা মা জেনে যাবে | OpenAI Launches ChatGPT For Teens: Big Safety Tweaks And Study Rules For Youngsters
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) এখন ঘরের অন্দরে পৌঁছে গিয়েছে। স্কুলের জটিল অঙ্ক মেলাতেই হোক কিংবা মনের গহিনের না-বলা কথা ভাগ করে নেওয়া, আজকের নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীরা প্রযুক্তির সঙ্গে দিনরাত এক করে ফেলছে। এত দিন স্কুলের হোমওয়ার্ক নিয়ে ফাঁকিবাজির যে অবাধ সুযোগ ছিল, নতুন নিয়মে কিন্তু তাতে এক নিমেষে তালা পড়ে গেল। আগে যেখানে চ্যাটবটে প্রশ্ন লিখে দিলেই মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয়ে যেত আস্ত প্রবন্ধ বা জটিল অঙ্কের সমাধান, এখন আর তা হবে না। থালায় সাজিয়ে সরাসরি উত্তর দেওয়ার বদলে চ্যাটবট এবার থেকে ছাত্রছাত্রীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে সাহায্য করবে। অর্থাৎ কীভাবে পড়াশোনা করলে উত্তরটা নিজে থেকে বের করা যায়, ধাপে ধাপে সেই পথ বাতলে দেবে সে। সহজ কথায়, নিজের মাথা না খাটিয়ে চটজলদি টুকে নেওয়ার দিন এবার শেষ।
শুধু পড়াশোনাই নয়, সবচেয়ে বড় বাঁধন দেওয়া হয়েছে কিশোর মনের সুরক্ষায়। নিজের ক্ষতি করা, খাওয়া-দাওয়ার বিশৃঙ্খলা কিংবা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী কোনও প্রসঙ্গ উঠলেই চ্যাটবট কথা বলা এক্কেবারে বন্ধ করে দেবে। আসলে ২০২৫ সালে আমেরিকার ‘কমন সেন্স মিডিয়া’-র এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, ওখানকার প্রায় ৭০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী একাকীত্ব কাটাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোবটের সঙ্গেই আড্ডা দিচ্ছে! মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছেড়ে যন্ত্রকে রক্তমাংসের মানুষ ভেবে ভুল করছে অনেকে। কিশোর মনের এই বিপজ্জনক মোহের কথা মাথায় রেখেই নতুন ব্যবস্থায় চ্যাটবট সাফ জানিয়ে দেবে, সে শুধুই একটা যন্ত্র, তার নিজের কোনও অনুভূতি বা আবেগ নেই।
সবচেয়ে বড় চমক আনা হয়েছে অভিভাবকদের নজরদারিতে। মা-বাবারা নিজেদের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সন্তানের অ্যাকাউন্ট জুড়ে দিয়ে নির্দিষ্ট ‘কোয়ায়েট আওয়ার্স’ বা পড়ার সময় বেঁধে দিতে পারবেন, যাতে ওই সময়ে চ্যাটবট কোনওভাবেই খোলা না যায়। তবে ব্যক্তিগত চ্যাট লুকিয়ে পড়ার সুযোগ না থাকলেও, সন্তান যদি কোনও বড় বিপদে পড়তে যায়, যেমন নিজেকে শেষ করার ভাবনা বা খাওয়ার মারাত্মক অনিয়ম, তখনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবকের ফোনে পৌঁছে যাবে জরুরি সতর্কবার্তা। কিশোর ও অভিভাবক উভয়ের সম্মতিতেই এই নজরদারি চালু করা যাবে। তবে ওপেনএআই-এর গ্লোবাল পলিসি ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান ও’লিয়ারি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মা-বাবা এই ব্যবস্থা চালু না করলেও চ্যাটবটের সুরক্ষা দেওয়াল নিজে থেকেই ছোটদের সুরক্ষিত রাখবে। ১৮ বছরের কম বয়স লুকিয়ে বড়দের মতো কথা চালালেও প্রযুক্তির বুদ্ধিমান নজরদারি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের এই নিরাপদ গণ্ডিতেই আটকে দেবে।