Tollywood Guild Election 2026: টলিপাড়ায় ‘নর্দমা’ সাফ করার কড়া হুঁশিয়ারি মিঠুনের! গিল্ডের মেগা নির্বাচনের ঘোষণা করলেন তিনি | Mithun Chakraborty Steps In to Resolve Tollywood Crisis: 26 Guild Elections Set for October 31
টলিপাড়ায় গত কয়েক মাস ধরে যেন শুধুই দুর্যোগের মেঘ! একদিকে রাজনৈতিক পালাবদল, অন্যদিকে ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া এবং গিল্ডের অন্দরে চূড়ান্ত ডামাডোল। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি থেকে শুরু করে পিয়া সেনগুপ্তের সরে যাওয়া, সব মিলিয়ে টলিউডের অবস্থা ছিল রীতিমতো সঙ্গীন। তবে এবার এই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটাতে আসরে নামলেন খোদ ‘মহাগুরু’। সোমবার নন্দনে আয়োজিত এক মেগা বৈঠকে মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও ‘নর্দমা’ তিনি থাকতে দেবেন না! এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুপারস্টার জিৎ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষের মতো তারকারা।
বৈঠকের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হল নির্বাচন। ঠিক হয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বর ফেডারেশনের আওতাধীন ২৬টি গিল্ডের নির্বাচন হতে চলেছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত ফেডারেশনের কাজ এগোবে না। এই নির্বাচন ঘিরেই এখন টলিপাড়ার অন্দরে নতুন আশার আলো।
এতদিন গিল্ডের সদস্যপদ এবং কার্ড নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন অনেককেই বেনিয়ম করে সদস্য করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এদিন চাঁচাছোলা ভাষায় জানান, এতদিন যে ‘জল ঢোকানো’ হয়েছে এবং ‘মিথ্যে কার্ড’ বিলি করা হয়েছে, তা এবার পুরোপুরি বাতিল করা হবে। অর্থাৎ, কড়া হাতে ঝাড়াই-বাছাই শুরু হচ্ছে। বৈধ সদস্যদের জন্য নতুন কার্ড তৈরি হবে। আর সেই কার্ড ছাড়া টলিউডে কাজের কোনও সুযোগ থাকবে না।
নির্বাচন ঘিরে কখনও যাতে দুর্নীতি বা কারচুপি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছেন মিঠুন। কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, যতদিন নির্বাচন চলবে ততদিন তাঁর ‘চোখ খোলা থাকবে’। দরকারে জোর করে টলিপাড়ার সমস্ত নোংরামি তিনি সরিয়ে দেবেন। এর পাশাপাশি সর্বভারতীয় কাঠামোর বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেন তিনি। মিঠুন বুঝিয়ে দেন, “কনফেডারেশন হল ফাদার বডি, পুরো ভারত মিলে। ফেডারেশনে সমস্যা হলে তবেই কনফেডারেশনের দ্বারস্থ হবে।” এরই পাশাপাশি মেকআপ গিল্ডের দীর্ঘদিনের সমস্যাও উঠে আসে এদিনের আলোচনায়। মেকআপ আর্টিস্টদের একাংশের অভিযোগ ছিল প্রাক্তন নেতৃত্ব এবং বাপি মালাকারের বিরুদ্ধে। মিঠুনের কড়া বার্তা, সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া বেনামি টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে, নইলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোটা প্রক্রিয়ায় দারুণ আশাবাদী প্রযোজক-অভিনেতা জিৎ। বৈঠক শেষে তিনি জানান, মিঠুনদাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং দ্রুত সব সমস্যা মিটে যাবে। আগামী দিনে ইম্পা (EIMPA)-র নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ম্যানেজার্স গিল্ডের তরফে নিরুপম দে এই সিদ্ধান্তে খুশি হলেও, স্বচ্ছতার স্বার্থে একজন সরকারি আধিকারিক রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত রুদ্রনীল ঘোষও অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি বলেন, “সমস্ত টেকনিশিয়ানরা খুশি হলেন, পরিচ্ছন্ন টলিউড আমরা চাই। অবশেষে সব দুর্যোগ কাটার আনন্দে রয়েছেন টেকনিশিয়ানরা।” তিনি আরও জানান যে, সব নির্বাচন মেটার পর প্রযোজকদের নির্বাচন হবে এবং তারপর চূড়ান্তভাবে ঠিক করা হবে কীভাবে ইন্ডাস্ট্রি চলবে। রুদ্রনীলের কথায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে বেনিয়ম যাঁরা করছেন এখন তাঁদের নিয়মে আসতে বলেছেন মিঠুন। জুনিয়র আর্টিস্টরা গিল্ডের মধ্যেই থাকবেন, ফেডারেশনের মধ্যেই থাকবেন। চিন্তার কোনও কারণ নেই, যোগ্যরা কাজ করবেন, ভেজালরা সরে যাবেন।”
সব মিলিয়ে টলিপাড়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে ফের ছন্দে ফেরানোর কাজটা শুরু হয়ে গিয়েছে। গিল্ড কার্ডের জট কাটিয়ে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে কারা নতুন নেতৃত্বে আসেন, এখন নজর সেদিকেই!