সারাদেশে মহিলাদের বোরখা পরায় নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করল পর্তুগাল সরকার
পর্তুগালের সংসদ সম্প্রতি জনসাধারণের স্থানে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ (Portugal)করে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন অনুমোদন করেছে। এই আইনের ফলে বোরকা, নিকাবসহ এমন কোনো পোশাক…
পর্তুগালের সংসদ সম্প্রতি জনসাধারণের স্থানে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ (Portugal)করে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন অনুমোদন করেছে। এই আইনের ফলে বোরকা, নিকাবসহ এমন কোনো পোশাক যা মুখের পরিচয় লুকিয়ে রাখে, তা প্রকাশ্য স্থানে পরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
আইনটি মূলত জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংসদে বলা হয়েছে, যদিও এর প্রভাব ইসলামিক মুখঢাকা পোশাকের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। হিজাবের মতো যেসব পোশাক মুখ খোলা রাখে, সেগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।আইন অনুযায়ী, প্রকাশ্য স্থানে মুখ ঢেকে রাখলে জরিমানা হতে পারে দুইশ থেকে চার হাজার ইউরো পর্যন্ত, যা প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন ডলারের সমতুল্য।
আরও দেখুনঃ পাকিস্তানকে ফের রক্তাক্ত করল BLA! শেষ ৮ দিনে শেষ ২৬ পাক সেনা
আর যদি কেউ অন্য কাউকে, বিশেষ করে নারীদের, (Portugal)জোর করে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই বিধানটি নারীদের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। আইনে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে, যেমন উপাসনালয়, বিমান, কূটনৈতিক স্থাপনা বা স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে মুখ ঢাকার অনুমতি থাকবে। তবে রাস্তাঘাট, পার্ক, গণপরিবহন বা অন্যান্য প্রকাশ্য স্থানে এটি প্রযোজ্য হবে না।
এই আইনটি মূলত ডানপন্থী চেগা দলের উদ্যোগে প্রস্তাবিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থনে সংসদে পাস হয়। আইন প্রণয়নের সময় ধর্মীয় উল্লেখ সরাসরি এড়িয়ে জননিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা কমে।
তবুও মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ (Portugal)বিভিন্ন মহল এটিকে বৈষম্যমূলক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছে। তারা বলছেন, এটি মূলত মুসলিম নারীদের ওপর প্রভাব ফেলবে যারা নিকাব বা বোরকা পরতে পছন্দ করেন।
আরও দেখুনঃ আফগানিস্তানে তালিবান শাসনের ৫ বছর! গভীর উদ্বেগে রাষ্ট্রসঙ্ঘ
অন্যদিকে সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, মুখের পরিচয় প্রকাশ্যে রাখা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক শর্ত এবং এটি নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।পর্তুগালের এই পদক্ষেপ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডসসহ একাধিক দেশে ইতিমধ্যেই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু রয়েছে।
পর্তুগালে (Portugal)মুসলিম জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম এবং পূর্ণ মুখঢাকা পোশাকের ব্যবহারও বিরল। তার পরও এই আইন নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কেউ এটিকে জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে ইসলামোফোবিয়া বলে অভিহিত করছেন।আইনটি এখন প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট চাইলে এতে স্বাক্ষর করতে পারেন, ভেটো দিতে পারেন অথবা সাংবিধানিক আদালতে পাঠাতে পারেন।
যদি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়, তাহলে পর্তুগাল (Portugal)ইউরোপের সেইসব দেশের তালিকায় যোগ দেবে যারা প্রকাশ্যে মুখ ঢেকে রাখার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন এটি একটি দেশের নিজস্ব পরিচয় রক্ষার অধিকার, আবার কেউ এটিকে বহুত্ববাদী সমাজের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।