দিল্লি জল বোর্ড টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈন
নয়াদিল্লি: দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা সত্যেন্দ্র জৈনকে (Satyendar Jain) দিল্লি জল বোর্ডের একটি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার…
নয়াদিল্লি: দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা সত্যেন্দ্র জৈনকে (Satyendar Jain) দিল্লি জল বোর্ডের একটি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। অর্থপাচার মামলায় প্রায় ১৮ মাস জেলে থাকার পর ফের গ্রেফতার হলেন আপের এই প্রবীণ নেতা।
মঙ্গলবার দিল্লির অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ (এসিবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দিল্লি জল বোর্ডের নিকাশি শোধনাগারগুলির উন্নয়ন সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম, টেন্ডারের শর্তে কারচুপি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছিল। দিল্লির ডিরেক্টরেট অব ভিজিল্যান্সের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পর মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সত্যেন্দ্র জৈন ছাড়াও রয়েছেন দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন সিইও উদিত প্রকাশ রাই, প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, এএন এন্টারপ্রাইজেসের মালিক নাগেন্দ্র যাদব, ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক রাজা কুমার কুররা এবং শ্রীজনহার-এর মালিক পঙ্কজ বর্মা।
কী অভিযোগ দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডারে?
অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চের দাবি, নিকাশি শোধনাগারগুলির উন্নয়নের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এমন কিছু প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং শর্ত রাখা হয়েছিল, যা নির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তি সরবরাহকারী সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই টেন্ডারে ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডকে সুবিধা করে দেওয়ার মতো শর্ত রাখা হয়েছিল। প্রস্তাবিত পাইলট স্টাডিও করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পাশাপাশি, টেন্ডারে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা এবং শোধিত বর্জ্যজলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মানদণ্ড বাদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অর্থ লেনদেনের জন্য শ্রীজনহার এবং এএন এন্টারপ্রাইজেসের মতো মধ্যস্থতাকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
এসিবি আরও জানিয়েছে, তদন্তে উদিত প্রকাশ রাইয়ের বিরুদ্ধে ১.৫২ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এএন এন্টারপ্রাইজেসের মালিক নাগেন্দ্র যাদবের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে রাই এবং তাঁর আত্মীয়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই অর্থ পাঠানো হয়েছিল। পরে সেই অর্থ দিয়ে অস্থাবর সম্পত্তি কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
গ্রেফতার নিয়ে আপের পাল্টা দাবি
সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেফতারির পরই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আম আদমি পার্টি এই গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। আপের জাতীয় মিডিয়া ইনচার্জ অনুরাগ ধান্ডা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, যে সময় দিল্লি জল বোর্ডের ওই টেন্ডার হয়েছিল, সেই সময় সত্যেন্দ্র জৈন জেলে ছিলেন। তাঁর দাবি, জেলে থাকা অবস্থায় কীভাবে তিনি ওই টেন্ডার সংক্রান্ত অনিয়মের জন্য দায়ী হতে পারেন?
ধান্ডার অভিযোগ, পঞ্জাবে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সত্যেন্দ্র জৈনকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি পঞ্জাবে দলের সহ-ইনচার্জ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে আপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আপ প্রধান এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও গ্রেফতারির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশেই সত্যেন্দ্র জৈনকে ফের গ্রেফতার করা হয়েছে। আগের মামলার মতো এই মামলাটিও শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেছেন কেজরিওয়াল।
তদন্তে আরও কয়েকজন গ্রেফতার
দিল্লির অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ জানিয়েছে, দীর্ঘ তদন্তের পর এই মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে দিল্লি জল বোর্ডের নিকাশি শোধনাগার উন্নয়নের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল যাতে নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সরবরাহকারী সুবিধা পায় এবং পরে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থের লেনদেন করা হয়।
অন্যদিকে, সত্যেন্দ্র জৈন এবং আম আদমি পার্টি এই অভিযোগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে গ্রেফতারির পর এখন মামলাটি শুধু দুর্নীতির তদন্তেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, দিল্লির রাজনীতিতেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের