Ananya Raj Demise: মাত্র ২৭ বছরেই প্রয়াত ‘Ghost’ খ্যাত অভিনেত্রী, এক মাস পর সামনে এল দুঃসংবাদ | Actress Ananya Raj Passes Away at 27: Family Confirms After a Month
রাজত্ব ফুরোল বড্ড তাড়াতাড়ি! বয়স মাত্র ২৭। সবে তো কেরিয়ারের শুরু, খোলা আকাশে ডানা মেলার সময়। কিন্তু তার আগেই সব শেষ। স্বপ্নের উড়ান মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন বলিউড ও দক্ষিণী ছবির অভিনেত্রী অনন্যা রাজ। দীর্ঘ শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার পর বড্ড অকালেই বিদায় নিলেন এই তরুণী। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া, এক লহমায় অবসান হল একরাশ রঙিন স্বপ্নের।
আর কোনও শুটিংয়ের তাড়া নেই। সব কোলাহল সরিয়ে রেখে জীবনের মঞ্চ থেকে চিরকালের মতো ছুটি নিলেন অনন্যা। গত ১৫ জুলাই ঘুমের মধ্যেই শান্তিতে চলে গিয়েছেন তিনি। এতদিন এই খবর বাইরের কেউ ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনি। অবশেষে দীর্ঘ এক মাস পর, ১৫ অগস্ট ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে এই দুঃসংবাদ জানিয়েছে শোকস্তব্ধ পরিবার।
তাঁর এই চিরবিদায়ের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শারীরিক এবং মানসিক কষ্টে ভুগছিলেন অনন্যা। একজন যোদ্ধার মতো দীর্ঘ দিন ধরে তিনি লড়াই করেছেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষমেশ ঘুমের ঘোরেই সব শেষ হয়ে গিয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে পরিবারের সেই পোস্টে লেখা হয়েছে, “অনেক কষ্ট নিয়ে জানাচ্ছি যে গত ১৫ জুলাই ভোরবেলা আমাদের অনন্যা চলে গিয়েছে। ও ঘুমের মধ্যেই শান্তিতে চলে গিয়েছে।” এর সঙ্গেই তাঁরা লিখেছেন, অনন্যা ঠিক রানির মতোই জীবন কাটিয়েছে। পরিবারের তরফে অনুরাগীদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁরা যেন এই কঠিন সময়ে অভিনেত্রীর আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন এবং পরিবারকে একটু একান্তে থাকতে দেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে তাঁরা আর কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আনেননি।
পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমার দুনিয়ায় খুব অল্প দিনেই নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। মুম্বইয়ে জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা অনন্যা ২০১৬ সালে ‘৭ আওয়ারস টু গো’ (7 Hours to Go) ছবির হাত ধরে বলিউডে পা রাখেন। এরপর ২০১৭ সালে ‘দ্য ফাইনাল এক্সিট’ এবং ২০১৯ সালে ‘ঘোস্ট’ ছবিতে তিনি নজর কাড়েন। শুধু বলিউড নয়, দক্ষিণী সিনেমাতেও তিনি নিজের প্রতিভার ছাপ রেখে গিয়েছেন। ২০২২ সালে তেলেগু ভাষার সাসপেন্স থ্রিলার ‘থাগগেদে লে’-তে তিনি অনবদ্য কাজ করেন। কাজ করার কথা ছিল ‘মাদ্রাজ গ্যাং’ নামের আরও একটি ছবিতে।
কিন্তু সে সব আর হল না। এত কম বয়সে বিনোদনের জগতে যে গভীর শূন্যতা তিনি তৈরি করে গেলেন, তা আর কখনও পূরণ হওয়ার নয়। মৃত্যুর কাছে শরীর হার মানলেও, নিজের কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি দর্শকের হৃদয়ের মণিকোঠায় আজীবন বেঁচে থাকবেন।