ডাস্টার থেকে ক্রেটা, সেলটোস! শিগগিরই হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন পাচ্ছে ৩ SUV - 24 Ghanta Bangla News
Home

ডাস্টার থেকে ক্রেটা, সেলটোস! শিগগিরই হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন পাচ্ছে ৩ SUV

Spread the love

কলকাতা: মাঝারি আকারের এসইউভি বাজারে এবার আরও জোরালোভাবে ঢুকতে চলেছে হাইব্রিড প্রযুক্তি (Hybrid SUV)। রেনল্ট, হুন্ডাই এবং কিয়া তাদের জনপ্রিয় এসইউভিগুলির জন্য শক্তিশালী হাইব্রিড প্রযুক্তি…

কলকাতা: মাঝারি আকারের এসইউভি বাজারে এবার আরও জোরালোভাবে ঢুকতে চলেছে হাইব্রিড প্রযুক্তি (Hybrid SUV)। রেনল্ট, হুন্ডাই এবং কিয়া তাদের জনপ্রিয় এসইউভিগুলির জন্য শক্তিশালী হাইব্রিড প্রযুক্তি বা স্ট্রং হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন প্রস্তুত করছে। ডিজেল ও সাধারণ পেট্রল ইঞ্জিনের বিকল্প হিসেবে এই প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে গাড়ি নির্মাতারা। বিশেষ করে ভবিষ্যতে আরও কড়া নির্গমন বিধি কার্যকর হলে হাইব্রিড প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই মুহূর্তে রেনল্ট ডাস্টার, হুন্ডাই ক্রেটা এবং কিয়া সেলটোস, এই তিনটি মডেলেই স্ট্রং হাইব্রিড প্রযুক্তি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

রেনল্ট ডাস্টার হাইব্রিড

এই তিনটি মডেলের মধ্যে রেনল্ট ডাস্টারই প্রথম স্ট্রং হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন পেতে পারে। রেনল্ট জানিয়েছে, ডাস্টারের হাইব্রিড সংস্করণ ২০২৬ সালের দীপাবলির সময়ের কাছাকাছি বাজারে আসতে পারে। এই মডেলে থাকতে পারে ১.৮ লিটারের চার সিলিন্ডার পেট্রল ইঞ্জিন। এর সঙ্গে থাকবে ৪৯ বিএইচপি-র বৈদ্যুতিক মোটর, ২০ বিএইচপি-র হাইব্রিড স্টার্টার জেনারেটর এবং ১.৪ কিলোওয়াটঘণ্টার ব্যাটারি প্যাক

সব মিলিয়ে ডাস্টার হাইব্রিডের সম্মিলিত ক্ষমতা প্রায় ১৬০ বিএইচপি এবং সর্বোচ্চ টর্ক ১৭২ এনএম হতে পারে। ফলে এটি শুধুমাত্র বেশি মাইলেজ দেওয়ার জন্য তৈরি হাইব্রিড এসইউভি হবে না। বড় পেট্রল ইঞ্জিন এবং বৈদ্যুতিক মোটরের সহায়তায় পারফরম্যান্সের দিক থেকেও এটি আকর্ষণীয় হতে পারে।

হুন্ডাই ক্রেটা হাইব্রিড

হুন্ডাইও ক্রেটার জন্য স্ট্রং হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তি ডাস্টারের পরে আসতে পারে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ক্রেটা হাইব্রিড বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় সংস্করণে হাইব্রিড সিস্টেমের সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে মাঝারি আকারের এসইউভি বিভাগে ডিজেল ইঞ্জিনের উপর নির্ভরতা কমাতে হুন্ডাইয়ের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে ক্রেটায় পেট্রল এবং ডিজেল, দুই ধরনের পাওয়ারট্রেনই পাওয়া যায়। সেই তালিকায় স্ট্রং হাইব্রিড যুক্ত হলে ক্রেতাদের সামনে আরও একটি বিকল্প তৈরি হবে।  বিশেষ করে যারা বেশি জ্বালানি সাশ্রয় চান, কিন্তু পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়িতে যেতে এখনও প্রস্তুত নন, তাদের কাছে ক্রেটা হাইব্রিড আকর্ষণীয় হতে পারে। শহরের যানজটে কম গতিতে বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে চলার সুবিধাও এই প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কিয়া সেলটোস হাইব্রিড

হুন্ডাইয়ের পাশাপাশি কিয়াও সেলটোসের জন্য একই ধরনের পরিকল্পনা করছে। পরবর্তী প্রজন্মের সেলটোস বর্তমানে পেট্রল এবং ডিজেল ইঞ্জিনের সঙ্গে বাজারে রয়েছে। তবে ২০২৭ সালে সেলটোসের স্ট্রং হাইব্রিড সংস্করণও লাইনআপে যুক্ত হতে পারে। হুন্ডাই এবং কিয়া একই গোষ্ঠীর অংশ হওয়ায় হাইব্রিড প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই সংস্থা একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। তবে সেলটোস হাইব্রিডের চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এই মডেলের ক্ষেত্রে হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ জ্বালানি খরচ নিয়ে ক্রেতাদের সচেতনতা বাড়ছে। টয়োটা এবং মারুতির জনপ্রিয় স্ট্রং হাইব্রিড এসইউভিগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কিয়ার হাতে একটি নতুন অস্ত্র দিতে পারে হাইব্রিড সেলটোস।

স্ট্রং হাইব্রিড কীভাবে কাজ করে?

স্ট্রং হাইব্রিড এবং মাইল্ড হাইব্রিড এক নয়। স্ট্রং হাইব্রিড ব্যবস্থায় গাড়ি কিছু সময়ের জন্য শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক শক্তিতেও চলতে পারে। বেশি শক্তির প্রয়োজন হলে পেট্রল ইঞ্জিন কাজ শুরু করে। এই ব্যবস্থার ব্যাটারি চার্জ করতে আলাদা করে চার্জারে গাড়ি লাগানোর প্রয়োজন হয় না। গাড়ি চলার সময় ব্রেক করার ফলে উৎপন্ন শক্তি এবং ইঞ্জিনের মাধ্যমে ব্যাটারিতে শক্তি সঞ্চিত হয়।

ফলে শহরের থেমে থেমে চলা যানজটে বৈদ্যুতিক মোটর বেশি কাজে আসতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘ দূরত্বে ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার চিন্তা থাকে না, কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী পেট্রল ইঞ্জিন গাড়িকে চালিয়ে যেতে পারে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির আগে হাইব্রিড কি বিকল্প হতে পারে?

যে সমস্ত ক্রেতা এখনও সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার বিষয়ে নিশ্চিত নন, তাদের কাছে স্ট্রং হাইব্রিড একটি মধ্যবর্তী সমাধান হতে পারে। এতে শহরে বৈদ্যুতিক মোটরের সুবিধা পাওয়া যায়, আবার দীর্ঘ দূরত্বে চার্জিং পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করতে হয় না।

রেনল্ট ডাস্টার ২০২৬ সালের দীপাবলির সময়ের কাছাকাছি হাইব্রিড সংস্করণ পেলে এই দৌড়ে প্রথমে থাকবে। এরপর ২০২৭ সালে হুন্ডাই ক্রেটা এবং কিয়া সেলটোসের হাইব্রিড সংস্করণ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী এক থেকে দুই বছরে ভারতের মাঝারি আকারের এসইউভি বাজারে স্ট্রং হাইব্রিড প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *