‘আমি দিমাগী নকশাল হয়ে গর্বিত!’ মোদীকে পাল্টা চিদাম্বরমের
নয়াদিল্লি: স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Chidambaram)‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সশস্ত্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের সাফল্যের…
নয়াদিল্লি: স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Chidambaram)‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সশস্ত্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি মোদী সতর্ক করেছিলেন এমন কিছু মানুষের বিরুদ্ধে, যাঁরা তাঁর ভাষায় নকশালপন্থী মতাদর্শকে ব্যবহার করে দেশের তরুণদের প্রভাবিত ও ‘ব্রেনওয়াশ’ করার চেষ্টা করছেন।
এই মন্তব্যের পরদিনই বিরোধী শিবির থেকে একের পর এক তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম থেকে শুরু করে জয়রাম রমেশ, প্রশান্ত ভূষণ-সহ একাধিক নেতা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।
আরও দেখুনঃ ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনে নয়া মোড়! সরকারকে ১৮ তারিখের ডেডলাইন বিক্ষোভকারীদের
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদী বলেন, (Chidambaram)নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গলে সশস্ত্র মাওবাদী বিদ্রোহের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু তাঁর দাবি, নকশাল মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু মানুষ এখনও সুযোগ খুঁজছেন, যাতে সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করা যায় এবং দেশের যুব সমাজকে প্রভাবিত করা যায়। এই ধরনের ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে দেশের উন্নয়ন ও নির্মাণের মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মোদীর এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি চিদম্বরম সরাসরি বলেন, ‘আমি দিমাগি নকশাল হতে গর্বিত।’ তাঁর এই মন্তব্যকে মোদীর বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবেই দেখছে কংগ্রেস।
দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও প্রধানমন্ত্রীকে (hidambaram)নিশানা করে বলেন, ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধের ব্যবহার তাঁর হতাশার লক্ষণ। তাঁর দাবি, এর আগে সমালোচকদের ‘আরবান নকশাল’ বলা হত, এখন সেই জায়গায় এসেছে নতুন শব্দ।
আরও দেখুনঃ হেলিকপ্টার ‘প্রচন্ড’ তৈরিতে আদানি ডিফেন্স-BEML র সঙ্গে হাত মেলাল HAL
জয়রাম রমেশ আরও প্রশ্ন তোলেন, সরকারের নীতির সমালোচনা করা বা কোনও বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলেই কি কাউকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলা যায়? তাঁর বক্তব্যে জাতি গণনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। রমেশ দাবি করেন, একসময় যারা জাতগণনার দাবি তুলেছিল, পরবর্তীতে সরকারই সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। তাঁর যুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার বা নীতিগত পরিবর্তনের দাবি তোলা যদি ‘দিমাগি নকশাল’ হওয়ার পরিচয় হয়, তাহলে রাজনৈতিক বিতর্কের জায়গা কোথায় থাকবে?
কংগ্রেসের পাশাপাশি অন্য বিরোধী নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন (Chidambaram)। আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী কাদের ‘ইন্টেলেকচুয়াল নকশাল’ বলছেন। তাঁর মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করা তরুণরা কিংবা সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করা ছাত্রছাত্রীরাও কি এই তকমার আওতায় পড়বেন?
অন্যদিকে, ‘Cockroach Janta Party’-র সৌরভ দাসও মোদীর মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের সমস্যার সমাধান চাওয়া শিক্ষিত তরুণদের ঢালাওভাবে ‘নকশাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, সরকারের সমালোচনা করা বা প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক অধিকার, আর সেই কারণে কাউকে রাষ্ট্রবিরোধী বা নকশালপন্থী বলে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয়।