তৃণমূল প্রধানকে গণধোলাই, প্রাক্তন বিধায়ককেও হেনস্থা - 24 Ghanta Bangla News
Home

তৃণমূল প্রধানকে গণধোলাই, প্রাক্তন বিধায়ককেও হেনস্থা

Spread the love

এই সময়, দত্তপুকুর ও নৈহাটি: দেড় মাস জেল খাটার পর বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত অফিসে আসতেই বিজেপি কর্মীদের রোষের মুখে পড়তে হলো দত্তপুকুরের কাশিমপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান মেঘনাদ দাসকে। প্রধান–সহ তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত বোর্ডের সদস্যদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভও দেখান বিজেপি কর্মীরা। দত্তপুকুর থানার পুলিশ পঞ্চায়েত প্রধানকে উদ্ধার করতে এলে পুলিশের সামনেই মেঘনাদ দাসকে ধরে চলে গণধোলাই। মাটিতে ফেলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। কোনও রকমে পঞ্চায়েত প্রধানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় কাশিমপুর পঞ্চায়েতের সামনে।

অন্যদিকে, তোলাবাজি এবং ২০২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দিন কয়েক আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে এ দিন কিছু ঘটনার পুনর্নির্মাণ করায় নৈহাটি থানার পুলিশ। এ দিন সনৎকে রাস্তায় ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন এলাকার মানুষজন। একজন ঘুসি মারবে বলেন তেড়ে যায় তাঁর দিকে। তবে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা থাকায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বারাসত–১ ব্লকের দত্তপুকুরের কাশিমপুর পঞ্চায়েতের প্রধান মেঘনাদ দাসের তৃণমূল জমানায় দাপট ছিল যথেষ্ট। ২০২১–এর বিধানসভা থেকে ২০২৩–এর পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের পর তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের মারধর করা, মিথ্যে অভিযোগে জেল খাটানো, স্থানীয়দের জমি জোর করে দখল এবং তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। পালাবদল হতেই তোলাবাজি, ভোট পরবর্তী হিংসা–সহ একাধিক অভিযোগে মেঘনাদ দাসকে গ্রেপ্তার করে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। দেড় মাস জেল খাটার পর সম্প্রতি জামিন পান মেঘনাদ।

জেল থেকে বেরনোর পর এ দিন কাশিমপুর পঞ্চায়েতে এসে মিটিং করেন মেঘনাদ। এই খবর চাউর হতেই পঞ্চায়েতের সামনে জড়ো হন বিজেপি কর্মীরা। প্রধান–সহ পঞ্চায়েত বোর্ডের সদস্যদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ প্রধানকে উদ্ধার করতে আসে। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই প্রধানকে ধরে মারধর করে বিজেপি কর্মীরা। বেধড়ক মারধর করে মেঘনাদকে মাটিতে ফেলে গণধোলাই দেওয়া হয়। কয়েকজন প্রধানের গায়ে, মুখে রাস্তার কাদা ছুড়তে থাকে।

বিজেপি নেতা অনন্তদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মেঘনাদ দাস যে ভাবে এলাকায় তোলাবাজি থেকে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে, তাতেই জনরোষের শিকার হতে হয়েছে। আমরা এই প্রধান ও পঞ্চায়েত বোর্ডের সদস্যদের পদত্যাগের দাবি করছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা জয়ন্তী দত্ত বলেন, ‘আমার জমি জোর করে দখল করেছিলেন মেঘনাদ দাস। আমরা ওর পদত্যাগ চাই।’

অন্যদিকে, নৈহাটির ৬ নম্বর বিজয়নগরে এ দিন সকালে পরপর কয়েকটি পুলিশের গাড়ি এসে থামে। ওই এলাকাতেই বাড়ি প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে–র। নীল শার্ট ও ছাইরঙা প্যান্ট পরা সনৎকে গাড়ি থেকে নামাতেই লোকজনের ভিড় জমতে শুরু করে। এলাকায় ঘোরানোর সময় আশেপাশের বাড়ি ও পথচলতি অনেকেই চোর স্লোগান দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তুলে ফের থানায় নিয়ে যায়। সে সময়ে কয়েকজনকে পুলিশের গাড়ির পিছনে ধাওয়া করতেও দেখা যায়।

এ দিন সনৎকে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘উনি বড় নাট্যকার।’ রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, ‘সনৎ দে নৈহাটিতে যা যা অত্যাচার করেছে, তাতে মানুষ অনেক কম প্রতিক্রিয়াই দিয়েছে। বিজেপি কর্মীদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধর করা থেকে শুরু করে মহিলা কর্মীদের শ্লীলতাহানি সবই করেছে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *