আইসক্রিম খাওয়ার পরেই ‘ব্রেন ফিজ়’, কেন এমনটা হয় জানেন? কাদের ঝুঁকি বেশি? - 24 Ghanta Bangla News
Home

আইসক্রিম খাওয়ার পরেই ‘ব্রেন ফিজ়’, কেন এমনটা হয় জানেন? কাদের ঝুঁকি বেশি?

Spread the love

চড়া রোদ কিংবা ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি পেতে এক-আধটা আইসক্রিম খেতে বা একটু বরফ দেওয়া ঠান্ডা পানীয়ে চুমুক দিতে মন্দ লাগে না। কিন্তু ঠান্ডা কিছু মুখে পুরতেই হঠাৎ কপাল বা মাথার রগ ঝিমঝিম করতে শুরু করে। কারও আবার মাইগ্রেনের মতো যন্ত্রণাও হয়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হয় পুরো মাথাটাই যেন ধীরে ধীরে জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের সমস্যাকে অনেকেই ‘ব্রেন ফ্রিজ়’ (Brain Freeze) বা ‘আইসক্রিম হেডেক’ (Ice Cream Headache) নামে চেনেন। কিন্তু ঠান্ডা কিছু খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথায় এমন যন্ত্রণা শুরু হয় কেন?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় ব্রেন ফ্রিজ়-এর নাম হলো ‘স্ফেনোপ্যালাটাইন গ্যাংলিওনিউরালজিয়া’ (Sphenopalatine Ganglioneuralgia)। হার্ভার্ড হেলথ (Harvard Health)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যখন খুব তাড়াহুড়ো করে কেউ কোনও ঠান্ডা জিনিস (যেমন: আইসক্রিম, কুচানো বরফ, কোল্ড ড্রিঙ্কস) খান, তখন মুখের ভিতর তালু (Roof of the Mouth) এবং গলার পিছনের অংশের তাপমাত্রা হুট করে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা নেমে যায়। এই তীব্র ঠান্ডার ঠেলা সামাল দিতে শরীরে এক ধরনের প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া (Chain Reaction) শুরু হয়।

ফলে মুখের তালুর ভিতরের রক্তনালি ঠান্ডার চোটে দ্রুত সঙ্কুচিত হয়ে যায়। মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ বজায় রাখতে ধমনিগুলো (Arteries) হঠাৎ দ্রুত প্রসারিত হয়। ধমনির এই হঠাৎ প্রসারণের ফলে মুখের ‘ট্রাইজেমিনাল নার্ভ’ (Trigeminal Nerve) উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। এই স্নায়ুটি মুখমণ্ডল থেকে মস্তিষ্কে ব্যথার অনুভূতি প্রেরণ করে। ঠিক তখনই যন্ত্রণা শুরু হয়।

সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কী?

  • জিভ উল্টে মুখের উপরের অংশ অর্থাৎ, তালুতে শক্ত করে চেপে ধরে রাখুন। শরীরের উত্তাপে তালু দ্রুত গরম হয়ে যাবে এবং ব্যথা কমবে।

  • জিভের বদলে পরিষ্কার বুড়ো আঙুল মুখের তালুতে চেপে ধরেও এই অংশটিকে দ্রুত গরম করা যায়।

  • হাতের কাছে যদি জল (স্বাভাবিক তাপমাত্রা) থাকে, তবে তা এক চুমুক খেয়ে নিতে পারেন।

  • আইসক্রিম বা বরফজাতীয় খাবার তাড়াহুড়ো করে না খেয়ে মুখে কিছুক্ষণ রেখে দিতে পারে। ধীরে ধীরে তা গলতে শুরু করবে। এই অবস্থায় আইসক্রিম খেলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

  • পছন্দের কোনও খাবার (যেমন: আইস পপসিকল বা আইসক্রিম) পেলে ছোটদের মধ্যে তাড়াতাড়ি খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তাই তাদের ব্রেন ফ্রিজ় হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

  • আগে থেকেই যাঁরা মাইগ্রেন (Migraine) বা হেডেক-এর সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের স্নায়ু বেশি স্পর্শকাতর হওয়ায় ঠান্ডা খাবারে ব্রেন ফ্রিজ়িং-এর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি।

FAQ

১. ব্রেন ফ্রিজ় কি মস্তিষ্কের কোনও ক্ষতি হয়?

– একদমই না। এটি সম্পূর্ণ সাময়িক এবং ক্ষতিকারকহীন একটি স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া। এর ফলে মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি হয় না।

২. শীতকালে কি ব্রেন ফ্রিজ বেশি হয়?

– না, ঋতুর ওপর এটি নির্ভর করে না। আপনি যখনই খুব দ্রুত ঠান্ডা কিছু খাবেন, তখনই মুখের তালুর তাপমাত্রা কমে ব্রেন ফ্রিজ হতে পারে।

৩. ব্রেন ফ্রিজের জন্য কি কোনো ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন আছে?

– কোনো ওষুধের প্রয়োজন নেই। কারণ এটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিজে থেকে ভালো হয়ে যায়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *