মহারাষ্ট্রে ডবল ইঞ্জিনের সাফল্যে যক্ষামুক্ত ১৩০০০ গ্রাম
মুম্বই: মহারাষ্ট্রে স্বাস্থ্যখাতে এক বড় সাফল্য এসেছে। (TB-free villages)রাজ্যের ১৩ হাজারেরও বেশি গ্রাম এখন যক্ষ্মামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আরও ১৩ হাজার ৫০০-র বেশি গ্রাম এই…
মুম্বই: মহারাষ্ট্রে স্বাস্থ্যখাতে এক বড় সাফল্য এসেছে। (TB-free villages)রাজ্যের ১৩ হাজারেরও বেশি গ্রাম এখন যক্ষ্মামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আরও ১৩ হাজার ৫০০-র বেশি গ্রাম এই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল এটি। ‘টিবি মুক্ত গাঁও – মেরা গাঁও, স্বাস্থ গাঁও’ অভিযানের অধীনে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।যক্ষ্মা বা টিবি এখনও ভারতের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা।
গ্রামীণ এলাকায় এর প্রভাব আরও বেশি। অপুষ্টি, ঘনবসতি, সচেতনতার অভাব এসব কারণে রোগটি ছড়ায়। মহারাষ্ট্র সরকার গ্রাম পর্যায়ে জরিপ চালিয়েছে। প্রায় ৩১ হাজার গ্রামে এই কাজ হয়েছে। (TB-free villages)সহজ জেলাভিত্তিক পদ্ধতির বদলে তৃণমূল স্তরে পরীক্ষা, সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে ৪১.৯ শতাংশ গ্রাম ইতিমধ্যে টিবি-মুক্ত হয়ে উঠেছে।
আরও দেখুনঃ তামিলনাড়ু বিধানসভায় ডিলিমিটেশনের বিরুদ্ধে ৫৪৩ আসন স্থির রাখার বিল পাস বিজয়ের
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিয়মিত স্ক্রিনিং, আধুনিক ডায়াগনস্টিক মেশিনের ব্যবহার এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। নিক্ষয় মিত্র নামের স্বেচ্ছাসেবীরা রোগীদের পাশে থেকেছেন। (TB-free villages)পুষ্টি সহায়তা, ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সব মিলিয়ে ফল এসেছে। অনেক গ্রামে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে রোগ সনাক্তকরণের হার বেড়েছে, চিকিৎসা সম্পূর্ণ করার হারও উন্নত হয়েছে।
উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এই অভিযানকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি গ্রাম পর্যায়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন। মহাযুতি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় স্বাস্থ্য অন্যতম। টিবি মুক্ত মহারাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে তারা এগোচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা দূরের গ্রামেও পৌঁছেছেন। অনেক সময় রাস্তাঘাট খারাপ, তবু তারা থেমে যাননি। এই নিষ্ঠার ফলেই আজ এই মাইলফলক ছোঁয়া গেছে।তবে কাজ এখনও শেষ হয়নি।
আরও দেখুনঃ ভারতের জমি দাবি, অথচ ২১০ বছরের পুরনো আসল চুক্তিই ‘নিখোঁজ’ নেপালে!
বাকি গ্রামগুলোতেও একই গতিতে এগোতে হবে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কিছু গ্রামকে আগে থেকেই চিহ্নিত করা হয়েছিল (TB-free villages)। সেখানে নিবিড় পরীক্ষা চলছে। নতুন রোগী পাওয়া গেলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হচ্ছে। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পরীক্ষা করা হচ্ছে যাতে রোগ না ছড়ায়।
এই অর্জন শুধু সংখ্যার খেলা নয়। এটি হাজার হাজার পরিবারের জীবন বদলে দিচ্ছে। যক্ষ্মায় আক্রান্ত একজন মানুষের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়ে, সামাজিক কলঙ্কও থাকে। গ্রাম টিবি-মুক্ত হলে সেই চাপ কমে। শিশুরা সুস্থ থাকে, কর্মক্ষম মানুষ কাজ করতে পারে। সামগ্রিকভাবে গ্রামের অর্থনীতিও উপকৃত হয়।