হাইড্রোজেনচালিত JCB Hydromax-এর বিশ্বরেকর্ড, ৬৫৪ কিমি গতিতে ছুটল
কলকাতা: হাইড্রোজেনচালিত জেসিবি হাইড্রোম্যাক্স (JCB Hydromax) প্রাথমিকভাবে নতুন এফআইএ বিশ্ব ল্যান্ড স্পিড রেকর্ড গড়েছে। আমেরিকার উটাহের বোনেভিল সল্ট ফ্ল্যাটসে গাড়িটি ঘণ্টায় গড়ে ৪০৬.৩২০ মাইল, অর্থাৎ…
কলকাতা: হাইড্রোজেনচালিত জেসিবি হাইড্রোম্যাক্স (JCB Hydromax) প্রাথমিকভাবে নতুন এফআইএ বিশ্ব ল্যান্ড স্পিড রেকর্ড গড়েছে। আমেরিকার উটাহের বোনেভিল সল্ট ফ্ল্যাটসে গাড়িটি ঘণ্টায় গড়ে ৪০৬.৩২০ মাইল, অর্থাৎ প্রায় ৬৫৩.৯ কিলোমিটার গতিতে ছুটেছে।
ব্রিটেনে তৈরি এই স্ট্রিমলাইনারটি চালিয়েছেন উইং কমান্ডার অ্যান্ডি গ্রিন ওবিই। এর আগে জেসিবির ডিজেলম্যাক্স চালিয়ে ডিজেলচালিত গাড়ির ল্যান্ড স্পিড রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। তবে হাইড্রোম্যাক্সের রেকর্ড এখনও চূড়ান্ত নয়। এফআইএর ল্যান্ড স্পিড রেকর্ডস কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাবে।
দুই দিকের দৌড়ে গড় গতি ৬৫৩.৯ কিমি
এফআইএর নিয়ম অনুযায়ী, একই এক ঘণ্টার মধ্যে বিপরীত দিকে দুটি দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। হাইড্রোম্যাক্স প্রথম দৌড়ে ঘণ্টায় ৪০০.৬২৩ মাইল, অর্থাৎ প্রায় ৬৪৪ কিমি গতি অর্জন করে। ফিরতি দৌড়ে গাড়িটির গতি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৪১২.১৩৫ মাইল, অর্থাৎ প্রায় ৬৬৩ কিমি প্রতি ঘণ্টা। দুই দিকের এক কিলোমিটার ফ্লাইং রান মিলিয়ে গড় গতি দাঁড়ায় ৪০৬.৩২০ মাইল বা ৬৫৩.৯ কিমি প্রতি ঘণ্টা।
রেকর্ডটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে ২০০৪ সালে বিএমডব্লিউ এইচ২আর-এর তৈরি হাইড্রোজেন ইন্টারনাল-কম্বাসশন রেকর্ডটি ভেঙে যাবে। সেই রেকর্ডের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮৫.৫ মাইল বা প্রায় ২৯৮ কিমি।
জেসিবির ডিজেলম্যাক্সের রেকর্ডও ভাঙল
নতুন হাইড্রোজেনচালিত গাড়িটি শুধু আগের হাইড্রোজেন রেকর্ডই ছাড়িয়ে যায়নি, জেসিবির নিজেদের ডিজেলচালিত রেকর্ডও ভেঙেছে। ২০০৬ সালে অ্যান্ডি গ্রিনের চালানো ডিজেলম্যাক্স বোনেভিলে ঘণ্টায় ৩৫০.০৯২ মাইল, অর্থাৎ প্রায় ৫৬৩ কিমি গতি তুলেছিল। হাইড্রোম্যাক্স সেই গতিকেও অনেকটাই ছাপিয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে এটি আগের ৩০৩ মাইল বা ৪৮৬ কিমি প্রতি ঘণ্টা হাইড্রোজেন ফুয়েল-সেল রেকর্ডেরও ওপরে উঠেছে।
ফুয়েল সেল নয়, হাইড্রোজেন দহন ইঞ্জিন
হাইড্রোম্যাক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এটি ফুয়েল-সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। বরং গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে হাইড্রোজেনচালিত ইন্টারনাল-কম্বাসশন ইঞ্জিন। দুটি প্রোডাকশন-ভিত্তিক হাইড্রোজেন ইঞ্জিন গাড়িটিকে শক্তি জোগায়। এগুলি জেসিবির নির্মাণ সরঞ্জামের জন্য তৈরি ইঞ্জিন প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। দুটি ইঞ্জিন মিলিয়ে প্রায় ১,৬০০ বিএইচপি শক্তি উৎপন্ন করে।
এই প্রযুক্তিতে চাপযুক্ত হাইড্রোজেনকে বাতাসের সঙ্গে দহন করানো হয়। অর্থাৎ ফুয়েল সেলের মতো হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে মোটর চালানো হয় না। জেসিবির দাবি অনুযায়ী, গাড়ির এক্সহস্ট থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় না। তবে হাইড্রোজেন কীভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে, তার উপর পুরো ব্যবস্থার পরিবেশগত প্রভাব নির্ভর করবে।
অ্যান্ডি গ্রিনের জন্য ফের রেকর্ডের মঞ্চ
হাই-স্পিড রেকর্ডের সঙ্গে অ্যান্ডি গ্রিনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯৭ সালে জেটচালিত থ্রাস্ট এসএসসি-তে ঘণ্টায় ৭৬৩.০৩৫ মাইল বা ১,২২৭ কিমি গতিতে ছুটে তিনি প্রথম এবং এখনও একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে স্থলযানে শব্দের গতি অতিক্রম করেছিলেন। ২০০৬ সালে জেসিবির ডিজেলম্যাক্সের রেকর্ড গড়ার সময়ও চালকের আসনে ছিলেন গ্রিন।
এফআইএ রেকর্ডের আগে হাইড্রোম্যাক্স বোনেভিল স্পিড উইকে ঘণ্টায় ৩৬৮.৩৪৭ মাইল বা প্রায় ৫৯৩ কিমি গতি তুলেছিল। সেই পারফরম্যান্সে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া টাইমিং অ্যাসোসিয়েশনের ব্লোন গ্যাস স্ট্রিমলাইনার শ্রেণিতে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। এই পরীক্ষামূলক দৌড়ই পরবর্তী এফআইএ বিশ্বরেকর্ডের প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে।