‘সমানাধিকার বিষয়টা…’, স্বামী সুরিয়াকে কেন আদর্শ সঙ্গী মনে করেন জ্যোতিকা?
দক্ষিণী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দম্পতি সুরিয়া (Suriya) এবং জ্যোতিকা (Jyotika)। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের দাম্পত্য। একে অপরকে ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বোঝাপড়ার অনন্য উদাহরণ জ্যোতিকা-সুরিয়ার জীবনকাহিনি। সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন জ্যোতিকা। সেখানে স্বামী সুরিয়াকে ‘অ্যাবসোলুট গ্রিন ফ্ল্যাগ’ (Absolute Green Flag) অর্থাৎ আদর্শ সঙ্গী বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে জ্যোতিকা জানান, একজন অভিনেতা হিসেবে সুরিয়ার সাফল্যের কথা প্রায় সকলেই জানেন। কিন্তু মানুষ ও স্বামী হিসেবেও তিনি অনন্য। অভিনেত্রীর কথায়, ‘ও একদম গ্রিন ফ্ল্যাগ। একজন পুরুষ ও স্বামী হিসেবে সুরিয়া অসাধারণ। ওর মাথায় সমতার ভাবনাটা খুব স্বাভাবিক ভাবেই আছে। আমার মনে হয় প্রত্যেকেরই ভিতর থেকে এটা আসা উচিত, লোকদেখানোর জন্য নয়। আমাদের বাড়িতে সমানাধিকার বিষয়টা অত্যন্ত স্বাভাবিক।’ মনোবিদরা বলছেন, পরিবারে কে রান্না করছেন, কে রোজগার করছেন, কে ঘরকন্না সামলাচ্ছেন কিংবা কে সন্তানদের মানুষ করছেন— সাধারণত এ সব দিয়েই সমতা মাপা হয়। কিন্তু এগুলো একেবারেই বাহ্যিক বিষয়। আসলে সমতা বা ইকুয়ালিটির এই ধারণাটা তৈরি হয় মানসিকতা থেকে।
মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পর্কের ‘সমতা’ বলতে কী বোঝায়?
-
মতামতের মূল্য: দু’জনেই নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে পারছেন কি না। একে অপরের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন কি না।
-
সিদ্ধান্ত গ্রহণ: পরিবারের ছোট-বড় সিদ্ধান্ত দু’জন মিলে নেওয়া।
-
স্বপ্নের প্রাধান্য: কেবল একজনের স্বপ্ন বা কেরিয়ারকে অগ্রাধিকার না দিয়ে দু’জনের লক্ষ্যকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া।
-
মানসিক নিরাপত্তা: অনুশোচনা ছাড়া নিজের ভুল স্বীকার করা এবং ভয় ছাড়া নিজের মানসিক দুর্বলতা প্রকাশ করার স্বাধীনতা থাকা।
মনস্তাত্ত্বিকরা মনে করেন, বাবা-মায়ের সম্পর্কের ধরন দেখেই সন্তানরা সম্পর্কের সংজ্ঞা শেখে। এ ক্ষেত্রে মুখে সমতার কথা না বলে বরং নিজেদের আচরণের দিকে নজর দেওয়া বেশি প্রয়োজন। ছোটরা বাবা-মাকে একে অপরের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে দেখছে, সেটাই তাদের মানসিক গঠনে বেশি প্রভাব ফেলে।