সিরিয়ার আদালতে মৃত্যুদণ্ড গৃহযুদ্ধে অভিযুক্ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের! - 24 Ghanta Bangla News
Home

সিরিয়ার আদালতে মৃত্যুদণ্ড গৃহযুদ্ধে অভিযুক্ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের!

Spread the love

দামেস্ক: দীর্ঘ ১৪ বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ, অসংখ্য মানুষের মৃত্যু এবং (Bashar al-Assad )মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত। দামেস্কের একটি…

দামেস্ক: দীর্ঘ ১৪ বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ, অসংখ্য মানুষের মৃত্যু এবং (Bashar al-Assad )মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত। দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত অনুপস্থিতিতে বা ‘ইন অ্যাবসেনশিয়া’ আসাদকে এই সাজা দিয়েছে। সিরিয়ার ইতিহাসে এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে তাঁর শাসনামলে সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে সরাসরি এই ধরনের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসাদকে একাধিক গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে। (Bashar al-Assad)অভিযোগের মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, বেআইনি আটক, পদ্ধতিগত নির্যাতন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সাধারণ নাগরিকদের উপর যে ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল, তার জন্য আসাদ সরকারকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত করে এসেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

আরও দেখুনঃ

আদালতের বিচারক আল-আরিয়ান জানিয়েছেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে বাশার আল-আসাদ ছিলেন এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের ‘সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী’। তাঁর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেই বিরোধীদের দমন এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছিল বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। ফলে শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নয়, শাসনব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়েও দায় বর্তায় বলে মনে করেছে আদালত।

তবে রায় ঘোষণার সময় আসাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। (Bashar al-Assad)২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁর দীর্ঘদিনের শাসনের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান। বর্তমানে মস্কোতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন তিনি। ফলে সিরিয়ার আদালতের পক্ষে তাঁকে সরাসরি হাজির করে বিচার করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে বিচার ও সাজা হয়েছে অনুপস্থিতিতে। এর ফলে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে ভবিষ্যতে আসাদকে সিরিয়ার হেফাজতে আনা প্রয়োজন হবে।

আরও দেখুনঃ

শুধু বাশার আল-আসাদই (Bashar al-Assad)নন, তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদকেও অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মাহেরও গৃহযুদ্ধের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ২০১১ সালে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূচনাপর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া দারা প্রদেশের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে তাঁর ক্ষেত্রে বিচার হয়েছে আদালতে উপস্থিত অবস্থায়।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। সময়ের সঙ্গে সেই সংঘাত ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, জঙ্গি সংগঠন এবং বিদেশি শক্তি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সংঘর্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হন এবং কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। যুদ্ধের সময়ে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার, নির্যাতন, বেআইনি আটক এবং সাধারণ মানুষের উপর হামলার মতো গুরুতর অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে।

আরও দেখুনঃ

২০২৪ সালের শেষদিকে বিদ্রোহীদের অগ্রগতির মুখে আসাদ সরকারের পতন ঘটে। এরপর তিনি সপরিবারে রাশিয়ায় চলে যান। সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুরনো শাসনামলের অপরাধের তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার আদালতে বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক রায় এল।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *