টেলিকম PLI-তে ৫২০০ কোটি বিনিয়োগ! বিক্রি ছাড়াল ১.১ লক্ষ কোটি
নয়াদিল্লি: দেশের টেলিকম এবং নেটওয়ার্কিং পণ্য উৎপাদন (Telecom)ক্ষেত্রে কেন্দ্রের প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ বা PLI প্রকল্প উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ দফতর বা DoT। সংসদের…
নয়াদিল্লি: দেশের টেলিকম এবং নেটওয়ার্কিং পণ্য উৎপাদন (Telecom)ক্ষেত্রে কেন্দ্রের প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ বা PLI প্রকল্প উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ দফতর বা DoT। সংসদের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ৫২০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ এসেছে। একইসঙ্গে দেশীয় উৎপাদন থেকে মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১.১ লক্ষ কোটি টাকা ছুঁয়েছে। এর মধ্যে ২৩,৫০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের পণ্য বিদেশে রফতানি হয়েছে।
টেলিকম (Telecom)ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং ভারতকে একটি শক্তিশালী ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই PLI প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। DoT-এর দেওয়া তথ্য বলছে, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর গত চার বছরে দেশের ১০টি রাজ্যে মোট ২২টি নতুন উৎপাদন ইউনিট গড়ে উঠেছে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩২,৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
আরও দেখুনঃ সামনেই ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, দেশবাসীকে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’র ডাক মোদীর!
টেলিকম ও নেটওয়ার্কিং পণ্যের জন্য চালু হওয়া এই PLI প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের মোট বরাদ্দ ১২,১৯৫ কোটি টাকা। এর আগে সংসদীয় কমিটির কাছে যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সেখানে প্রকল্পের অধীনে মোট বিক্রির পরিমাণ ১,০৩,৮৫৯ কোটি টাকা এবং রফতানির পরিমাণ ২১,৮৯৮ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। নতুন পরিসংখ্যানে সেই বিক্রি ও রফতানির পরিমাণ আরও বেড়েছে। ফলে প্রকল্পটি যে দেশীয় টেলিকম উৎপাদন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী করছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি PLI প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও প্রণোদনার টাকা ছাড়ার গতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংসদীয় কমিটি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে টেলিকম PLI প্রকল্পের জন্য প্রথমে ১,৯৬৫.৫ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিল।
পরে সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী সেই অর্থের পরিমাণ কমিয়ে ১,৯৪৪ কোটি টাকা করা হয়। DoT-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাস্তবে খরচ হয়েছে ১,৫৯৭.৯৩ কোটি টাকা। এর আগে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত খরচের পরিমাণ ছিল মাত্র ৭০০.৯৮ কোটি টাকা। ফলে প্রণোদনা বিতরণে ধীরগতির বিষয়টি নিয়ে কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
এই সমস্যার ব্যাখ্যায় DoT জানিয়েছে, সংস্থাগুলিকে অডিট করা আর্থিক বিবৃতির ভিত্তিতে প্রণোদনার দাবি জমা দিতে হয়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরের পরবর্তী বছরের ডিসেম্বর মাসে সেই নথি জমা পড়ে। ফলে বছরের শেষ দিকে এসে প্রণোদনার দাবির সংখ্যা একসঙ্গে বেড়ে যায় এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াও তখন বেশি হয়।
এই জটিলতা কমাতে ইতিমধ্যেই নিয়মে পরিবর্তন এনেছে টেলিযোগাযোগ দফতর। (Telecom)আগে বছরে একবার প্রণোদনার দাবি জানানো যেত, এখন থেকে সুবিধাভোগী সংস্থাগুলি প্রতি ত্রৈমাসিকে দাবি জমা দিতে পারবে। পাশাপাশি দাবি যাচাই ও অর্থ ছাড়ের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা SOP তৈরি করা হয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীরা তাঁদের দাবির অগ্রগতি এবং প্রণোদনা পাওয়ার অবস্থাও জানতে পারবেন।
আরও দেখুনঃ ঐতিহ্যে বদল! লালকেল্লায় জাতীয় সঙ্গীতের আগেই ‘বন্দে মাতরম্’
এর পাশাপাশি দেশের ৫জি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেও উদ্যোগ নিয়েছে DoT। Technology Development and Investment Promotion বা TDIP প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই ১০০টি 5G Use Case Lab তৈরি করা হয়েছে। এই ল্যাবগুলির মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে 5G প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।