দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদানে বড় বদল? ১০ লক্ষের কম বাজেটেই মিলবে সাহায্য
কলকাতা: বাংলায় দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদানের (Durga Puja Grant) নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন সরকারের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ১০ লক্ষ টাকার কম বাজেটের পুজো কমিটিগুলিই মূলত…
কলকাতা: বাংলায় দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদানের (Durga Puja Grant) নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন সরকারের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ১০ লক্ষ টাকার কম বাজেটের পুজো কমিটিগুলিই মূলত সরকারি আর্থিক সাহায্য পাওয়ার তালিকায় থাকতে পারে। ফলে রাজ্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ দুর্গাপুজো সরকারি সহায়তা পেতে পারে বলে সূত্রের খবর। রাজ্যে সরকারি ভাবে স্বীকৃত দুর্গাপুজোর সংখ্যা প্রায় ৪৩,০০০। এর মধ্যে কলকাতাতেই রয়েছে প্রায় ৩,০০০ পুজো।
ছোট পুজো কমিটিগুলিকে স্বস্তির বার্তা
কলকাতার পুজো কমিটিগুলির সংগঠন ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নবান্নে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী ইন্দ্রনীল খানও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেসব পুজো কমিটির বাজেট তুলনামূলকভাবে কম এবং যাদের সত্যিই আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন, তাদের সরকারি সাহায্য বন্ধ করা হবে না।
ফোরামের প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১০ লক্ষ টাকার কম বাজেটের পুজো কমিটিগুলির একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করতে পুলিশকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করবে সরকার। তবে এ বছর অনুদানের পরিমাণ কত হবে, তা এখনও জানানো হয়নি।
৭৫ শতাংশ পুজো পেতে পারে অনুদান
রাজ্যে প্রায় ৪৩,০০০ স্বীকৃত দুর্গাপুজো রয়েছে। সরকারের নতুন নীতির ফলে আনুমানিক ৭৫ শতাংশ পুজো কমিটি সরকারি আর্থিক সহায়তার আওতায় থাকতে পারে।
অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে বড় বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ পুজো কমিটি এবার সরকারি অনুদান থেকে বাদ পড়তে পারে। নতুন সরকারের এই অবস্থান ছোট পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। কারণ আগে সরকার সব পুলিশ-অনুমোদিত পুজো কমিটিকেই অনুদান দিত।
২০১৮ সালে শুরু হয়েছিল অনুদান
রাজ্যের দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়ে। প্রথম দিকে প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১০,০০০ টাকা করে দেওয়া হত। পরবর্তী সময়ে সেই অর্থের পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ে। ২০২৫ সালে অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১.১ লক্ষ টাকা। গত বছর পর্যন্ত পুলিশ-অনুমোদিত সমস্ত পুজো কমিটিই এই অনুদানের জন্য যোগ্য ছিল।
তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আগেই জানিয়েছিল, সমস্ত পুজো কমিটিকে একইভাবে অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা আর চালু রাখা হবে না। তার বদলে যেসব পুজো কমিটির সত্যিই আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন, তাদের চিহ্নিত করা হবে।
ছোট পুজোর জন্য অনুদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
অনেক ছোট পুজো কমিটির কাছে সরকারি অনুদান মোট বাজেটের একটি বড় অংশ। ফলে অনুদান বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পুজো আয়োজন করাই কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
যাদবপুর পশ্চিমমহলের পুজো কমিটির সদস্য সুভশ্রী বসু জানিয়েছেন, গত বছর তাঁদের পুজোর মোট বাজেট ছিল ১.৪ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অনুদান ছিল ১.১ লক্ষ টাকা। ফলে অনুদান না পেলে পুজো বন্ধ করে দিতে হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কালিকাপুরের ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন পুজো কমিটির সুবীর দত্তও ছোট পুজো কমিটিগুলিকে অনুদানের আওতায় রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন ও বিদ্যুৎ নিয়েও আশ্বাস
শুধু আর্থিক অনুদান নয়, দুর্গাপুজোর সময় বিজ্ঞাপন এবং বিদ্যুতের খরচ নিয়েও ফোরামের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মহালয়া থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার এলাকায় বাইরের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে পুজো কমিটিগুলি করমুক্ত সুবিধা পেতে থাকবে। এ ছাড়াও পুজোর দিনগুলিতে সিইএসসি-র কাছ থেকে ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করবে বলে পুজো উদ্যোক্তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বড় পুজোয় অনুদান বন্ধ হলেও অন্য সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে অনুদানের বাইরে রাখার সম্ভাবনা থাকলেও রাস্তা বা গুরুত্বপূর্ণ লেনে পুজোর অনুমতি-সহ আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ফোরামের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করার পর চলতি মাসের শেষ দিকে একটি বৈঠকে সরকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
এবারের দুর্গাপুজো অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে হওয়ার কথা। নতুন সরকারের আমলে এটাই হতে চলেছে প্রথম দুর্গাপুজো। ফলে সরকারি অনুদানের নতুন কাঠামো এবং বড় পুজো কমিটিগুলির ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান নিয়ে নজর থাকবে উদ্যোক্তা থেকে সাধারণ মানুষেরও।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের