সুচিত্রা নন, বাংলার এই সুন্দরীর এক ফোনেই কলকাতায় ছুটে এসেছিলেন ধর্মেন্দ্র! জানেন কেন? | Dharmendra dilip kumar bengali movie pari pronoti ghosh
সময়টা বিংশ শতাব্দীর ছয়ের দশক। বলিউডে তখন ধর্মেন্দ্রর জয়জয়কার। সুঠাম চেহারা আর ড্যাশিং লুকে পর্দা কাঁপানো এই ‘হ্যান্ডসাম হাঙ্ক’-কে নিজের ছবিতে নায়ক করার জন্য প্রযোজকেরা তাঁর বাড়ির সামনে লম্বা লাইন দিতেন। ঠিক সেই চরম ব্যস্ততার মাঝেই কলকাতার এক অভিনেত্রীর কাছ থেকে একটি ফোন পান ধর্মেন্দ্র, আর তাতেই বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে দ্রুত উড়ে আসেন কলকাতায়। নায়িকার এক কথায় রাজি হয়ে সই করেন বাংলা ছবিতে, যা পরবর্তীতে বক্স অফিসে ইতিহাস তৈরি করে। সেই ছবির সৌজন্যেই তিলোত্তমা তথা গোটা বাংলার প্রেমে পড়ে যান বলিউডের এই ‘হি-ম্যান’। তবে সেই সুদের আসল টান যাঁর জন্য ছিল, তিনি মহানায়িকা সুচিত্রা সেন নন; বরং টলিপাড়ার আরেক প্রখ্যাত ও সুন্দরী অভিনেত্রী।
ঘটনাটি ১৯৬৬ সালের। পরিচালক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় একটি বিশেষ বাংলা ছবি তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন, যার নাম দেওয়া হয় ‘পাড়ি’। কালজয়ী ছবি ‘হানাবাড়ি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রণতি ঘোষ ছিলেন এই ‘পাড়ি’ ছবির প্রযোজক। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তৎকালীন হিন্দি সিনেমার দুই কিংবদন্তি—দিলীপ কুমার এবং ধর্মেন্দ্রকে প্রথমবার একই সঙ্গে বাংলা সিনেমার পর্দায় নিয়ে আসবেন।
যেমন ভাবনা, তেমনই কাজ। মুম্বই গিয়ে প্রথমে দিলীপ কুমারকে এই প্রজেক্টের জন্য রাজি করান প্রণতি। এরপর তিনি দূরভাষে ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবির প্রস্তাব দেন। প্রখ্যাত বাংলা অভিনেত্রীর মুখ থেকে এমন অফার পেয়ে আর এক মুহূর্তও ভাবেননি ধর্মেন্দ্র। সঙ্গে সঙ্গেই সম্মতি জানান তিনি। এরপরই দিলীপ কুমার ও ধর্মেন্দ্র পাড়ি দেন কলকাতায় এবং শুরু হয় শুটিং। ছবিতে ধর্মেন্দ্র ও দিলীপ কুমারের পাশাপাশি মূল নারী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রণতি ঘোষ নিজেই।
মুক্তি পাওয়ার পর প্রেক্ষাগৃহে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল ‘পাড়ি’। দুই বলিউড মহাতারকার সাবলীল অভিনয় এবং চমৎকার কাহিনীর জোর ছবিটিকে বক্স অফিসে ‘সুপারহিট’ তকমা এনে দেয়। এই বাংলা ছবির বিপুল জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে তৈরি হয় এর হিন্দি রূপান্তর ‘আনোখা মিলন’।
তৎকালীন একটি প্রথম সারির বিনোদনমূলক পত্রিকা থেকে জানা যায়, এই বাংলা ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে ধর্মেন্দ্র বলেছিলেন—হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তুলনায় বাংলা চলচ্চিত্র জগতে প্রতিভাবান মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। ‘পাড়ি’-র এই দারুণ অভিজ্ঞতার পর তিনি বারবার বাংলা সিনেমায় কাজ করার তীব্র ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন।