শাঁখামুটি নিশ্চিহ্ন প্রায়, বাড়ছে কালাচ, গোখরো, পিছিয়ে নেই চন্দ্রবোড়াও
রাকিব ইকবাল, উলুবেড়িয়া
সংখ্যায় বাড়ছে কালাচ। অবশ্য শুধু কালাচ নয়, সংখ্যা বৃদ্ধির তালিকায় একেবারে শীর্ষ স্থান দখল করেছে চন্দ্রবোড়া। সেই সারণীতে সমান ভাবে রয়েছে কেউটে ও গোখরো। চিত্রটা হাওড়া গ্রামীণ এলাকার। বিষধরের দংশনে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। হালফিলে কালাচের দংশনে মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। কেন অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ছে এই বিগ ফোরের সংখ্যা?
সেখানেই উঠে আসছে সাপের স্বাভাবিক পরিবেশ হারানোর বিষয়টি ও প্রকৃতিতে তাদের বিভিন্ন প্রজাতির অস্তিত্বের সঙ্কট। বিশেষত শাঁখামুটি সাপের সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে। সেই কারণেই বাড়ছে কালাচ থেকে – চন্দ্রবোড়ার সংখ্যা। সর্প বিশারদদের কথায়, শাঁখামুটি সাপের খাদ্যশৃঙ্খলে রয়েছে কালাচ ও চন্দ্রবোড়ার মতো বিষধর সাপ। বিগত বেশ কয়েক বছরে হাওড়া গ্রামীণে আর সে ভাবে দেখা মেলে না শাঁখামুটির। ফল, সর্প জগতে এক প্রকার খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে চন্দ্রবোড়া ও কালাচ, কেউটেরা।
সর্প বিশারদ শুভেন্দু গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ধীরগতির সাপ শাঁখামুটি, যা খুব সহজেই মানুষের শিকার হয়ে যায়। আতঙ্ক থেকে এই সাপকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও, সাপ তাদের বাসস্থান হারিয়ে দিকভ্রান্ত। মানুষ ঢুকে পড়েছে সাপের বাসস্থানে। দ্রুত নগরায়ন, বন জঙ্গল কেটে ফেলার মতো কাজ নিরন্তর চলছে। বন জঙ্গল কেটে ফেলার কারণে সাপের প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমছে। ইঁদুর, টিকটিকি এবং ছোট প্রাণী বৃদ্ধি পাওয়ায়, কালাচ সাপ খাবারের টানে লোকালয়ে চলে আসছে।
মানুষ এখন কিছুটা সচেতন হওয়ায় এবং বন্যপ্রাণীপ্রেমী বা উদ্ধারকারীরা এগিয়ে আসায় সাপ কম মারা হচ্ছে, যা স্থানীয় ভাবে তাদের সংখ্যা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করছে। নিত্যদিন হাওড়া গ্রামীণের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরার মুগরি বা ফাঁদি জালে আটকে পড়া কালাচ সাপ উদ্ধার করছে বন দপ্তর ও পরিবেশকর্মীরা। বর্ষার এই সময়ে সাপের প্রজনন ও গতিবিধি বৃদ্ধি পায়, তাই এদের বেশি করে দেখা যায়। বিগত কয়েক বছরে বিগ ফোর তালিকার শীর্ষে থাকা তীব্র বিষধর কালাচ ভয় ধরাচ্ছে বাসিন্দাদের। কয়েক দিন আগে হাওড়া গ্রামীণের খালনায় কালাচের দংশনে মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
গত বছর হাওড়া গ্রামীণের জয়পুরে মা ও মেয়েকে কালাচ সাপ দংশন করে। দ্রুততার সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ায়, বাঁচানো সম্ভব হয় মা ও মেয়েকে। সাপের বিষ গবেষক ও ডায়ালিসিস প্রযুক্তিবিদ শুভেন্দু গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘সাপের কামড়ের পরে প্রতিটা মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। অযথা সময় নষ্ট মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই কামড়ের পর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে হবে। হাসপাতালে মেলে সাপে কামড়ানোর একমাত্র ওষুধ অ্যান্টিভেনম সিরাম, যা আমাদের চার ঘাতক সাপ গোখরো, কেউটে, কালাচ ও চন্দ্রবোড়া সবার কামড়ের উপরে কার্যকরী। সাপে কামড়ের মৃত্যু প্রতিরোধে চাই সচেতনতা। স্কুল, কলেজ বা পাড়া, সব জায়গাতেই সচেতন শিবির করা দরকার।’